বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘যেতে চাই না, খুব মিস করবো’, বললেন মেসি

ঐতিহাসিক এস্তাদিও মনুমেন্তালে বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় দিয়ে বর্ণিল আন্তর্জাতিক ফুটবল অধ্যায়ের ইতি টানলেন লিওনেল মেসি। নিকোলাস ওতামেন্দি ও নিকো পাজের গোলের পর পেনাল্টি থেকে মেসির করা গোলটিতে মাঠের লড়াইয়ে জয় ঠিকই নিশ্চিত হয় আলবিসেলেস্তাদের; তবে সেই স্কোরলাইন ছাপিয়ে এদিন সবার সমস্ত আবেগ কেড়ে নেয় জাদুকরের বিদায়বেলাকার দৃশ্য।

ম্যাচ শেষের বাঁশির পরই মনুমেন্তালের বাতাসে বেজে ওঠে বিউগলের করুণ সুর, গ্যালারিতে নেমে আসে ভক্তদের কান্না-আবেগের রোল। রাতের আকাশজুড়ে লেজার লাইটের আলোয় ভেসে ওঠে তার অমর ১০ নম্বর জার্সি ও বিদায়ী বার্তা। আর মাঠের সেই আবেগঘন আবহে মাইক্রোফোন হাতে যখন চিরবিদায়ের মঞ্চে দাঁড়ান মেসি, তখন পুরো স্টেডিয়ামে নেমে আসে পিনপতন নীরবতা।

বিদায়ী বক্তব্যে সবার আগে নিজের বাবার কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন লিওনেল মেসি। ভাঙা গলায় তিনি বলেন, ‘আজকের এই রাতে সবার আগে যার কথা আমার মনে পড়ছে, তিনি আমার বাবা। আমি কেবল আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাতে পারি। দীর্ঘ ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই শার্টটির প্রতিনিধিত্ব করা আমার জন্য ছিল এক বিরাট গর্বের বিষয়। আমরা কখনও লড়াই থামাইনি, নিজেদের সর্বোচ্চটা উজাড় করে দেওয়া বন্ধ করিনি। আর্জেন্টিনার হয়ে খেলাটাই সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতি।’

জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ পথচলার স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে সতীর্থ ও সমর্থককুলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এই মহাতারকা। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আবারও বিশ্বকাপ জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলাম। আমরা বিশ্বকাপে নিজেদের সবকিছু ঢেলে দিয়েছিলাম। আমি আমার সকল সতীর্থকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তোমরা আমার সব স্বপ্ন সত্যি করেছ; বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা। আমি সব সময় বীর যোদ্ধাদের দিয়ে পরিবেষ্টিত ছিলাম। আমি এই পরিবেশটাকে খুব মিস করব।’

আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ ও জাতীয় দলের ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে মেসি সতীর্থ ও ভক্তদের উদ্দেশে যোগ করেন, ‘আমি জাতীয় দলের হয়ে খেলাটা মিস করব। এখন থেকে আমি মাঠের বাইরে অন্য পাশে থাকব। এই ছেলেদের এবং এরপরে যারা আসবে তাদের সবার জন্য শুভকামনা জানাব ও সমর্থন দিয়ে যাব। কঠিন সময় সামনে আসছে, আর সেই মুহূর্তগুলোতে আমাদের সবাইকে একসাথে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, কারণ কিছু মানুষ আছে যারা জাতীয় দলের ব্যর্থতা দেখতে চায়। মহৎ কিছু অর্জন করতে হলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ দল গড়ে তুলতে হবে।’

ভাষণের একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে নিজের ভেতরের না বলা বেদনা আর ধরে রাখতে পারেননি ফুটবলের বরপুত্র। রুদ্ধশ্বাসে ভারী কণ্ঠে মাঠের সঙ্গে অমর সম্পর্কের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমি এই জায়গা ছেড়ে যেতে চাই না। আমি এই মাঠ ছেড়ে যেতে চাই না। আমি আপনাদের সবাইকে ভালোবাসি, আর আপনাদের সবাইকে আমি খুব মিস করব। আমি একজন আর্জেন্টাইন হিসেবে গর্বিত। আমি নিজের স্বপ্নপূরণ করতে পেরে সত্যি গর্বিত।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

