সুরসম্রাজ্ঞীকে শেষ বিদায় জানাতে শিবাজি পার্কে উপস্থিত হয়েছেন বলিউড তারকা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। ইতিমধ্যেই শিবাজি পার্কে নিয়ে আসা হয়েছে লতা মঙ্গেশকরের মরদেহ। সেখানে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আসেন শাহরুখ খান।
রবিবার শিবাজি পার্কে সন্ধ্যার পর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে ভারতরত্ন লতা মঙ্গেশকরের। পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেতকৃত্য সম্পন্ন হবে সুরসম্রাজ্ঞীর। ইতিমধ্যেই সেখানে শুরু হয়েছে শেষকৃত্যের প্রস্তুতি। শেষকৃত্যে ‘মন্ত্রাগ্নি’ করবেন আটজন পুরোহিত। তিরিশ মিনিট ধরে চলবে এই মন্ত্রোচারণ। শিবাজি পার্কে সেসময় উপস্থিত থাকবেন মহারাষ্ট্রের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী। আগামীকাল ছুটি ঘোষণা করেছে মহারাষ্ট্র সরকার।
লতা মঙ্গেশকরের নিবাস প্রভু কুঞ্জ থেকে তাঁর মরদেহ ইতিমধ্যে নিয়ে যাওয়া হয়েছে শিবাজি পার্কে। সেখানেই পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। তাঁর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ গোটা ভারত। পুলিস ফোর্স ও ভারতীয় নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে শ্রদ্ধার্ঘ জানানো হবে লতা মঙ্গেশকরকে। সাদা ফুলে সাজানো গাড়ি ইতিমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছে প্রভু কুঞ্জে।
লতা মঙ্গেশকরের মৃত্যুতে শোকাহত গোটা উপমহাদেশ। শোকে বিহ্বল তারকারা। কিংবদন্তিকে নিয়ে কিছু ব্যক্তিগত স্মৃতি শেয়ার করলেন এ.আর.রহমান। সংগীত পরিচালনাকেই সবসময় বেশি গুরুত্ব দিতেন রহমান। কিন্তু একদিন লতা মঙ্গেশকরই তাঁকে পরামর্শ দেন, গান গাওয়ার। এদিন এ.আর.রহমান বলেন, ঐ দিনের পর থেকেই বদলে যায় তাঁর জীবন।
নতুন প্রজন্মের গায়িকাদের মধ্যে লতা মঙ্গেশকরের সবচেয়ে পছন্দের ছিলেন সংগীতশিল্পী শ্রেয়া ঘোষাল। সুরসম্রাজ্ঞীর মৃত্যুতে শোকাহত বিধ্বস্ত শ্রেয়া। টুইটে শ্রেয়া লেখেন, ‘সরস্বতী ঠাকুর যেতে যেতে মর্ত্যের সরস্বতীকে সঙ্গে নিয়ে গেলেন’।
সুরসম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকরকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তাঁর বাড়ি প্রভু কুঞ্জে পৌঁছলেন অমিতাভ বচ্চন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কন্যা শ্বেতা বচ্চন।
লতা মঙ্গেশকরের গানের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনে লতাকে কাছে থেকে দেখেছেন শর্মিলা ঠাকুর। এদিন লতার স্মৃতিচারণায় তিনি বলেন, ‘খুব ক্রিকেটের ভক্ত ছিলেন। ভালো ফটোগ্রাফার ছিলেন। ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফি ছিল ওঁর শখ। ওঁর পরিবার সেসব সমস্ত ছবির প্রদর্শনী করতে পারেন।’
‘তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। কয়েক শতাব্দীর কণ্ঠস্বর আমাদের ছেড়ে চলে গেছে। তাঁর কণ্ঠস্বর এখন স্বর্গে ধ্বনিত হবে!’ লতা মঙ্গেশকরকে শেষশ্রদ্ধা জানালেন অমিতাভ বচ্চন।
ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতাল থেকে লতা মঙ্গেশকরের বাড়ি প্রভু কঞ্জে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে ছুটে আসেন গীতিকার জাভেদ আখতার, পরিচালক মধুর ভান্ডারকর।
