ভারতের দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা ও অন্ধ্রপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী পবন কল্যাণের সঙ্গে ঘর বেঁধেছিলেন অভিনেত্রী রেনু দেশাই। বিবাহবিচ্ছেদের ১৪ বছর পরও ‘পবন কল্যাণের সাবেক স্ত্রী’ পরিচয় থেকে বের হতে পারেননি এই অভিনেত্রী। এ নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা রেনু দেশাই। এই পরিস্থিতিকে ভগবান রামের বনবাসের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করেছেন। প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন—“আমার এই বনবাস কবে শেষ হবে?”
কয়েক দিন আগে ভিজ্যুয়াল টকস পডকাস্টে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন রেনু দেশাই। এ আলাপচারিতায় তিনি জানান, জনসাধারণের বড় একটি অংশ এখনো তাকে পবন কল্যাণের পরিচয়ের মাঝে সীমাবদ্ধ রেখেছেন। বিষয়টি এমন যে, পবন কল্যাণের সঙ্গে বিয়ের আগে কিংবা বিচ্ছেদের পর তার নিজের কোনো পরিচয় বা জীবন ছিল না।
এ বিষয়ে রেনু দেশাই বলেন, “তেলেগুদের কাছে আমার জীবন সম্পর্কে একটা কথা বলি—আমি যেন জন্মগ্রহণ করেছি ১৯৯৯ সালের জুনে, যখন ‘বদ্রি’ সিনেমার জন্য এখানে (হায়দরাবাদে) এসেছিলাম। এর আগে আমার কোনো জীবনই ছিল না! মানুষ আমাকে এভাবেই দেখেন। এর আগে বা পরে যা করেছি, তা কারো নজরেই পড়ে না।”

২০০০ সালে ‘বদ্রি’, ২০০৩ সালে ‘জনি’ সিনেমায় একসঙ্গে অভিনয় করেন পবন কল্যাণ ও রেনু দেশাই। পরবর্তীতে এ জুটির পর্দার প্রেম বাস্তব জীবনেও গড়ায়
ভগবান রামের বনবাসের প্রসঙ্গ টেনে রেনু দেশাই বলেন, “১৪ বছর হয়ে গেল। ভগবান রামও তো বনবাসে ছিলেন। তার বনবাসের মেয়াদ ছিল মাত্র ১৪ বছর। কিন্তু আমার এই বনবাস কবে শেষ হবে?”
২০১২ সালে পবন কল্যাণের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর রেনু দেশাই একের পর এক কাজ করেছেন। তা স্মরণ করে এই অভিনেত্রী বলেন, “২০১২ সালে আমাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে, তাই না? ২০১২ সালের পর আমি একটি মারাঠি সিনেমা প্রযোজনা করেছি, যা ছিল সুপারহিট। এরপর আরেকটি সিনেমার চিত্রনাট্য রচনা, পরিচালনা ও প্রযোজনা করেছি। একটি নাচের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছি, কবিতা লিখেছি। এখন সিনেমায় কাজ করছি। আমি যদি কেউ না-ই হই, তাহলে মানুষ আমাকে ডাকবে কেন?”
রেনু দেশাইয়ের অভিযোগ, পেশাগত কিংবা ব্যক্তিগত—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তার কোনো কাজ বা পদক্ষেপকে পবন কল্যাণের সঙ্গে সম্পর্কের নিরিখে বিচার করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে যেসব আক্রমণের মুখে পড়তে হয়, সেগুলো অনেক সময় অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ও ব্যক্তিগত পর্যায়ের। এমনকি, কেউ কেউ তাকে বলেন, “পবন কল্যাণ ছাড়া তার জীবনের কোনো মূল্য নেই।”

