বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদ্যুৎ খাতে লুটপাট করতেই দায়মুক্তি আইন করেছিল আ.লীগ: রিজভী

বিদ্যুৎ খাতে লুটপাটের সুযোগ তৈরি করতেই নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকার দায়মুক্তি আইন পাস করেছিল বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ খাতে অতীতের অনিয়ম ও লুটপাটের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। যেকোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় রাখতে হবে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও ক্যাব যুব সংসদ আয়োজিত ‘রাজশাহী সিটি করপোরেশন ও শৈলকুপা পৌরসভা এলাকায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্ভাব্যতা যাচাই ও লাইফলাইন গ্রাহক সমীক্ষা: ফলাফল ও বাস্তবায়ন’ শীর্ষক গণসংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, দেশে শতভাগ বিদ্যুতের কথা বলা হলেও প্রত্যন্ত অঞ্চল ও চরাঞ্চলের অনেক মানুষ এখনো বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। আবার অনেক দরিদ্র পরিবার বিদ্যুৎ ভাগাভাগি করে ব্যবহার করে। তাই শুধু বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ দিয়ে হতদরিদ্র মানুষের প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ করা কঠিন।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে দারিদ্র্য নিরূপণের ক্ষেত্রে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিতে হবে। এ বিষয়ে আয়োজকদের গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণার মাধ্যমে নতুন ধারণা ও প্রশ্ন উঠে আসা প্রয়োজন। কোনো পরিসংখ্যানকে চূড়ান্ত সত্য ধরে না নিয়ে তা যাচাই-বাছাই করা জরুরি।

ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের বড় সুযোগ রয়েছে। এ খাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও আগ্রহী। নিজেদের চাহিদা মেটানোর পর উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট চলছে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ছে। তবে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহসহ সংকট মোকাবিলায় উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই হতাশ হওয়ার কিছু নেই। দেশ এগিয়ে যাবে এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট কেটে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

রিজভী বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রতিটি খাত ও প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের প্রতিটি কাজের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি থাকতে হবে। কোনো খাতই জবাবদিহির বাইরে থাকতে পারে না।

ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম. শামসুল আলম, গবেষণার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বিদ্যুৎ খাতে লুটপাট করতেই দায়মুক্তি আইন করেছিল আ.লীগ: রিজভী

প্রকাশিত সময় : ০৫:০৪:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

বিদ্যুৎ খাতে লুটপাটের সুযোগ তৈরি করতেই নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকার দায়মুক্তি আইন পাস করেছিল বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ খাতে অতীতের অনিয়ম ও লুটপাটের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। যেকোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় রাখতে হবে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও ক্যাব যুব সংসদ আয়োজিত ‘রাজশাহী সিটি করপোরেশন ও শৈলকুপা পৌরসভা এলাকায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্ভাব্যতা যাচাই ও লাইফলাইন গ্রাহক সমীক্ষা: ফলাফল ও বাস্তবায়ন’ শীর্ষক গণসংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, দেশে শতভাগ বিদ্যুতের কথা বলা হলেও প্রত্যন্ত অঞ্চল ও চরাঞ্চলের অনেক মানুষ এখনো বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। আবার অনেক দরিদ্র পরিবার বিদ্যুৎ ভাগাভাগি করে ব্যবহার করে। তাই শুধু বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ দিয়ে হতদরিদ্র মানুষের প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ করা কঠিন।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে দারিদ্র্য নিরূপণের ক্ষেত্রে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিতে হবে। এ বিষয়ে আয়োজকদের গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণার মাধ্যমে নতুন ধারণা ও প্রশ্ন উঠে আসা প্রয়োজন। কোনো পরিসংখ্যানকে চূড়ান্ত সত্য ধরে না নিয়ে তা যাচাই-বাছাই করা জরুরি।

ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের বড় সুযোগ রয়েছে। এ খাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও আগ্রহী। নিজেদের চাহিদা মেটানোর পর উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট চলছে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ছে। তবে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহসহ সংকট মোকাবিলায় উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই হতাশ হওয়ার কিছু নেই। দেশ এগিয়ে যাবে এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট কেটে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

রিজভী বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রতিটি খাত ও প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের প্রতিটি কাজের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি থাকতে হবে। কোনো খাতই জবাবদিহির বাইরে থাকতে পারে না।

ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম. শামসুল আলম, গবেষণার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।