অভিযোগ অনুযায়ী, ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের উত্তরপত্রে মোবাইল নম্বর লিখে রেখেছিল আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজের এক পরীক্ষার্থী। খাতা মূল্যায়নের সময় নম্বরটি দেখতে পান পরীক্ষক সেকেন্দার আলী। পরে গত ১৪ আগস্ট সকালে ফোন করে ওই পরীক্ষার্থীকে নিজের বাসায় যেতে বলেন তিনি।
মেহেদীর ভাষ্য, ১৪ আগস্ট তিনি রুহুল আমিন নামের এক বন্ধুসহ আরও কয়েকজন পরীক্ষার্থীর সঙ্গে বিনোদপুর বাজারে যান। কিছুক্ষণ পর একটি মোটরসাইকেলে করে সেখানে আসেন ওই পরীক্ষক। এরপর তাদের নিজের বাড়িতে নিয়ে যান তিনি। সেখানে উত্তরপত্র বের করা হয়।
মেহেদীর দাবি, তার মোবাইল নম্বর লেখা উত্তরপত্রটি সহজেই পাওয়া গেলেও রুহুলের খাতা পাওয়া যায়নি। বাজারে অপেক্ষমাণ অন্য সহপাঠীদের উত্তরপত্রও পাওয়া যায়নি। কাজ শেষে পরীক্ষক তাদের আবার বিনোদপুরে পৌঁছে দেন।
মেহেদী আরও দাবি করেন, পরীক্ষক তার মোবাইল নিয়ে নিজের নম্বরটি মুছে দেন। পরে তিনি ওই পরীক্ষকের পরিচয়ও জানতে পারেন।
এদিকে পরীক্ষক যে মোটরসাইকেলে এসেছিলেন বলে পরীক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, সেটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর রাজশাহী-হ ১৫-২৪০৫। বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেলটির রেজিস্ট্রেশন সুজন কুমার বিশ্বাসের নামে। তিনি জানান, গাড়িটি অনেক আগেই বিক্রি করে দিয়েছেন। পরে মোটরসাইকেলটি কয়েকবার হাতবদল হয়ে বর্তমানে রফিকুল ইসলাম সেন্টুর কাছে রয়েছে। সেন্টু ওই প্রভাষকের আত্মীয় বলে জানা গেছে।
৫ সেপ্টেম্বর সেন্টুর বাড়ির সামনে মোটরসাইকেলটি পাওয়া যায়। স্থানীয় একজন ওই শিক্ষকের ছবি দেখে তাকে সেকেন্দার আলী হিসেবে শনাক্ত করেন।
হাজী জমির উদ্দীন সাফিনা মহিলা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এনামুল হক মণ্ডল বলেন, সেকেন্দার আলী দীর্ঘদিন ধরে এইচএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করেন। তবে তিনি এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত—এমন তথ্য তার জানা নেই। শিক্ষা বোর্ড থেকে কোনো ব্যবস্থা নিতে বলা হলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক : 
























