শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুবাইয়ে ৭৩ বাংলাদেশির সম্পদ অনুসন্ধানে উদ্যোগ নিয়েছে দুদক

দুবাইয়ে অর্থপাচারের মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ৭৩ বাংলাদেশির বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সরকারের কাছে তথ্য চাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তালিকায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, সাবেক প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান এইচবিএম ইকবাল এবং সাবেক পদ্মা ব্যাংকের চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফাতের নামও রয়েছে।

এই তালিকার অন্যরা হলেন
আহসানুল করিম, আনজুমান আরা শহীদ, হুমায়রা সেলিম, জুরান চন্দ্র ভৌমিক, মো. রাব্বি খান, মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা, মোহাম্মদ অলিউর রহমান, এসএ খান ইখতেখারুজ্জামান, সৈয়দ ফাহিম আহমেদ, সৈয়দ হাসনাইন, সৈয়দ মাহমুদুল হক, সৈয়দ রুহুল হক, গোলাম মোহাম্মদ ভূঁইয়া, হাজী মোস্তফা ভূঁইয়া, মনোজ কান্তি পাল, মো. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, মো. মাহবুবুল হক সরকার, মো. সেলিম রেজা, মোহাম্মদ ইলিয়াস বজলুর রহমান, এসইউ আহমেদ, শেহতাজ মুনশি খান, একেএম ফজলুর রহমান, আবু ইউসুফ মো. আবদুল্লাহ, গুলজার আলম চৌধুরী, হাসান আশিক তাইমুর ইসলাম, হাসান রেজা মাহিদুল ইসলাম, খালেদ মাহমুদ, এম সাজ্জাদ আলম, মোহাম্মদ ইয়াসিন আলী, মোস্তফা আমির ফয়সাল, রিফাত আলী ভূঁইয়া, সালিমুল হক ঈসা/হাকিম মোহাম্মদ ঈসা, সৈয়দ একে আনোয়ারুজ্জামান/সৈয়দ কামরুজ্জামান, সৈয়দ সালমান মাসুদ, সৈয়দ সাইমুল হক, আবদুল হাই সরকার, আহমেদ সামির পাশা, ফাহমিদা শবনম চৈতি, মো. আবুল কালাম, ফাতেমা বেগম কামাল, মোহাম্মদ আল রুমান খান, মঈনুল হক সিদ্দিকী, মুনিয়া আওয়ান, সাদিক হোসাইন মো. শাকিল, আবদুল্লাহ মামুন মারুফ, মোহাম্মদ আরমান হোসাইন, মোহাম্মদ শওকত হোসাইন সিদ্দিকী, মোস্তফা জামাল নাসের, আহমেদ ইমরান চৌধুরী, বিল্লাল হোসাইন, এমএ হাসেম, মোহাম্মদ মইন উদ্দিন চৌধুরী, নাতাশা নূর মুমু, সৈয়দ মিজান মোহাম্মদ আবু হানিফ সিদ্দিকী, সায়েদা দুররাক সিন্ডা জারা, আহমেদ ইফফাল চৌধুরী, ফারহানা মোনেম, ফারজানা আনজুম খান, কেএইচ মশিউর রহমান, এমএ সালাম, মো. আলী হোসাইন, মোহাম্মদ ইমদাদুল হক ভরসা, মোহাম্মদ ইমরান, মোহাম্মদ রোহেন কবির, মঞ্জিলা মোরশেদ, মোহাম্মদ সানাউল্লাহ চৌধুরী, মোহাম্মদ সরফুল ইসলাম, সৈয়দ রফিকুল আলম এবং আনিসুজ্জামান চৌধুরী।

জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশনের (ইউএনসিএসি) আওতায় ইউএই সরকারের কাছে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলআর) পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে দুদক। এর মাধ্যমে সদস্য দেশগুলো দুর্নীতি ও আর্থিক অপরাধের তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি বিনিময় করে থাকে।

দুদক সূত্র জানায়, তদন্তাধীন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো—তারা দুবাইয়ের অভিজাত এলাকা দুবাই মেরিনা ও পাম জুমেইরাহতে ফ্ল্যাট ও বাড়ি কিনেছেন। তারা এর মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের গোল্ডেন ভিসাও পেয়েছেন।

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আক্তারুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ অনুযায়ী—দুবাইয়ে অর্থপাচারের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদের বিষয়ে তথ্য চেয়ে তদন্ত দল সম্প্রতি বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে চিঠি দিয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য সরকারি সংস্থার কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

