বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈদের দিন যা করবেন, যা করতে পারবেন না

ঈদ মুসলিম উম্মাহর জন্য আনন্দ, কৃতজ্ঞতা ও ইবাদতের এক মহিমান্বিত দিন। এক মাসব্যাপী রমজানের সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতর আসে মুমিনদের জন্য পুরস্কার ও খুশির বার্তা নিয়ে।

তবে ঈদ কেবল আনন্দ-উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ইসলামের দৃষ্টিতে এটি সুন্নত অনুসরণ, ইবাদত বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই দিনে যেমন কিছু করণীয় আমল রয়েছে, তেমনি কিছু বিষয় থেকে বিরত থাকারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঈদের দিনের করণীয়

ঈদের দিন সকালে গোসল করে পরিচ্ছন্ন হওয়া মুস্তাহাব। সাহাবায়ে কেরাম এ আমল করতেন। হাদিসে এসেছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগাহে যাওয়ার আগে গোসল করতেন।

এদিন উত্তম পোশাক পরিধান করাও সুন্নত। নতুন পোশাক হওয়া আবশ্যক নয়; বরং নিজের কাছে থাকা ভালো পোশাকই যথেষ্ট। সাহাবিরাও ঈদের দিন নিজেদের সেরা পোশাক পরতেন।

ঈদুল ফিতরের গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল হলো সদকাতুল ফিতর আদায় করা। যাদের কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ রয়েছে, তাদের ওপর এটি ওয়াজিব। হাদিসে বলা হয়েছে, ঈদের নামাজের আগে ফিতরা আদায় করাই উত্তম।

ঈদের দিন রোজা রাখা হারাম। তাই ঈদগাহে যাওয়ার আগে খেজুর বা মিষ্টি কিছু খাওয়া মুস্তাহাব। রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদুল ফিতরের দিন বেজোড় সংখ্যক খেজুর খেয়ে বের হতেন।

এছাড়া ঈদগাহে যাওয়ার পথে তাকবির পাঠ করা, এক পথে গিয়ে অন্য পথে ফিরে আসা এবং সম্ভব হলে পায়ে হেঁটে যাওয়া সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত।

ঈদের দিন পুরুষদের জন্য জামাতে দুই রাকাত ঈদের নামাজ আদায় করা ওয়াজিব। নবীজি (সা.) সাধারণত খোলা মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করতেন।

ঈদের দিনে একে অপরের সঙ্গে দোয়া ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের রীতি রয়েছে। সাহাবায়ে কেরাম বলতেন—‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম’, অর্থাৎ আল্লাহ আমাদের এবং আপনাদের আমল কবুল করুন।

এছাড়া এতিম, মিসকিন ও অসহায়দের খোঁজ নেওয়া, তাদের খাওয়ানো এবং আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে দেখা করা ইসলামে উৎসাহিত করা হয়েছে। পারস্পরিক মনোমালিন্য দূর করে সম্পর্ক সুদৃঢ় করাও এ দিনের গুরুত্বপূর্ণ দিক।

ঈদের দিনে বর্জনীয় বিষয়

ঈদুল ফিতরের দিনে রোজা রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। হাদিসে স্পষ্টভাবে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিনে রোজা রাখতে নিষেধ করা হয়েছে।

ঈদ উপলক্ষে বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুসরণ থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে খোলামেলা বা বেপর্দা পোশাক পরিধান করা থেকেও সতর্ক থাকতে হবে।

অপচয় ও অপব্যয় ইসলামে নিন্দনীয়। কোরআনে বলা হয়েছে, অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই।

এছাড়া মদপান, জুয়া খেলা বা আতশবাজি ফোটানোর মতো শরিয়তবিরোধী কাজ ঈদের আনন্দের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এগুলো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

সব মিলিয়ে, ঈদের দিনটি মুসলমানদের জন্য আনন্দ, কৃতজ্ঞতা ও ইবাদতের এক অনন্য সুযোগ। ইসলামের নির্দেশনা মেনে এ দিন উদযাপন করলে তা সত্যিকার অর্থেই কল্যাণ ও বরকতময় হয়ে ওঠে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ঈদের দিন যা করবেন, যা করতে পারবেন না

