চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা এলাকায় মেঘনা নদী-তে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে দুটি যাত্রীবাহী লঞ্চ আটকা পড়েছে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং লঞ্চে থাকা শতাধিক যাত্রীকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নৌ-পুলিশ।
রোববার সন্ধ্যার পর হঠাৎ দমকা হাওয়া ও বজ্রপাতসহ বৈরী আবহাওয়ার সৃষ্টি হলে নদীপথে চলাচলরত লঞ্চগুলো ঝুঁকির মুখে পড়ে। এর মধ্যে চাঁদপুর-নারায়ণগঞ্জ রুটের এমভি সাথী ও এমভি সমতা নামে দুটি লঞ্চ ঝড়ের তাণ্ডবে চরাঞ্চলে আটকা পড়ে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেল ৪টার দিকে চাঁদপুর থেকে ছেড়ে আসা এমভি সাথী লঞ্চটি অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে বাহাদুরপুর চরের কাছে পৌঁছালে ঝড়ের কবলে পড়ে। প্রবল বাতাসে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লঞ্চটির পাখায় কারেন্ট জাল জড়িয়ে গেলে চালক বাধ্য হয়ে লঞ্চটি চরে ভেড়ান। পরে যাত্রীরা স্থানীয় ট্রলারের মাধ্যমে নিরাপদে তীরে পৌঁছান।
অন্যদিকে, বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে ষাটনল লঞ্চঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া এমভি সমতা লঞ্চটি শতাধিক যাত্রী নিয়ে ঝড়ের মুখে পড়ে ষাটনল ও শোল্লানী চরসংলগ্ন এলাকায় আটকা পড়ে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে লঞ্চটি আর এগোতে পারেনি।
ষাটনল লঞ্চঘাটের ইজারাদার দবির উদ্দিন জানান, ঝড়ের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে চালক সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও লঞ্চ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি। যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে লঞ্চটি চর এলাকায় আশ্রয় নেয়।
মোহনপুর লঞ্চঘাটের ইজারাদার বোরহান উদ্দিন বলেন, আকস্মিক ঝড়ে নদীপথে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে।
এমভি সমতা লঞ্চে থাকা সাংবাদিক গোলাম নবী খোকন জানান, ঝড় শুরু হলে দমকা হাওয়া ও ঢেউয়ে লঞ্চ দুলতে থাকে এবং যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। তবে চালকের দক্ষতায় লঞ্চটি নিরাপদ স্থানে নেওয়া সম্ভব হয়।
মোহনপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ আলী বলেন, এমভি সাথী ও এমভি সমতা লঞ্চের সব যাত্রীই নিরাপদে রয়েছেন। এছাড়া আল বোরাক নামে আরেকটি লঞ্চ মুন্সিগঞ্জের চর আব্দুল্লাহপুর এলাকায় আটকা পড়েছে, যা তাদের কার্যক্রমের বাইরে।

ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 























