বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাকসুর ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকা ব্যয়ের হিসাব দেননি আম্মার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) তহবিল থেকে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার বিভিন্ন সময়ে ২৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন। এর মধ্যে ৫ লাখ ৪৯ হাজার টাকার ব্যয়ের বিল-ভাউচার জমা পড়লেও বাকি ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকার কোনো হিসাব এখনো দেওয়া হয়নি।

অর্থাৎ, জিএসের নামে উত্তোলন করা মোট অর্থের প্রায় ৭৭ শতাংশের ব্যয় নথিপত্রে এখনো দেখানো হয়নি। ফলে রাকসুর এই অর্থ কোন খাতে এবং কীভাবে ব্যয় হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

রাকসুর কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ের ব্যয়ের নথি বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। নথি অনুযায়ী, সাত দফায় জিএস সালাউদ্দিন আম্মার মোট ২৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা উত্তোলন করেন। এর মধ্যে ৫ লাখ ৪৯ হাজার টাকার বিল-ভাউচার জমা দিয়েছেন তিনি। তবে ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকার ব্যয়ের প্রমাণপত্র এখনো জমা দেওয়া হয়নি।

নথিতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ জানুয়ারি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে বুথ স্থাপনের জন্য ৩ লাখ ২ হাজার টাকা তোলা হয়। এরপর ২৭ জানুয়ারি রাকসু সদস্যদের জানুয়ারি মাসের বাজেট বাবদ উত্তোলন করা হয় ১৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। সর্বশেষ ১৩ এপ্রিল সদস্যদের দাপ্তরিক খরচের জন্য নেওয়া হয় আরও ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এই তিন দফায় উত্তোলন করা ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকার কোনো বিল-ভাউচার এখনো জমা হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, ভর্তি পরীক্ষার বুথ স্থাপনের জন্য নেওয়া অর্থের ক্ষেত্রে শুরুতে বাজেটে ভ্যাট যুক্ত করার বিষয়টি জানা ছিল না। এ কারণে প্রায় ৩ লাখ টাকার হিসাব সমন্বয় করে বিল প্রস্তুত করতে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে।

রাকসু সদস্যদের বাজেট বাবদ নেওয়া ১৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এর মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদকের হিসাব না পাওয়ায় ওই অংশের বিল জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে অন্য একটি অর্থের হিসাব জমা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

রাকসুর নিয়ম অনুযায়ী, কোনো কর্মসূচি বা দাপ্তরিক কার্যক্রমের জন্য তহবিল থেকে অর্থ উত্তোলনের পর ব্যয়ের বিল-ভাউচার জমা দিতে হয়। কিন্তু জিএসের নামে উত্তোলন করা ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকার নথি জমা না পড়ায় ওই অর্থের প্রকৃত ব্যয় এখনো পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি।

রাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেতাউর রহমান বলেন, কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরপরই বিল-ভাউচার জমা দেওয়া উচিত। রাকসুর কিছু বিল-ভাউচার এখনো জমা হয়নি এবং সংশ্লিষ্টদের নিয়ম মেনে সেগুলো জমা দিতে বলা হয়েছে।

রাকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, কোনো কর্মসূচি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিল-ভাউচারসহ আর্থিক হিসাব জমা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। প্রতিটি রাকসু অধিবেশনে এ বিষয়ে কোষাধ্যক্ষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তবে এখনো সব ভাউচার কেন জমা পড়েনি, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।

তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে বিল-ভাউচার জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক এবং রাকসুকেও একই আর্থিক নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

এদিকে রাকসুর বর্তমান পরিষদের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য তহবিল থেকে মোট ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকার ব্যয়ের বিল-ভাউচার এখনো জমা পড়েনি। এই বকেয়া হিসাবের মধ্যে সবচেয়ে বড় অঙ্কের অর্থই সালাউদ্দিন আম্মারের নামে উত্তোলন করা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

