ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থার (এসবিইউ) সদর দফতরে রাশিয়ার একটি ড্রোন আঘাত হেনেছে। শুক্রবার দিনের বেলায় গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনটিতে সরাসরি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ১২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কিয়েভে টানা কয়েক দিন ধরে রুশ বাহিনীর আকাশ হামলার মধ্যেই এসবিইউর সদর দফতর লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হলো। সাড়ে চার বছরের সংঘাতে গুরুত্বপূর্ণ এই ভবনটি এর আগে এমন সরাসরি হামলার শিকার হয়নি।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, এসবিইউপ্রধান ওলেকসান্দ্র পোকলাদের কার্যালয় লক্ষ্য করেই ড্রোনটি ছোড়া হয়েছিল। তবে পরে নিরাপত্তা সংস্থাটি জানায়, পোকলাদ নিরাপদে আছেন এবং হামলায় তিনি আহত হননি।
হামলার পর জেলেনস্কি রাশিয়াকে ‘উপযুক্ত ও মোক্ষম জবাব’ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এ কাজে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী সহযোগিতা করবে বলেও জানান তিনি।
কিয়েভে টানা আট দিন ধরে রুশ বাহিনীর হামলা চলছে। শহরের কেন্দ্রের বিভিন্ন ভবনের পাশাপাশি শহরতলির গুদাম ও কারখানাও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। গত মাসে শুরু হওয়া প্রায় বিরতিহীন এসব হামলায় কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় অন্তত ৫৩ জন নিহত এবং ১৩৪ জন আহত হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এসবিইউর মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় দিনের বেলায় ড্রোনের সরাসরি আঘাত ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতাকে সামনে এনেছে। বিশেষ করে রুশ বাহিনীর দ্রুতগতির জেটচালিত ড্রোন মোকাবিলায় ইউক্রেনকে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
এসব ড্রোন ঘণ্টায় প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতিতে উড়তে পারে বলে জানা গেছে। ফলে প্রচলিত ভ্রাম্যমাণ ড্রোনবিধ্বংসী ব্যবস্থা দিয়ে এগুলো প্রতিহত করা কঠিন। এ ধরনের হামলা ঠেকাতে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা যুদ্ধবিমান প্রয়োজন হলেও ইউক্রেনে উভয়েরই সংকট রয়েছে।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের মধ্যেই রাশিয়ার এ হামলা প্রমাণ করে যে মস্কো প্রকৃতপক্ষে কূটনীতি চায় না।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সম্ভাব্য মস্কো ও কিয়েভ সফরের প্রেক্ষাপটে সিবিহার এ মন্তব্য সামনে এসেছে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম 






















