সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক-এর ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। দিনটি উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে এই মহান নেতার অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে বলেন, শেরেবাংলা ছিলেন বাংলার অবহেলিত কৃষক সমাজের প্রকৃত বন্ধু। তিনি সর্বপ্রথম উপলব্ধি করেন যে, অবিভক্ত বাংলার রাজনীতি কৃষিনির্ভর অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তাঁর দূরদর্শিতা ও অন্তর্দৃষ্টির মাধ্যমে কৃষকদের স্বার্থ রাজনৈতিক কাঠামোয় প্রতিষ্ঠা পায়।

১৯৩৭ সালে অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ফজলুল হক কৃষক-শ্রমিকবান্ধব নীতি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। প্রশাসনকে সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য করার পাশাপাশি তিনি শিক্ষার প্রসারেও বিশেষ অবদান রাখেন, যার ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের পথ সুগম হয়।

১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এই বরেণ্য নেতা। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর, যুক্তফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী এবং কলকাতা সিটি করপোরেশনের প্রথম মুসলিম মেয়রসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনেও তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। ১৯৪০ সালে তিনি ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন, যা উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।

১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক। শিক্ষানুরাগী ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে তিনি আজও ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত সময় : ১১:৪৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক-এর ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। দিনটি উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে এই মহান নেতার অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে বলেন, শেরেবাংলা ছিলেন বাংলার অবহেলিত কৃষক সমাজের প্রকৃত বন্ধু। তিনি সর্বপ্রথম উপলব্ধি করেন যে, অবিভক্ত বাংলার রাজনীতি কৃষিনির্ভর অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তাঁর দূরদর্শিতা ও অন্তর্দৃষ্টির মাধ্যমে কৃষকদের স্বার্থ রাজনৈতিক কাঠামোয় প্রতিষ্ঠা পায়।

১৯৩৭ সালে অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ফজলুল হক কৃষক-শ্রমিকবান্ধব নীতি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। প্রশাসনকে সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য করার পাশাপাশি তিনি শিক্ষার প্রসারেও বিশেষ অবদান রাখেন, যার ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের পথ সুগম হয়।

১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এই বরেণ্য নেতা। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর, যুক্তফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী এবং কলকাতা সিটি করপোরেশনের প্রথম মুসলিম মেয়রসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনেও তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। ১৯৪০ সালে তিনি ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন, যা উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।

১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক। শিক্ষানুরাগী ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে তিনি আজও ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।