রাকসুর ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকা ব্যয়ের হিসাব দেননি আম্মার

প্রকাশিত সময় : ০৬:২৬:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) তহবিল থেকে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার বিভিন্ন সময়ে ২৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন। এর মধ্যে ৫ লাখ ৪৯ হাজার টাকার ব্যয়ের বিল-ভাউচার জমা পড়লেও বাকি ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকার কোনো হিসাব এখনো দেওয়া হয়নি।

অর্থাৎ, জিএসের নামে উত্তোলন করা মোট অর্থের প্রায় ৭৭ শতাংশের ব্যয় নথিপত্রে এখনো দেখানো হয়নি। ফলে রাকসুর এই অর্থ কোন খাতে এবং কীভাবে ব্যয় হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

রাকসুর কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ের ব্যয়ের নথি বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। নথি অনুযায়ী, সাত দফায় জিএস সালাউদ্দিন আম্মার মোট ২৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা উত্তোলন করেন। এর মধ্যে ৫ লাখ ৪৯ হাজার টাকার বিল-ভাউচার জমা দিয়েছেন তিনি। তবে ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকার ব্যয়ের প্রমাণপত্র এখনো জমা দেওয়া হয়নি।

নথিতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ জানুয়ারি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে বুথ স্থাপনের জন্য ৩ লাখ ২ হাজার টাকা তোলা হয়। এরপর ২৭ জানুয়ারি রাকসু সদস্যদের জানুয়ারি মাসের বাজেট বাবদ উত্তোলন করা হয় ১৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। সর্বশেষ ১৩ এপ্রিল সদস্যদের দাপ্তরিক খরচের জন্য নেওয়া হয় আরও ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এই তিন দফায় উত্তোলন করা ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকার কোনো বিল-ভাউচার এখনো জমা হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, ভর্তি পরীক্ষার বুথ স্থাপনের জন্য নেওয়া অর্থের ক্ষেত্রে শুরুতে বাজেটে ভ্যাট যুক্ত করার বিষয়টি জানা ছিল না। এ কারণে প্রায় ৩ লাখ টাকার হিসাব সমন্বয় করে বিল প্রস্তুত করতে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে।

রাকসু সদস্যদের বাজেট বাবদ নেওয়া ১৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এর মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদকের হিসাব না পাওয়ায় ওই অংশের বিল জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে অন্য একটি অর্থের হিসাব জমা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

রাকসুর নিয়ম অনুযায়ী, কোনো কর্মসূচি বা দাপ্তরিক কার্যক্রমের জন্য তহবিল থেকে অর্থ উত্তোলনের পর ব্যয়ের বিল-ভাউচার জমা দিতে হয়। কিন্তু জিএসের নামে উত্তোলন করা ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকার নথি জমা না পড়ায় ওই অর্থের প্রকৃত ব্যয় এখনো পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি।

রাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেতাউর রহমান বলেন, কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরপরই বিল-ভাউচার জমা দেওয়া উচিত। রাকসুর কিছু বিল-ভাউচার এখনো জমা হয়নি এবং সংশ্লিষ্টদের নিয়ম মেনে সেগুলো জমা দিতে বলা হয়েছে।

রাকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, কোনো কর্মসূচি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিল-ভাউচারসহ আর্থিক হিসাব জমা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। প্রতিটি রাকসু অধিবেশনে এ বিষয়ে কোষাধ্যক্ষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তবে এখনো সব ভাউচার কেন জমা পড়েনি, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।

তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে বিল-ভাউচার জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক এবং রাকসুকেও একই আর্থিক নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

এদিকে রাকসুর বর্তমান পরিষদের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য তহবিল থেকে মোট ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকার ব্যয়ের বিল-ভাউচার এখনো জমা পড়েনি। এই বকেয়া হিসাবের মধ্যে সবচেয়ে বড় অঙ্কের অর্থই সালাউদ্দিন আম্মারের নামে উত্তোলন করা।