দুদক এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর থেকে ৭৩ ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ করেছে।

দুদকের উপপরিচালক আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে এবং সহকারী পরিচালক আশিকুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ দলটি তদন্ত করছে।

তদন্তের অংশ হিসেবে দুদক নির্বাচন কমিশন, এনবিআর, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার নথি সংগ্রহ ও যাচাই করে। পরে ৭৩ জনকে অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য চিহ্নিত করা হয়।

তদন্ত চলমান থাকায় এসব ব্যক্তির পেশাগত পরিচয় প্রকাশ করেনি দুদক। ২০২৩ সালের ১৬ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া একটি নির্দেশনার প্রেক্ষিতে এই তদন্ত শুরু হয়। ওই নির্দেশনায় দুবাইয়ে ৪৫৯ বাংলাদেশির সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্ত করতে দুদক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছিল।

সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ডিফেন্স স্টাডিজ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ট্যাক্স অবজারভেটরির উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সাল পর্যন্ত দুবাইয়ে ৪৫৯ বাংলাদেশির মালিকানায় ৯৭২টি সম্পত্তি ছিল। এসব সম্পত্তির নথিভুক্ত মূল্য ছিল প্রায় ৩১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২২ সালের মে মাসে প্রকাশিত সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ডিফেন্স স্টাডিজের এক গবেষণায় সম্পত্তিগুলোর মূল্য প্রায় ৩১৫ মিলিয়ন ডলার বলে উল্লেখ করা হয়।

ওই গবেষণায় বলা হয়, এসব সম্পত্তির মধ্যে ৬৪টি দুবাই মেরিনায় এবং ১৯টি পাম জুমেইরাহতে অবস্থিত। এছাড়াও বাংলাদেশি নাগরিকদের মালিকানায় কমপক্ষে ১০০টি ভিলা এবং অন্তত ৫টি ভবনের তথ্যও পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চার বা পাঁচজন বাংলাদেশির সঙ্গে প্রায় ৪৪ মিলিয়ন ডলার মূল্যের সম্পত্তির সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে।

তথ্যসূত্র: ডেইলি স্টার

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

দুবাইয়ে ৭৩ বাংলাদেশির সম্পদ অনুসন্ধানে উদ্যোগ নিয়েছে দুদক

প্রকাশিত সময় : ০৬:০৩:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দুবাইয়ে অর্থপাচারের মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ৭৩ বাংলাদেশির বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সরকারের কাছে তথ্য চাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তালিকায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, সাবেক প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান এইচবিএম ইকবাল এবং সাবেক পদ্মা ব্যাংকের চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফাতের নামও রয়েছে।

এই তালিকার অন্যরা হলেন
আহসানুল করিম, আনজুমান আরা শহীদ, হুমায়রা সেলিম, জুরান চন্দ্র ভৌমিক, মো. রাব্বি খান, মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা, মোহাম্মদ অলিউর রহমান, এসএ খান ইখতেখারুজ্জামান, সৈয়দ ফাহিম আহমেদ, সৈয়দ হাসনাইন, সৈয়দ মাহমুদুল হক, সৈয়দ রুহুল হক, গোলাম মোহাম্মদ ভূঁইয়া, হাজী মোস্তফা ভূঁইয়া, মনোজ কান্তি পাল, মো. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, মো. মাহবুবুল হক সরকার, মো. সেলিম রেজা, মোহাম্মদ ইলিয়াস বজলুর রহমান, এসইউ আহমেদ, শেহতাজ মুনশি খান, একেএম ফজলুর রহমান, আবু ইউসুফ মো. আবদুল্লাহ, গুলজার আলম চৌধুরী, হাসান আশিক তাইমুর ইসলাম, হাসান রেজা মাহিদুল ইসলাম, খালেদ মাহমুদ, এম সাজ্জাদ আলম, মোহাম্মদ ইয়াসিন আলী, মোস্তফা আমির ফয়সাল, রিফাত আলী ভূঁইয়া, সালিমুল হক ঈসা/হাকিম মোহাম্মদ ঈসা, সৈয়দ একে আনোয়ারুজ্জামান/সৈয়দ কামরুজ্জামান, সৈয়দ সালমান মাসুদ, সৈয়দ সাইমুল হক, আবদুল হাই সরকার, আহমেদ সামির পাশা, ফাহমিদা শবনম চৈতি, মো. আবুল কালাম, ফাতেমা বেগম কামাল, মোহাম্মদ আল রুমান খান, মঈনুল হক সিদ্দিকী, মুনিয়া আওয়ান, সাদিক হোসাইন মো. শাকিল, আবদুল্লাহ মামুন মারুফ, মোহাম্মদ আরমান হোসাইন, মোহাম্মদ শওকত হোসাইন সিদ্দিকী, মোস্তফা জামাল নাসের, আহমেদ ইমরান চৌধুরী, বিল্লাল হোসাইন, এমএ হাসেম, মোহাম্মদ মইন উদ্দিন চৌধুরী, নাতাশা নূর মুমু, সৈয়দ মিজান মোহাম্মদ আবু হানিফ সিদ্দিকী, সায়েদা দুররাক সিন্ডা জারা, আহমেদ ইফফাল চৌধুরী, ফারহানা মোনেম, ফারজানা আনজুম খান, কেএইচ মশিউর রহমান, এমএ সালাম, মো. আলী হোসাইন, মোহাম্মদ ইমদাদুল হক ভরসা, মোহাম্মদ ইমরান, মোহাম্মদ রোহেন কবির, মঞ্জিলা মোরশেদ, মোহাম্মদ সানাউল্লাহ চৌধুরী, মোহাম্মদ সরফুল ইসলাম, সৈয়দ রফিকুল আলম এবং আনিসুজ্জামান চৌধুরী।

জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশনের (ইউএনসিএসি) আওতায় ইউএই সরকারের কাছে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলআর) পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে দুদক। এর মাধ্যমে সদস্য দেশগুলো দুর্নীতি ও আর্থিক অপরাধের তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি বিনিময় করে থাকে।

দুদক সূত্র জানায়, তদন্তাধীন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো—তারা দুবাইয়ের অভিজাত এলাকা দুবাই মেরিনা ও পাম জুমেইরাহতে ফ্ল্যাট ও বাড়ি কিনেছেন। তারা এর মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের গোল্ডেন ভিসাও পেয়েছেন।

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আক্তারুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ অনুযায়ী—দুবাইয়ে অর্থপাচারের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদের বিষয়ে তথ্য চেয়ে তদন্ত দল সম্প্রতি বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে চিঠি দিয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য সরকারি সংস্থার কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

দুদক এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর থেকে ৭৩ ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ করেছে।

দুদকের উপপরিচালক আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে এবং সহকারী পরিচালক আশিকুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ দলটি তদন্ত করছে।

তদন্তের অংশ হিসেবে দুদক নির্বাচন কমিশন, এনবিআর, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার নথি সংগ্রহ ও যাচাই করে। পরে ৭৩ জনকে অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য চিহ্নিত করা হয়।

তদন্ত চলমান থাকায় এসব ব্যক্তির পেশাগত পরিচয় প্রকাশ করেনি দুদক। ২০২৩ সালের ১৬ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া একটি নির্দেশনার প্রেক্ষিতে এই তদন্ত শুরু হয়। ওই নির্দেশনায় দুবাইয়ে ৪৫৯ বাংলাদেশির সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্ত করতে দুদক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছিল।

সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ডিফেন্স স্টাডিজ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ট্যাক্স অবজারভেটরির উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সাল পর্যন্ত দুবাইয়ে ৪৫৯ বাংলাদেশির মালিকানায় ৯৭২টি সম্পত্তি ছিল। এসব সম্পত্তির নথিভুক্ত মূল্য ছিল প্রায় ৩১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২২ সালের মে মাসে প্রকাশিত সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ডিফেন্স স্টাডিজের এক গবেষণায় সম্পত্তিগুলোর মূল্য প্রায় ৩১৫ মিলিয়ন ডলার বলে উল্লেখ করা হয়।

ওই গবেষণায় বলা হয়, এসব সম্পত্তির মধ্যে ৬৪টি দুবাই মেরিনায় এবং ১৯টি পাম জুমেইরাহতে অবস্থিত। এছাড়াও বাংলাদেশি নাগরিকদের মালিকানায় কমপক্ষে ১০০টি ভিলা এবং অন্তত ৫টি ভবনের তথ্যও পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চার বা পাঁচজন বাংলাদেশির সঙ্গে প্রায় ৪৪ মিলিয়ন ডলার মূল্যের সম্পত্তির সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে।

তথ্যসূত্র: ডেইলি স্টার