শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিথ্যা কসম করলে যে ভয়াবহ ক্ষতি হয়

মানুষের পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্থার ওপরই গড়ে ওঠে সামাজিক সম্পর্ক। কিন্তু সেই বিশ্বাসে মিথ্যার আশ্রয় নিলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ। বিশেষ করে নিজের কথা সত্য প্রমাণ করতে আল্লাহর নামে মিথ্যা কসম করা ইসলামে গুরুতর গুনাহ। এটি শুধু মানুষের সঙ্গে প্রতারণা নয়, বরং আল্লাহর নামের অপব্যবহারও।

ইসলামে মিথ্যা কসমকে কবিরা গুনাহ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) কবিরা গুনাহের মধ্যে আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা, মা-বাবার অবাধ্য হওয়া, মানুষ হত্যা করা এবং মিথ্যা কসম করার কথা উল্লেখ করেছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৮৭)

মিথ্যা কসমের অন্যতম বড় ক্ষতি হলো মানুষের মধ্যে বিশ্বাস নষ্ট হওয়া। ব্যবসায় পণ্যের গুণাগুণ সম্পর্কে মিথ্যা কসম করা, ঋণ পরিশোধের দায় এড়াতে আল্লাহর নামে মিথ্যা বলা কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া—এসবের মাধ্যমে অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর সঙ্গে কৃত অঙ্গীকারকে সামান্য মূল্যে বিক্রি করো না।’ (সুরা নাহল, আয়াত: ৯৫)

আল্লাহর নামে মিথ্যা কসম করে সাময়িকভাবে কেউ নিজের স্বার্থ উদ্ধার করতে পারে। কিন্তু এই সুবিধা কখনো প্রকৃত সফলতা বয়ে আনে না। বরং এমন আচরণ মানুষের নৈতিকতা ও চরিত্রকে দুর্বল করে এবং সমাজে অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি করে।

বিশেষ করে মিথ্যা কসম করে অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করা কিংবা কারও অধিকার নষ্ট করার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি মিথ্যা কসম করে কোনো মুসলমানের সম্পদ আত্মসাৎ করে, সে আল্লাহর সঙ্গে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে, আল্লাহ তার ওপর অসন্তুষ্ট থাকবেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৬৭৩)

তাই দুনিয়ার সামান্য স্বার্থ হাসিলের জন্য কখনো আল্লাহর নাম ব্যবহার করে মিথ্যা বলা উচিত নয়। মিথ্যা কসমের অভ্যাস থেকে বাঁচতে হলে কথা বলার ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে, অপ্রয়োজনে কসম করা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং ভুল হলে তা স্বীকার করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।

কেউ মিথ্যা কসম করে ফেললে তার উচিত আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে তওবা করা, ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার দৃঢ় সংকল্প নেওয়া এবং এর মাধ্যমে কারও অধিকার নষ্ট করে থাকলে তা ফিরিয়ে দেওয়া বা যথাযথভাবে ক্ষতিপূরণ করা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

মিথ্যা কসম করলে যে ভয়াবহ ক্ষতি হয়

প্রকাশিত সময় : ১১:০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

মানুষের পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্থার ওপরই গড়ে ওঠে সামাজিক সম্পর্ক। কিন্তু সেই বিশ্বাসে মিথ্যার আশ্রয় নিলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ। বিশেষ করে নিজের কথা সত্য প্রমাণ করতে আল্লাহর নামে মিথ্যা কসম করা ইসলামে গুরুতর গুনাহ। এটি শুধু মানুষের সঙ্গে প্রতারণা নয়, বরং আল্লাহর নামের অপব্যবহারও।

ইসলামে মিথ্যা কসমকে কবিরা গুনাহ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) কবিরা গুনাহের মধ্যে আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা, মা-বাবার অবাধ্য হওয়া, মানুষ হত্যা করা এবং মিথ্যা কসম করার কথা উল্লেখ করেছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৮৭)

মিথ্যা কসমের অন্যতম বড় ক্ষতি হলো মানুষের মধ্যে বিশ্বাস নষ্ট হওয়া। ব্যবসায় পণ্যের গুণাগুণ সম্পর্কে মিথ্যা কসম করা, ঋণ পরিশোধের দায় এড়াতে আল্লাহর নামে মিথ্যা বলা কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া—এসবের মাধ্যমে অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর সঙ্গে কৃত অঙ্গীকারকে সামান্য মূল্যে বিক্রি করো না।’ (সুরা নাহল, আয়াত: ৯৫)

আল্লাহর নামে মিথ্যা কসম করে সাময়িকভাবে কেউ নিজের স্বার্থ উদ্ধার করতে পারে। কিন্তু এই সুবিধা কখনো প্রকৃত সফলতা বয়ে আনে না। বরং এমন আচরণ মানুষের নৈতিকতা ও চরিত্রকে দুর্বল করে এবং সমাজে অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি করে।

বিশেষ করে মিথ্যা কসম করে অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করা কিংবা কারও অধিকার নষ্ট করার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি মিথ্যা কসম করে কোনো মুসলমানের সম্পদ আত্মসাৎ করে, সে আল্লাহর সঙ্গে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে, আল্লাহ তার ওপর অসন্তুষ্ট থাকবেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৬৭৩)

তাই দুনিয়ার সামান্য স্বার্থ হাসিলের জন্য কখনো আল্লাহর নাম ব্যবহার করে মিথ্যা বলা উচিত নয়। মিথ্যা কসমের অভ্যাস থেকে বাঁচতে হলে কথা বলার ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে, অপ্রয়োজনে কসম করা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং ভুল হলে তা স্বীকার করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।

কেউ মিথ্যা কসম করে ফেললে তার উচিত আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে তওবা করা, ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার দৃঢ় সংকল্প নেওয়া এবং এর মাধ্যমে কারও অধিকার নষ্ট করে থাকলে তা ফিরিয়ে দেওয়া বা যথাযথভাবে ক্ষতিপূরণ করা।