লতা মঙ্গেশকরের শেষ শ্রদ্ধা জানাতে হাসপাতালে আসেন সচিন তেন্ডুলকর। লতাদিদির কাছের মানুষ ছিলেন সচিন।
‘লতাজির মতো শিল্পী আর জন্মাবেন না।’ লতা মঙ্গেশকরের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ উস্তাদ রাশিদ খানের।
‘আমি গর্বিত যে আমি আর কল্যানজী লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে চার দশকেরও বেশি সময় একসঙ্গে গান বেঁধেছি। যেকোনও ভাষায় ওঁর অসম্ভব দক্ষতা ছিল’, লতা মঙ্গেশকরের মৃত্যুকে স্মৃতিচারণা করলেন বর্ষীয়ান সংগীতশিল্পী আনন্দজী।
লতা মঙ্গেশকরের চলে যাওয়া শুধু দেশ নয়, গোটা বিশ্বের কাছে বিরাট বড় ধাক্কা। মনে করেন সঙ্গীত শিল্পী কুমার শানু।
‘সাক্ষাত্ মা সরস্বতীকে কেড়ে নিল করোনা।’ লতা মঙ্গেশকরের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ সঙ্গীতশিল্পী হৈমন্তী শুক্লা।
কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী রবিবার সকালে টুইট করেছেন, লতা মঙ্গেশকর জির মৃত্যুর দুঃখজনক সংবাদ পেয়েছি, দশকের পর দশক ধরে দেশের সবচেয়ে প্রিয় কণ্ঠস্বর ছিলেন। তাঁর কণ্ঠ অমর এবং সবসময় তার ভক্তদের কানে বাজবে।
রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দও ভারতরত্ন লতা মঙ্গেশকরকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির তরফে টুইট করা হয়েছে, লতাজির মৃত্যু শুধু আমার জন্য নয়, লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য হৃদয় বিদারক। তাঁর গাওয়া বিভিন্ন গানে ভারতের একটি সুন্দর ছবি দেখা যায়, যা প্রজন্মের অনুভূতিকে সামনে তুলে ধরেছে। রাষ্ট্রপতি লিখেছেন লতা দিদি সঙ্গে দেখা করেছি, তিনি আমাকে উৎসাহের সঙ্গে স্বাগত জানিয়েছেন।
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে লতা মঙ্গেশকরের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন এবং প্রকাশ করেছেন যে তাঁর ‘হৃদয়ভঙ্গ’। এএনআই অনুসারে, মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় ঘোষণা করেছে যে লতা মঙ্গেশকরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে শেষকৃত্য করা হবে।
ভারতরত্ন লতা মঙ্গেশকরের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। টুইট বার্তায় তিনি লেখেন, ‘তাঁর চলে যাওয়া এমন এক শূন্যতা তৈরি করল, যা কখনওই পূরণ হওয়ার নয়। ভারতীয় সংস্কৃতির একজন কিংবদন্তি হিসেবেই লতা মঙ্গেশকরকে মনে রাখবে আগামী প্রজন্ম, যাঁর সুরেলা কণ্ঠ প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছে।’
সংগীত শিল্পী লতা মঙ্গেশকরের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি টুইটে লেখেন, “আমি ভারতের প্রয়াত আইকন, ভারতরত্ন লতা মঙ্গেশকরকে আমার হৃদয়গ্রাহী শ্রদ্ধা জানাই। তাঁর পরিবার এবং কোটি কোটি প্রশংসকদের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি ,যাদের তিনি সারা বিশ্বে রেখে গিয়েছেন। আমি ভারতের নাইটিঙ্গেলের মৃত্যুতে আমি গভীর দুঃখ প্রকাশ করছি। বিশ্বজুড়ে তাঁর সমস্ত ভক্ত এবং অনুগামীদের মতো আমিও তাঁর কণ্ঠস্বর এবং রেন্ডারিংয়ের মন্ত্রমুগ্ধ ছিলাম। আমি কৃতজ্ঞ বোধ করেছি যে তিনি বাংলা এবং পূর্ব ভারতের শিল্পীদের তাঁর হৃদয়ে রেখেছিলেন এবং দুর্দান্ত সংগীত জগতের অবিচ্ছেদ্য অংশ করেছিলেন।”

বিনোদন ডেস্ক/দৈনিক দেশ নিউজ ডটকম 























