ইরানের লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌযান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তেহরান। সোমবার (৩১ আগস্ট) ভোরে ইরানের বিভিন্ন স্থান থেকে আঞ্চলিক একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অংশ হিসেবে এ হামলা চালানো হয়। এর আগে লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলার পর পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ইরান।
বার্তাসংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার ভোরে ইরানের বিভিন্ন স্থান থেকে একযোগে আঞ্চলিক বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। দেশটির প্রেস টিভি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে অবস্থানরত মার্কিন নৌযানগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। তবে হামলায় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সিরিকে কয়েকটি বিস্ফোরণের খবরও প্রচার করা হয়েছে। এসব বিস্ফোরণ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের চালানো হামলার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা ইব্রাহিম আজিজি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আরেকবার আমাদের দৃঢ়তা পরীক্ষা করুন, তাহলে আরও বড় মূল্য দিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পাল্টা জবাব আসছে; শুধু দৌড়ান!’ একই সঙ্গে আজিজি হুঁশিয়ারি দেন, যেকোনো পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র অপরাধ করলে তার জবাব দেওয়া হবে। তার ভাষায়, সেই জবাব হবে ‘ধ্বংসাত্মক, আরও যন্ত্রণাদায়ক এবং শিক্ষণীয়’ এবং এর মধ্য দিয়ে পরাজয়ের ধারাবাহিকতার অবসান ঘটবে।
লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলা
এর আগে রোববার (৩০ আগস্ট) ইরানের লারাক দ্বীপে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন এক কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে এ তথ্য জানিয়েছেন। জুলাইয়ের শেষের পর ইরানের ভূখণ্ডে এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম হামলা।
মার্কিন কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ওই দুটি ব্যবস্থা থেকে হরমুজ প্রণালিতে সমুদ্র-মাইন বহনকারী রকেট নিক্ষেপের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। এ কারণেই সেগুলোকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, মার্কিন হামলায় তাদের কয়েকজন যোদ্ধা ও বেসামরিক নাগরিক নিহত ও আহত হয়েছেন। হামলার জবাব দেওয়ার অঙ্গীকারও করেছে সংগঠনটি।
ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ড্রোন ব্যবহার করে লারাক দ্বীপে ওই হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে।
নতুন করে বাড়ছে উত্তেজনা
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় জুনে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি সমঝোতার কাঠামো তৈরি হলেও পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নতি হয়নি।
হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিয়ে বিরোধের জেরে জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র টানা দুই সপ্তাহ ইরানে বোমা হামলা চালায় এবং নৌ অবরোধও পুনর্বহাল করে। সর্বশেষ লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলার পর ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম 






















