মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধেয়ে আসছে সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় ‘আসানি’

চলতি মাসের শুরুতেই চোখ রাঙাচ্ছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আসানি। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, উড়িষা ও বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে এ ঘূর্ণিঝড়। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির নাম হবে ‘আসানি’। নামটি শ্রীলঙ্কার দেওয়া।

আন্দামান সাগর ও তার কাছাকাছি এলাকায় শুক্রবার একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। দুই দিন পর লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এই নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। ঘূর্ণঝড় মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার।

আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক বলেন, ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হলে তা ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ, উড়িষ্যা ও পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের দিকে আসতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশে প্রবেশ করলে কোন দিকে আঘাত হানতে পারে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে এখনও নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মো. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, বর্তমান তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী শক্তি অর্জন করে এটির ঘূর্ণিঝড় হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে যেসব ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে অনেকগুলো সুপার সাইক্লোনে রূপ নিয়েছিল। তবে এটাও সত্য যে, ঘূর্ণিঝড়গুলো উপকূলে আসতে আসতে অনেকটা দুর্বল হয়ে যায়। যেহেতু এখনো ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হয়নি, সেহেতু এর তীব্রতা এই মুহূর্তে বলার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, আগামী ১০ থেকে ১২ মে ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলে আঘাত হানতে পারে। তারপরও ঘূর্ণিঝড়টির দিক ও তার অগ্রসরমান গতির ওপর নির্ভর করবে কবে কোথায় এটি আঘাত হানবে।

কানাডার সাচকাচুন বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সম্ভব্য ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের পরিবর্তে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম-নোয়াখালী উপকূলে আঘাত হানার সম্ভাবনার কথা নির্দেশ করছে আমেরিকা ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের আবহাওয়া পূর্বাভাস মডেল। নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে ৭ মে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

ধেয়ে আসছে সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় ‘আসানি’

প্রকাশিত সময় : ০৮:১৬:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মে ২০২২

চলতি মাসের শুরুতেই চোখ রাঙাচ্ছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আসানি। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, উড়িষা ও বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে এ ঘূর্ণিঝড়। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির নাম হবে ‘আসানি’। নামটি শ্রীলঙ্কার দেওয়া।

আন্দামান সাগর ও তার কাছাকাছি এলাকায় শুক্রবার একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। দুই দিন পর লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এই নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। ঘূর্ণঝড় মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার।

আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক বলেন, ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হলে তা ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ, উড়িষ্যা ও পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের দিকে আসতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশে প্রবেশ করলে কোন দিকে আঘাত হানতে পারে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে এখনও নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মো. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, বর্তমান তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী শক্তি অর্জন করে এটির ঘূর্ণিঝড় হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে যেসব ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে অনেকগুলো সুপার সাইক্লোনে রূপ নিয়েছিল। তবে এটাও সত্য যে, ঘূর্ণিঝড়গুলো উপকূলে আসতে আসতে অনেকটা দুর্বল হয়ে যায়। যেহেতু এখনো ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হয়নি, সেহেতু এর তীব্রতা এই মুহূর্তে বলার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, আগামী ১০ থেকে ১২ মে ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলে আঘাত হানতে পারে। তারপরও ঘূর্ণিঝড়টির দিক ও তার অগ্রসরমান গতির ওপর নির্ভর করবে কবে কোথায় এটি আঘাত হানবে।

কানাডার সাচকাচুন বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সম্ভব্য ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের পরিবর্তে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম-নোয়াখালী উপকূলে আঘাত হানার সম্ভাবনার কথা নির্দেশ করছে আমেরিকা ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের আবহাওয়া পূর্বাভাস মডেল। নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে ৭ মে।