নেপাল ও চীনের মধ্যবর্তী হিমালয় সীমান্তের যে জায়গাটিতে হড়পা বান সৃষ্টি হয়েছিল, ঠিক সেই জায়গাটিতে-ই আরেকটি হ্রদ সৃষ্টি হচ্ছে। আর এই হ্রদের উপচেপড়া পানি আরো একটি ভয়াবহ বন্যার কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এ তথ্য জানিয়েছে।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্যাটেলাইট চিত্র এবং প্রাথমিক মূল্যায়ন থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, নদীর উজানে তিব্বতে পানির প্রবাহ রুদ্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে একটি ক্রমবর্ধমান হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে যা ফেটে গিয়ে ভাটির দিকে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করতে পারে।

পানির প্রবাহ রুদ্ধ হয়ে সৃষ্টি হয়েছে হ্রদটির
চীনা সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি শুক্রবার জানিয়েছে, হ্রদের প্রতিবন্ধকটি নেপালের সাথে সীমান্ত পারাপারের স্থান জিরং বন্দর থেকে ১০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থিত। হ্রদটি ২ হাজার ৯৫০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত, যা জিরং বন্দর থেকে প্রায় এক হাজার মিটার উপরে।
হিমালয় অঞ্চলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী জলবায়ু বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বুধবারের হিমবাহ ধসের ফলে বেশ কয়েকটি ছোট জলাশয় তৈরি হয়েছে এবং অঞ্চলজুড়ে এখনো ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট-এর কিয়াংগং ঝাং বলেন, “২৬ আগস্টের বরফ-পাথরের ধসে আরেকটি বাঁধ-সদৃশ হ্রদ তৈরি হয়েছিল এবং এটি থেকে পানি বের হতে শুরু করেছে।”
কাঠমান্ডুভিত্তিক জলবায়ু গবেষণা সংস্থাটির জলবায়ু ও পরিবেশগত ঝুঁকি বিভাগের প্রধান ঝাং জানান, হ্রদটিতে কয়েক মিলিয়ন ঘনমিটার পানি রয়েছে। এটি একটি উপত্যকা অংশে অবস্থিত, যেখান থেকে ভাটির দিকে উচ্চতার পার্থক্য খুব কম।
ছয় শতাধিক মানুষ নিহত ও ১ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি নিখোঁজ হওয়ার পর নেপাল যখন এই বিপর্যয় থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, তখন আরেকটি দুর্যোগের আশঙ্কা উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
অস্ট্রিয়ার গ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-বিজ্ঞানী জ্যাকব স্টাইনার বলেন, “উচ্চ তাপমাত্রার কারণে এখনো প্রচুর হিমবাহ গলছে এবং বিভিন্ন স্থানে পানি জমছে, কারণ নদীর পথে প্রচুর ধ্বংসাবশেষ ও পাথর থাকাটা স্বাভাবিক।”
ঝাং এবং স্টাইনার উভয়েই জানিয়েছেন, এই সতর্কতাগুলোকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়া উচিত। কারণ অনেক উদ্ধারকারী নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে গিয়ে নিজেদেরকে চরম ঝুঁকিতে ফেলছেন। অবশ্য বুধবারের মতো বিধ্বংসী আকস্মিক বন্যা আবার ঘটার সম্ভাবনা কম।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম 






















