শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ চালিয়ে গেলে আক্রমণাত্মক ভূমিকায় যাবে ইরান: রেজাঈ

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সাবেক কমান্ডার মোহসেন রেজাঈ সতর্ক করে বলেছেন, আগামী দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র যদি যুদ্ধ অব্যাহত রাখে, তাহলে ইরান প্রতিশোধমূলক প্রতিক্রিয়ার পর্যায় থেকে আক্রমণাত্মক পর্যায়ে প্রবেশ করবে।

শুক্রবার রাতে এক সাক্ষাৎকারে মেজর জেনারেল মোহসেন রেজাঈ বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প সমঝোতা স্মারক ছিঁড়ে ফেলবেন—এমন পূর্বাভাস সত্য হয়েছে। কারণ, এর আগেই ওয়াশিংটন প্রাথমিক পাঁচটি ধারাই কার্যত লঙ্ঘন করে ওই সমঝোতাকে অকার্যকর করে তুলেছিল।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম লঙ্ঘন ছিল লেবাননের যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করা এবং ইসরায়েলি বাহিনীর সেখান থেকে প্রত্যাহার নিশ্চিত না করা।

রেজাঈ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তত্ত্বাবধানের বাইরে অবৈধভাবে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের জন্য জাহাজগুলোকে উৎসাহিত ও পরিচালিত করে সমঝোতার দ্বিতীয় ধারা লঙ্ঘন করেছে।

তার মতে, এই আইন লঙ্ঘনের জবাবে ইরান সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। এরপর মার্কিন বাহিনী ইরানের উপকূল, বন্দর আব্বাস বিমানবন্দর, কেশম দ্বীপ এবং লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ স্থাপনায় সামরিক হামলা চালায়। এর মাধ্যমে পারস্পরিক সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান সংক্রান্ত সমঝোতার প্রথম ধারাটি সম্পূর্ণভাবে লঙ্ঘিত হয় বলে তিনি জানান।

রেজাঈ আরও বলেন, দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার না হওয়া, বৈধ ইরানি নৌপথ খোলা থাকা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালীতে অবৈধ পথ তৈরি করা, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান না দেখানো, ইরানের উপকূলে সামরিক আগ্রাসন চালানো এবং ইরানের সম্পদ মুক্ত না করা—এসবই যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা লঙ্ঘনের উদাহরণ বলে তিনি অভিযোগ করেন।

সূত্র: রয়টার্স, পার্সটুডে

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ চালিয়ে গেলে আক্রমণাত্মক ভূমিকায় যাবে ইরান: রেজাঈ

প্রকাশিত সময় : ০৫:২৯:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সাবেক কমান্ডার মোহসেন রেজাঈ সতর্ক করে বলেছেন, আগামী দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র যদি যুদ্ধ অব্যাহত রাখে, তাহলে ইরান প্রতিশোধমূলক প্রতিক্রিয়ার পর্যায় থেকে আক্রমণাত্মক পর্যায়ে প্রবেশ করবে।

শুক্রবার রাতে এক সাক্ষাৎকারে মেজর জেনারেল মোহসেন রেজাঈ বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প সমঝোতা স্মারক ছিঁড়ে ফেলবেন—এমন পূর্বাভাস সত্য হয়েছে। কারণ, এর আগেই ওয়াশিংটন প্রাথমিক পাঁচটি ধারাই কার্যত লঙ্ঘন করে ওই সমঝোতাকে অকার্যকর করে তুলেছিল।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম লঙ্ঘন ছিল লেবাননের যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করা এবং ইসরায়েলি বাহিনীর সেখান থেকে প্রত্যাহার নিশ্চিত না করা।

রেজাঈ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তত্ত্বাবধানের বাইরে অবৈধভাবে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের জন্য জাহাজগুলোকে উৎসাহিত ও পরিচালিত করে সমঝোতার দ্বিতীয় ধারা লঙ্ঘন করেছে।

তার মতে, এই আইন লঙ্ঘনের জবাবে ইরান সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। এরপর মার্কিন বাহিনী ইরানের উপকূল, বন্দর আব্বাস বিমানবন্দর, কেশম দ্বীপ এবং লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ স্থাপনায় সামরিক হামলা চালায়। এর মাধ্যমে পারস্পরিক সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান সংক্রান্ত সমঝোতার প্রথম ধারাটি সম্পূর্ণভাবে লঙ্ঘিত হয় বলে তিনি জানান।

রেজাঈ আরও বলেন, দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার না হওয়া, বৈধ ইরানি নৌপথ খোলা থাকা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালীতে অবৈধ পথ তৈরি করা, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান না দেখানো, ইরানের উপকূলে সামরিক আগ্রাসন চালানো এবং ইরানের সম্পদ মুক্ত না করা—এসবই যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা লঙ্ঘনের উদাহরণ বলে তিনি অভিযোগ করেন।

সূত্র: রয়টার্স, পার্সটুডে