প্রকাশিত সময় : ১১:৪৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬
ঈদ মুসলিম উম্মাহর জন্য আনন্দ, কৃতজ্ঞতা ও ইবাদতের এক মহিমান্বিত দিন। এক মাসব্যাপী রমজানের সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতর আসে মুমিনদের জন্য পুরস্কার ও খুশির বার্তা নিয়ে।

তবে ঈদ কেবল আনন্দ-উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ইসলামের দৃষ্টিতে এটি সুন্নত অনুসরণ, ইবাদত বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই দিনে যেমন কিছু করণীয় আমল রয়েছে, তেমনি কিছু বিষয় থেকে বিরত থাকারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঈদের দিনের করণীয়

ঈদের দিন সকালে গোসল করে পরিচ্ছন্ন হওয়া মুস্তাহাব। সাহাবায়ে কেরাম এ আমল করতেন। হাদিসে এসেছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগাহে যাওয়ার আগে গোসল করতেন।

এদিন উত্তম পোশাক পরিধান করাও সুন্নত। নতুন পোশাক হওয়া আবশ্যক নয়; বরং নিজের কাছে থাকা ভালো পোশাকই যথেষ্ট। সাহাবিরাও ঈদের দিন নিজেদের সেরা পোশাক পরতেন।

ঈদুল ফিতরের গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল হলো সদকাতুল ফিতর আদায় করা। যাদের কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ রয়েছে, তাদের ওপর এটি ওয়াজিব। হাদিসে বলা হয়েছে, ঈদের নামাজের আগে ফিতরা আদায় করাই উত্তম।

ঈদের দিন রোজা রাখা হারাম। তাই ঈদগাহে যাওয়ার আগে খেজুর বা মিষ্টি কিছু খাওয়া মুস্তাহাব। রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদুল ফিতরের দিন বেজোড় সংখ্যক খেজুর খেয়ে বের হতেন।

এছাড়া ঈদগাহে যাওয়ার পথে তাকবির পাঠ করা, এক পথে গিয়ে অন্য পথে ফিরে আসা এবং সম্ভব হলে পায়ে হেঁটে যাওয়া সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত।

ঈদের দিন পুরুষদের জন্য জামাতে দুই রাকাত ঈদের নামাজ আদায় করা ওয়াজিব। নবীজি (সা.) সাধারণত খোলা মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করতেন।

ঈদের দিনে একে অপরের সঙ্গে দোয়া ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের রীতি রয়েছে। সাহাবায়ে কেরাম বলতেন—‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম’, অর্থাৎ আল্লাহ আমাদের এবং আপনাদের আমল কবুল করুন।

এছাড়া এতিম, মিসকিন ও অসহায়দের খোঁজ নেওয়া, তাদের খাওয়ানো এবং আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে দেখা করা ইসলামে উৎসাহিত করা হয়েছে। পারস্পরিক মনোমালিন্য দূর করে সম্পর্ক সুদৃঢ় করাও এ দিনের গুরুত্বপূর্ণ দিক।

ঈদের দিনে বর্জনীয় বিষয়

ঈদুল ফিতরের দিনে রোজা রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। হাদিসে স্পষ্টভাবে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিনে রোজা রাখতে নিষেধ করা হয়েছে।

ঈদ উপলক্ষে বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুসরণ থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে খোলামেলা বা বেপর্দা পোশাক পরিধান করা থেকেও সতর্ক থাকতে হবে।

অপচয় ও অপব্যয় ইসলামে নিন্দনীয়। কোরআনে বলা হয়েছে, অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই।

এছাড়া মদপান, জুয়া খেলা বা আতশবাজি ফোটানোর মতো শরিয়তবিরোধী কাজ ঈদের আনন্দের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এগুলো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

সব মিলিয়ে, ঈদের দিনটি মুসলমানদের জন্য আনন্দ, কৃতজ্ঞতা ও ইবাদতের এক অনন্য সুযোগ। ইসলামের নির্দেশনা মেনে এ দিন উদযাপন করলে তা সত্যিকার অর্থেই কল্যাণ ও বরকতময় হয়ে ওঠে।