অভিনয়ের পাশাপাশি যেমন সিনেমা নির্মাণ করছেন, তেমনই কস্টিউম ডিজাইনার হিসেবেও বেশ কিছু চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন রেনু দেশাই
খানিকটা ব্যাখ্যা করে রেনু দেশাই বলেন, “মানুষ আমাকে গালিগালাজ করে। তারা বলে, ‘আমি একটা কুকুরকে বাঁচাব!’ তেলেগু ভাষায় এটাকে ‘অপচয়’ বলা হয়। তাদের কথা, ‘পবন কল্যাণ ছাড়া আমার বেঁচে থাকার কোনো কারণ নেই।”
বিবাহবিচ্ছেদের এক যুগের বেশি সময় পরও জনসমক্ষে একটি পুরোনো সম্পর্কের পরিচয়ে আটকে থাকা, পাশাপাশি নিজের পেশাগত জীবন, আবাসন ব্যবসা, সন্তানদের দায়িত্ব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত সমালোচনা—সব মিলিয়ে মানসিকভাবে বেশ চাপে রয়েছেন রেনু। তা জানিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, “আমার জীবনে অনেক সমস্যা, অনেক যন্ত্রণা রয়েছে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব পরিস্থিতি সামলে নেওয়ার অভ্যাসও তৈরি হয়েছে।”
১৯৯৭ সালে নন্দিনীকে প্রথম বিয়ে করেন পবন কল্যাণ। ২০০৭ সালে ভেঙে যায় এ সংসার। ২০০৯ সালে অভিনেত্রী রেণু দেশাইকে বিয়ে করেন পবন। ২০১২ সালে এ সংসারের ইতি টানেন পবন। পবন-রেণু দম্পতির একটি কন্যা ও একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। মূলত, ২০১১ সালে ‘টিন মার’ সিনেমার শুটিং সেটে রাশিয়ান মডেল-অভিনেত্রী আন্না লেজনেভারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান পবন। ২০১৩ সালে বিয়ে করেন তারা।

পুত্র-কন্যা ও প্রাক্তন স্ত্রী রেনু দেশাইয়ের সঙ্গে অভিনেতা পবন কল্যাণ। সংসারের ইতি টানলেও সন্তানের দেখভালে করেন এই তারকা রাজনীতিবিদ
পবন কল্যাণ তৃতীয়বার বিয়ে করলেও এখনো একা ৪৪ বছরের রেনু দেশাই। ২০১৯ সালে এই অভিনেত্রী জানিয়েছিলেন, নতুন করে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। শুধু তাই নয়, তাদের বাগদানও হয়েছে। খুব শিগগির বিয়ে করবেন। কার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে যাচ্ছেন তা জানাননি। কিন্তু পরবর্তীতে তা আর বাস্তবে রূপ নেয়নি।
বিবাহবিচ্ছেদের পর কেন বিয়ে করেননি তা অন্য একটি সাক্ষাৎকারে ব্যাখ্যা করে রেনু দেশাই বলেন, “সেই সময়ে বাচ্চাদের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন ছিল। তাদের সাহায্য প্রয়োজন ছিল। আপনি যখন বিয়ে করবেন, তখন আপনি আপনার স্বামীর সঙ্গে সময় কাটাবেন। এমন একটি পরিবেশ তৈরি হবে যে, বাচ্চারা একা হয়ে যাবে।”
তবে ২০২৩ সালে এক সাক্ষাৎকারে বিয়ে নিয়ে রেনু দেশাই বলেছিলেন, “সিঙ্গেল মাদার’ হিসেবে জীবনযাপন করা খুবই কঠিন। এমনকি, আমার পরিবারেরও এ বিষয়ে সমর্থন নেই। আমি আমার সন্তানদের একা বড় করছি। আমার শরীরও ভালো যাচ্ছে না। অবশ্যই খুব শিগগির বিয়ে করব, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এটি শতভাগ সত্য যে, আমি বিয়ে করব।” এরপর কেটে গেছে ৩ বছর। তবে রেনুর আর বিয়ের সানাই বাজেনি।

রেনু দেশাইয়ের কাছে তার দুই সন্তানই এখন গোটা পৃথিবী। সব সামলে চলচ্চিত্রেও কাজ করছেন। অদম্য হাতে সন্তান ও তার জীবন এগিয়ে নিলেও বিয়ে নিয়ে নতুন কোনো তথ্য জানাননি এই অভিনেত্রী
মডেলিংয়ের মাধ্যমে শোবিজ অঙ্গনে পা রাখেন রেনু দেশাই। ২০০০ সালে তেলেগু ভাষার ‘বদ্রি’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে তার। এতে পবন কল্যাণও অভিনয় করেন। একই বছর তামিল ভাষার ‘জেমস পানড়ু’ সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। ২০১৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ইশক ওয়ালা লাভ’ সিনেমাটি পরিচালনা ও প্রযোজনা করেন রেনু দেশাই। তার অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘টাইগার নাগেশ্বর রাও’। তেলেগু ভাষার এ সিনেমা ২০২৩ সালের ২০ অক্টোবর মুক্তি পায়।

রিপোর্টারের নাম 
























