সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অবরোধের মধ্যেই তেল বিক্রি করে ইরানের আয় ৭৫০ কোটি ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের কড়া অবরোধ সত্ত্বেও থেমে নেই ইরানের অর্থনীতির চাকা। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে জ্বালানি তেল বিক্রি করে ৭৫০ কোটি ডলার আয় করেছে ইরান। শনিবার ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

ইরান বলেছে, দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের মধ্যেও বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সক্ষম হয়েছে।

ইরানের জ্বালানি তেল মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে ফার্স জানিয়েছে, তেল বিক্রির ওই অর্থ দিয়ে জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারের বৈদেশিক মুদ্রায় করা ব্যয় মেটানো সম্ভব হবে।

এমন সময়ে এই হিসাব প্রকাশ করা হলো, যখন মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে ইরানের তেল রপ্তানি ও সমুদ্রপথে বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে।

বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে আছে হরমুজ প্রণালি। বৈশ্বিক জ্বালানি তেল পরিবহনের এক–পঞ্চমাংশই হয় এই জলপথ দিয়ে।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরান এই জলপথ কার্যত বন্ধ করে রেখেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রণালিটি খুলে দিয়ে সেখানে অবাধ জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে গত জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল।

ইরানের কর্মকর্তারা বলে আসছেন, ওয়াশিংটন সমঝোতা স্মারকের প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ না করা পর্যন্ত তেহরান পুরোপুরি হরমুজ প্রণালি খুলবে না। এসব প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ ছাড় এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা দেশটির অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘কেউ কেউ বলেন, নিষেধাজ্ঞার কোনো প্রভাবই নেই। তাদের কী বলব, সত্যিই আমি জানি না। আমরা যুদ্ধের মধ্যে আছি এবং যুদ্ধকালীন এই পরিস্থিতি আমাদের মেনে নিতে হবে।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

অবরোধের মধ্যেই তেল বিক্রি করে ইরানের আয় ৭৫০ কোটি ডলার

প্রকাশিত সময় : ১০:১৭:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের কড়া অবরোধ সত্ত্বেও থেমে নেই ইরানের অর্থনীতির চাকা। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে জ্বালানি তেল বিক্রি করে ৭৫০ কোটি ডলার আয় করেছে ইরান। শনিবার ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

ইরান বলেছে, দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের মধ্যেও বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সক্ষম হয়েছে।

ইরানের জ্বালানি তেল মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে ফার্স জানিয়েছে, তেল বিক্রির ওই অর্থ দিয়ে জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারের বৈদেশিক মুদ্রায় করা ব্যয় মেটানো সম্ভব হবে।

এমন সময়ে এই হিসাব প্রকাশ করা হলো, যখন মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে ইরানের তেল রপ্তানি ও সমুদ্রপথে বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে।

বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে আছে হরমুজ প্রণালি। বৈশ্বিক জ্বালানি তেল পরিবহনের এক–পঞ্চমাংশই হয় এই জলপথ দিয়ে।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরান এই জলপথ কার্যত বন্ধ করে রেখেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রণালিটি খুলে দিয়ে সেখানে অবাধ জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে গত জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল।

ইরানের কর্মকর্তারা বলে আসছেন, ওয়াশিংটন সমঝোতা স্মারকের প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ না করা পর্যন্ত তেহরান পুরোপুরি হরমুজ প্রণালি খুলবে না। এসব প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ ছাড় এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা দেশটির অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘কেউ কেউ বলেন, নিষেধাজ্ঞার কোনো প্রভাবই নেই। তাদের কী বলব, সত্যিই আমি জানি না। আমরা যুদ্ধের মধ্যে আছি এবং যুদ্ধকালীন এই পরিস্থিতি আমাদের মেনে নিতে হবে।’