‘যেতে চাই না, খুব মিস করবো’, বললেন মেসি

প্রকাশিত সময় : ০৫:১১:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

ঐতিহাসিক এস্তাদিও মনুমেন্তালে বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় দিয়ে বর্ণিল আন্তর্জাতিক ফুটবল অধ্যায়ের ইতি টানলেন লিওনেল মেসি। নিকোলাস ওতামেন্দি ও নিকো পাজের গোলের পর পেনাল্টি থেকে মেসির করা গোলটিতে মাঠের লড়াইয়ে জয় ঠিকই নিশ্চিত হয় আলবিসেলেস্তাদের; তবে সেই স্কোরলাইন ছাপিয়ে এদিন সবার সমস্ত আবেগ কেড়ে নেয় জাদুকরের বিদায়বেলাকার দৃশ্য।

ম্যাচ শেষের বাঁশির পরই মনুমেন্তালের বাতাসে বেজে ওঠে বিউগলের করুণ সুর, গ্যালারিতে নেমে আসে ভক্তদের কান্না-আবেগের রোল। রাতের আকাশজুড়ে লেজার লাইটের আলোয় ভেসে ওঠে তার অমর ১০ নম্বর জার্সি ও বিদায়ী বার্তা। আর মাঠের সেই আবেগঘন আবহে মাইক্রোফোন হাতে যখন চিরবিদায়ের মঞ্চে দাঁড়ান মেসি, তখন পুরো স্টেডিয়ামে নেমে আসে পিনপতন নীরবতা।

বিদায়ী বক্তব্যে সবার আগে নিজের বাবার কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন লিওনেল মেসি। ভাঙা গলায় তিনি বলেন, ‘আজকের এই রাতে সবার আগে যার কথা আমার মনে পড়ছে, তিনি আমার বাবা। আমি কেবল আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাতে পারি। দীর্ঘ ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই শার্টটির প্রতিনিধিত্ব করা আমার জন্য ছিল এক বিরাট গর্বের বিষয়। আমরা কখনও লড়াই থামাইনি, নিজেদের সর্বোচ্চটা উজাড় করে দেওয়া বন্ধ করিনি। আর্জেন্টিনার হয়ে খেলাটাই সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতি।’

জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ পথচলার স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে সতীর্থ ও সমর্থককুলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এই মহাতারকা। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আবারও বিশ্বকাপ জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলাম। আমরা বিশ্বকাপে নিজেদের সবকিছু ঢেলে দিয়েছিলাম। আমি আমার সকল সতীর্থকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তোমরা আমার সব স্বপ্ন সত্যি করেছ; বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা। আমি সব সময় বীর যোদ্ধাদের দিয়ে পরিবেষ্টিত ছিলাম। আমি এই পরিবেশটাকে খুব মিস করব।’

আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ ও জাতীয় দলের ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে মেসি সতীর্থ ও ভক্তদের উদ্দেশে যোগ করেন, ‘আমি জাতীয় দলের হয়ে খেলাটা মিস করব। এখন থেকে আমি মাঠের বাইরে অন্য পাশে থাকব। এই ছেলেদের এবং এরপরে যারা আসবে তাদের সবার জন্য শুভকামনা জানাব ও সমর্থন দিয়ে যাব। কঠিন সময় সামনে আসছে, আর সেই মুহূর্তগুলোতে আমাদের সবাইকে একসাথে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, কারণ কিছু মানুষ আছে যারা জাতীয় দলের ব্যর্থতা দেখতে চায়। মহৎ কিছু অর্জন করতে হলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ দল গড়ে তুলতে হবে।’

ভাষণের একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে নিজের ভেতরের না বলা বেদনা আর ধরে রাখতে পারেননি ফুটবলের বরপুত্র। রুদ্ধশ্বাসে ভারী কণ্ঠে মাঠের সঙ্গে অমর সম্পর্কের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমি এই জায়গা ছেড়ে যেতে চাই না। আমি এই মাঠ ছেড়ে যেতে চাই না। আমি আপনাদের সবাইকে ভালোবাসি, আর আপনাদের সবাইকে আমি খুব মিস করব। আমি একজন আর্জেন্টাইন হিসেবে গর্বিত। আমি নিজের স্বপ্নপূরণ করতে পেরে সত্যি গর্বিত।’