কোনো কিছুকে সত্যিকার অর্থে উপভোগ করার জন্য এমন এক মোহাচ্ছন্নতার প্রয়োজন হয়, যা মুহূর্তেই আটকে ফেলে মনোযোগ, বাড়িয়ে তোলে মনের তীব্র আগ্রহ। আর সেই কাঙ্ক্ষিত ভালো লাগা ছুঁয়ে দিতে হলে তো সাধারণের ভিড় পেরিয়ে করতে হয় সবার চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা কিছু।
ফুটবল ভুবন তো কম তারকার জন্ম দেয়নি; রোনালদিনহোর মতো জাদুকরেরাও তো ফুটবলকে নান্দনিকতায় রাঙাতে শিখিয়েছেন। কিন্তু যখন প্রশ্ন আসে খেলাটিকে তার চরম উৎকর্ষে ও নিখাদ আনন্দে অনুভব করার, তখন সবার ওপরে নাম আসে একজনারই। কারণ, ফুটবলকে সত্যিকার অর্থে কীভাবে উপভোগ করতে হয়, তা গোটা বিশ্বকে নতুন করে শিখিয়েছেন সেই লিওনেল মেসিই।
এমন তকমা হুট করেই আসল এমনটা না। মেসির সাবেক বার্সেলোনার সতীর্থ রোনালদিনহোও মিলিয়েছেন একই সুর।
বার্সেলোনার সোনালী দিনের শুরুর দিকে মেসির প্রতিভা খুব কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদিনহোর। মেসির আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভিষেকের আগে থেকেই তাদের একসঙ্গে পথচলা। ২০০৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০০৮ পর্যন্ত বার্সেলোনার হয়ে একসঙ্গে খেলেছেন প্রায় ৮০ ম্যাচে। আলাদা লাইন-আপে পরে মুখোমুখি হয়ে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার লড়াইয়েও।
সেই দিনগুলোতে একসঙ্গে মাঠ ভাগ করে নেওয়ার স্মৃতিচারণ করে মেসির বিদায়লগ্নে রোনালদিনহো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তায় লেখেন, ‘তুমি আমাদের এতটা হাসিয়েছ এবং ফুটবলকে এতটা উপভোগ করতে শিখিয়েছ! তোমার নাম লেখা রয়েছে তোমার দেশের এবং পুরো বিশ্বের ইতিহাসে… শৈশবের স্বপ্ন পূরণ করে, পুরো দেশের প্রতিনিধিত্ব করে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার যে আনন্দ, তা একমাত্র আমরাই জানি! তুমি তোমার জাতীয় দল ও দেশের জন্য নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছ… জীবনটা উপভোগ করো, ভাই। তোমার জন্য আজ ও সারাজীবন শুভকামনা রইল।’
নেইমারের চোখে মেসির সঙ্গে ইতিহাস গড়ার অবিস্মরণীয় পথচলা
মেসির এই বিদায়লগ্নে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন তার দীর্ঘদিনের ক্লাবসঙ্গী ও ঘনিষ্ট বন্ধু নেইমার জুনিয়রও। বার্সেলোনা থেকে পিএসজি, দুই ক্লাবের ড্রেসিংরুমে একসঙ্গে ২০৬টি ম্যাচ খেলেছেন এই দুই তারকা। লুইস সুয়ারেজকে সঙ্গে নিয়ে ফুটবল ইতিহাসে গড়ে তুলেছিলেন ভয়ংকর ‘এমএসএন’ আক্রমণভাগ, যা ক্লাব ফুটবলে এনে দিয়েছিল অসামান্য সাফল্য।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গতকাল রাতে মেসির বিদায়কে সামনে রেখে নেইমার লিখেছিলেন, ‘শুধু আর্জেন্টিনা নয়, ফুটবলের জন্য তুমি যা কিছু করেছ, তার জন্য পুরো বিশ্ব তোমাকে ধন্যবাদ জানায়। আমাকে ফুটবলকে আরও বেশি করে ভালোবাসতে শিখানোর জন্য ধন্যবাদ। তোমার বিরুদ্ধে খেলাটা যেমন সম্মানের ছিল, তোমার সঙ্গে পাশাপাশি খেলে ইতিহাস গড়াটা ছিল তার চেয়েও বেশি কিছু।’
বন্ধুত্বের সেই সোনালী দিনগুলোর কথা স্মরণ করে তিনি আরও যোগ করেন, ‘আজ তোমার দেশের, তোমার জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচ। আশা করি, প্রতিটি সেকেন্ড উপভোগ করবে। আজকের সব শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা যেন তোমাকে আনন্দ দেয়।’

ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 























