মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লাইভে এসে কেঁদে ফেললেন জ্যোতিকা জ্যোতি

টিভি ও চলচ্চিত্র অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা বিতর্কের কেন্দ্রে ছিলেন একসময়। এবার ফেসবুক লাইভে এসে কান্নায় ভেঙে পড়ে নিজের বর্তমান অবস্থার কথা জানালেন তিনি। দাবি করেছেন, তিনি মানসিকভাবে ভীষণ বিপর্যস্ত, কাজ পাচ্ছেন না, নানা মহল থেকে পরিকল্পিতভাবে তাকে একঘরে করে রাখা হচ্ছে। এমনকি আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, ‘এই বাংলাদেশে জন্ম নিয়েই ভুল করেছি।’

আজ (সোমবার) সন্ধ্যায় ফেসবুক লাইভে এসে জ্যোতিকা বলেন, তিনি নিজেকে ‘হেল্পলেস’ অনুভব করছেন। তার ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে তাকে নিয়ে ট্রল, কটূক্তি ও ব্যক্তিগত আক্রমণ চলছে। শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই নয়, পেশাগত জীবনেও তিনি নানা ধরনের বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন।

অভিনেত্রীর দাবি, একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী তাকে পরিকল্পিতভাবে কাজ থেকে দূরে রাখছে। বিভিন্ন গ্রুপিংয়ের কারণে নতুন কোনো কাজ পাচ্ছেন না। ফলে একপ্রকার ঘরবন্দী জীবন কাটাতে হচ্ছে তাকে। তিনি বর্তমান সরকারের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেন, ‘এর একটা শেষ করেন প্লিজ।’

জ্যোতিকা জ্যোতির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। তিনি বহুল আলোচিত ‘আলো আসবেই’ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের অন্যতম সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সমর্থক শিল্পী হিসেবে পরিচিত থাকায় ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর তাকে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিকে ঘিরেও আলোচনায় এসেছিলেন জ্যোতিকা। সে সময় তিনি প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা বিভাগের পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, তাকে অফিসকক্ষে আটকে রাখা হয়েছে। পরে ফেসবুক লাইভে এসে ঘটনার নিজের বর্ণনা দেন তিনি।

সেই লাইভে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জ্যোতি বলেছিলেন, ‘চলমান পরিস্থিতির কারণে তাকে অফিসে যেতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল। তবুও চাকরির দায়িত্ববোধ থেকে তিনি অফিসে যান। সেখানে গিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ দেখতে পান। পরে মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা হলে তিনি পরিস্থিতি বিবেচনায় অফিস ছাড়ার পরামর্শ দেন।’

জ্যোতি জানান, নিজের কক্ষ থেকে ব্যক্তিগত জিনিসপত্র গুছিয়ে বের হওয়ার সময় তিনি বাইরে থাকা লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কেউ তার সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। সে অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘যে মুখগুলো আগে পরিচিত ছিল, সেগুলো সেদিন খুব অপরিচিত লাগছিল।’ কথাগুলো বলতে বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন অভিনেত্রী।

২০০৪ সালে একটি সুন্দরী প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শোবিজে যাত্রা শুরু করেন ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর জ্যোতিকা জ্যোতি। টেলিভিশন নাটকের পাশাপাশি তিনি অভিনয় করেছেন ‘আয়না’, ‘নন্দিত নরকে’, ‘জীবনঢুলি’, ‘অনিল বাগচীর একদিন’, ‘মায়া: দ্য লস্ট মাদার’, ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’ এবং কলকাতার ‘রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত’সহ বেশ কয়েকটি আলোচিত চলচ্চিত্রে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লাইভে এসে কেঁদে ফেললেন জ্যোতিকা জ্যোতি

প্রকাশিত সময় : ১১:২৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

টিভি ও চলচ্চিত্র অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা বিতর্কের কেন্দ্রে ছিলেন একসময়। এবার ফেসবুক লাইভে এসে কান্নায় ভেঙে পড়ে নিজের বর্তমান অবস্থার কথা জানালেন তিনি। দাবি করেছেন, তিনি মানসিকভাবে ভীষণ বিপর্যস্ত, কাজ পাচ্ছেন না, নানা মহল থেকে পরিকল্পিতভাবে তাকে একঘরে করে রাখা হচ্ছে। এমনকি আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, ‘এই বাংলাদেশে জন্ম নিয়েই ভুল করেছি।’

আজ (সোমবার) সন্ধ্যায় ফেসবুক লাইভে এসে জ্যোতিকা বলেন, তিনি নিজেকে ‘হেল্পলেস’ অনুভব করছেন। তার ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে তাকে নিয়ে ট্রল, কটূক্তি ও ব্যক্তিগত আক্রমণ চলছে। শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই নয়, পেশাগত জীবনেও তিনি নানা ধরনের বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন।

অভিনেত্রীর দাবি, একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী তাকে পরিকল্পিতভাবে কাজ থেকে দূরে রাখছে। বিভিন্ন গ্রুপিংয়ের কারণে নতুন কোনো কাজ পাচ্ছেন না। ফলে একপ্রকার ঘরবন্দী জীবন কাটাতে হচ্ছে তাকে। তিনি বর্তমান সরকারের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেন, ‘এর একটা শেষ করেন প্লিজ।’

জ্যোতিকা জ্যোতির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। তিনি বহুল আলোচিত ‘আলো আসবেই’ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের অন্যতম সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সমর্থক শিল্পী হিসেবে পরিচিত থাকায় ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর তাকে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিকে ঘিরেও আলোচনায় এসেছিলেন জ্যোতিকা। সে সময় তিনি প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা বিভাগের পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, তাকে অফিসকক্ষে আটকে রাখা হয়েছে। পরে ফেসবুক লাইভে এসে ঘটনার নিজের বর্ণনা দেন তিনি।

সেই লাইভে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জ্যোতি বলেছিলেন, ‘চলমান পরিস্থিতির কারণে তাকে অফিসে যেতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল। তবুও চাকরির দায়িত্ববোধ থেকে তিনি অফিসে যান। সেখানে গিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ দেখতে পান। পরে মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা হলে তিনি পরিস্থিতি বিবেচনায় অফিস ছাড়ার পরামর্শ দেন।’

জ্যোতি জানান, নিজের কক্ষ থেকে ব্যক্তিগত জিনিসপত্র গুছিয়ে বের হওয়ার সময় তিনি বাইরে থাকা লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কেউ তার সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। সে অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘যে মুখগুলো আগে পরিচিত ছিল, সেগুলো সেদিন খুব অপরিচিত লাগছিল।’ কথাগুলো বলতে বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন অভিনেত্রী।

২০০৪ সালে একটি সুন্দরী প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শোবিজে যাত্রা শুরু করেন ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর জ্যোতিকা জ্যোতি। টেলিভিশন নাটকের পাশাপাশি তিনি অভিনয় করেছেন ‘আয়না’, ‘নন্দিত নরকে’, ‘জীবনঢুলি’, ‘অনিল বাগচীর একদিন’, ‘মায়া: দ্য লস্ট মাদার’, ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’ এবং কলকাতার ‘রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত’সহ বেশ কয়েকটি আলোচিত চলচ্চিত্রে।