সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজ্যসভার উপনির্বাচনে বাংলা থেকে বিজেপি প্রার্থী কোয়েল মল্লিক

সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তৃণমূলের সংসদ সদস্যপদ ছেড়ে দেওয়া অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিককে রাজ্যসভার প্রার্থী করল বিজেপি। তৃণমূলত্যাগী অপর তিন জনকে আগেই রাজ্যসভায় পাঠিয়েছে পদ্মশিবির। কোয়েলের ক্ষেত্রেও যে তেমনটা হতে পারে, তা নিয়ে চলছিল নানা জল্পনা। রবিবার (৩ অক্টোবর) সেই গুঞ্জনেই সীলমোহর দিল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। কোয়েলের ছেড়ে দেওয়া আসনের উপনির্বাচনে তাকেই প্রার্থী করল বিজেপি। দিল্লির দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গে বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

রাজ্যের বিধানসভা ভোটে ধরাশায়ী হওয়ার পর পর ভাঙনপর্ব শুরু হয় তৃণমূলে। সেই ভাঙন পর্বের মাঝেই গত ১৬ জুলাই দিল্লিতে গিয়ে উপরাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণণের সঙ্গে দেখা করেন অভিনেত্রী তথা সংসদ সদস্য কোয়েল মল্লিক। তার কাছে নিজের ইস্তফাপত্র জমা দেন। আগামী ১৬ অক্টোবর, দুর্গাষষ্ঠীর দিন তার ছেড়ে দেওয়া ওই আসনে উপনির্বাচন হবে

কোয়েলের আগে  সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশচিক বরাইক তৃণমূলের সাংসদ রাজ্যসভায় সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন। পরে সেই তিন জনকেই আবার রাজ্যসভায় পাঠায় বিজেপি। তৃণমূলের সাংসদ পদ ছাড়ার পর গত ৯ জুলাই বিজেপিতে যোগ দেন সুখেন্দু, সুস্মিতা এবং প্রকাশ। যোগদানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিন জনকে রাজ্যসভার উপনির্বাচনের প্রার্থী করে বিজেপি।

গত ১৬ জুলাই, রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর পরই কোয়েল দেখা করেছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে। গুঞ্জনের সূত্রপাত হয়েছিল সেখান থেকেই। কারণ লোকসভায় তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ সদস্যরা ওই সময়ে একাধিকবার বৈঠকে বসেছিলেন ভূপেন্দ্রের বাড়িতে। পরে ওই ‘বিদ্রোহীরা’ যোগ দেন ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া’ বা এনসিপিআইতে এবং তারা এখন নিজেদের দাবি করেন, কেন্দ্রের শাসকজোট এনডিএ-র শরিক হিসেবে।

গত ফেব্রুয়ারিতে রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমার, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীর সঙ্গে রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে অভিনেত্রী কোয়েলের নামও ঘোষণা করেছিল পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন শাসকদল তৃণমূল। গত মার্চে রাজ্যসভার ভোট হয়। ৬ এপ্রিল সদস্য হিসেবে শপথ নেন কোয়েল। তবে কোনো অধিবেশনে যোগ দেওয়া হয়নি তার। বাদল অধিবেশন শুরুর আগে অর্থাৎ ১৬ জুলাই রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

রাজ্যসভার উপনির্বাচনে বাংলা থেকে বিজেপি প্রার্থী কোয়েল মল্লিক

প্রকাশিত সময় : ০৫:২৫:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তৃণমূলের সংসদ সদস্যপদ ছেড়ে দেওয়া অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিককে রাজ্যসভার প্রার্থী করল বিজেপি। তৃণমূলত্যাগী অপর তিন জনকে আগেই রাজ্যসভায় পাঠিয়েছে পদ্মশিবির। কোয়েলের ক্ষেত্রেও যে তেমনটা হতে পারে, তা নিয়ে চলছিল নানা জল্পনা। রবিবার (৩ অক্টোবর) সেই গুঞ্জনেই সীলমোহর দিল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। কোয়েলের ছেড়ে দেওয়া আসনের উপনির্বাচনে তাকেই প্রার্থী করল বিজেপি। দিল্লির দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গে বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

রাজ্যের বিধানসভা ভোটে ধরাশায়ী হওয়ার পর পর ভাঙনপর্ব শুরু হয় তৃণমূলে। সেই ভাঙন পর্বের মাঝেই গত ১৬ জুলাই দিল্লিতে গিয়ে উপরাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণণের সঙ্গে দেখা করেন অভিনেত্রী তথা সংসদ সদস্য কোয়েল মল্লিক। তার কাছে নিজের ইস্তফাপত্র জমা দেন। আগামী ১৬ অক্টোবর, দুর্গাষষ্ঠীর দিন তার ছেড়ে দেওয়া ওই আসনে উপনির্বাচন হবে

কোয়েলের আগে  সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশচিক বরাইক তৃণমূলের সাংসদ রাজ্যসভায় সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন। পরে সেই তিন জনকেই আবার রাজ্যসভায় পাঠায় বিজেপি। তৃণমূলের সাংসদ পদ ছাড়ার পর গত ৯ জুলাই বিজেপিতে যোগ দেন সুখেন্দু, সুস্মিতা এবং প্রকাশ। যোগদানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিন জনকে রাজ্যসভার উপনির্বাচনের প্রার্থী করে বিজেপি।

গত ১৬ জুলাই, রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর পরই কোয়েল দেখা করেছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে। গুঞ্জনের সূত্রপাত হয়েছিল সেখান থেকেই। কারণ লোকসভায় তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ সদস্যরা ওই সময়ে একাধিকবার বৈঠকে বসেছিলেন ভূপেন্দ্রের বাড়িতে। পরে ওই ‘বিদ্রোহীরা’ যোগ দেন ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া’ বা এনসিপিআইতে এবং তারা এখন নিজেদের দাবি করেন, কেন্দ্রের শাসকজোট এনডিএ-র শরিক হিসেবে।

গত ফেব্রুয়ারিতে রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমার, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীর সঙ্গে রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে অভিনেত্রী কোয়েলের নামও ঘোষণা করেছিল পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন শাসকদল তৃণমূল। গত মার্চে রাজ্যসভার ভোট হয়। ৬ এপ্রিল সদস্য হিসেবে শপথ নেন কোয়েল। তবে কোনো অধিবেশনে যোগ দেওয়া হয়নি তার। বাদল অধিবেশন শুরুর আগে অর্থাৎ ১৬ জুলাই রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি।