সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিমোকে হারিয়ে শোকাহত নাট্যাঙ্গন

নাট্যকর্মী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে নাট্যাঙ্গনজুড়ে। সহপাঠী, শিক্ষক, সহকর্মী ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষজন তার এমন বিদায়ে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। রোববার (২৬ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে রাজধানীর বাড্ডার বাসা থেকে মিমোর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে বাড্ডা থানা পুলিশ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক আশিক রেহমান লিওন জানান, ময়নাতদন্ত শেষে এটি আত্মহত্যা বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। পরে মরদেহ তার জন্মস্থান মাদারীপুরে নেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠীরাও মরদেহের সঙ্গে যান।

ঘটনার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ আনুষ্ঠানিক শোকবার্তা প্রকাশ করে। বিভাগের চেয়ারম্যান কাজী তামান্না হক সিগমা স্বাক্ষরিত ওই বার্তায় বলা হয়, মেধাবী শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিনের আকস্মিক মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে গভীর শোক নেমে এসেছে।

বার্তায় আরো বলা হয়, তিনি ছিলেন প্রাণোচ্ছল ও বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের একজন শিক্ষার্থী। তার এমন মৃত্যুতে বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা স্তম্ভিত। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করা হয়েছে।

মৃত্যুর কিছুদিন আগেই নাট্যদল তীরন্দাজ রেপার্টরির ‘শুভঙ্কর হাত ধরতে চেয়েছিল’ নাটকের প্রযোজনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন মিমো।

নাট্যদলের কর্ণধার ও শিল্পকলা একাডেমির চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক দীপক সুমন বলেন, ‘ওর মতো শক্ত মেয়ে আমি কখনো দেখিনি। এত অল্প সময়ে এত দক্ষতার সঙ্গে নাটকটি দাঁড় করিয়েছিল। আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না।’

অভিনেত্রী দিলরুবা দোয়েল সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, ‘একটা ফোন করাই যেত বাবু। আমরা সবাই কমবেশি মানসিক চাপে আছি, দিন দিন একা হয়ে যাচ্ছি।’

নাট্যকর্মী মহসিনা আক্তার লিখেছেন, ‘আহারে মিমো।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও নাট্যকর্মী সামিনা লুৎফা লেখেন, ‘অবিশ্বাস্য! সেদিনও কথা হলো। সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’

নাট্যকর্মী নাদিরা আনজুম মিমি লেখেন, ‘মিমো, এইভাবে চলে গেলি কেন আপু! সব কিছুর একটা সমাধান থাকে… বিশ্বাস হচ্ছে না, একদমই বিশ্বাস হচ্ছে না।’

জানা গেছে, মৃত্যুর আগে একটি চিরকুট রেখে গিয়েছিলেন মিমো। সেখানে তার এক শিক্ষক ও এক সহপাঠীর নাম উল্লেখ ছিল।

এদিকে মিমোর বাবা আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

মিমোকে হারিয়ে শোকাহত নাট্যাঙ্গন

প্রকাশিত সময় : ১১:৫১:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
নাট্যকর্মী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে নাট্যাঙ্গনজুড়ে। সহপাঠী, শিক্ষক, সহকর্মী ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষজন তার এমন বিদায়ে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। রোববার (২৬ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে রাজধানীর বাড্ডার বাসা থেকে মিমোর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে বাড্ডা থানা পুলিশ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক আশিক রেহমান লিওন জানান, ময়নাতদন্ত শেষে এটি আত্মহত্যা বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। পরে মরদেহ তার জন্মস্থান মাদারীপুরে নেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠীরাও মরদেহের সঙ্গে যান।

ঘটনার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ আনুষ্ঠানিক শোকবার্তা প্রকাশ করে। বিভাগের চেয়ারম্যান কাজী তামান্না হক সিগমা স্বাক্ষরিত ওই বার্তায় বলা হয়, মেধাবী শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিনের আকস্মিক মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে গভীর শোক নেমে এসেছে।

বার্তায় আরো বলা হয়, তিনি ছিলেন প্রাণোচ্ছল ও বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের একজন শিক্ষার্থী। তার এমন মৃত্যুতে বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা স্তম্ভিত। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করা হয়েছে।

মৃত্যুর কিছুদিন আগেই নাট্যদল তীরন্দাজ রেপার্টরির ‘শুভঙ্কর হাত ধরতে চেয়েছিল’ নাটকের প্রযোজনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন মিমো।

নাট্যদলের কর্ণধার ও শিল্পকলা একাডেমির চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক দীপক সুমন বলেন, ‘ওর মতো শক্ত মেয়ে আমি কখনো দেখিনি। এত অল্প সময়ে এত দক্ষতার সঙ্গে নাটকটি দাঁড় করিয়েছিল। আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না।’

অভিনেত্রী দিলরুবা দোয়েল সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, ‘একটা ফোন করাই যেত বাবু। আমরা সবাই কমবেশি মানসিক চাপে আছি, দিন দিন একা হয়ে যাচ্ছি।’

নাট্যকর্মী মহসিনা আক্তার লিখেছেন, ‘আহারে মিমো।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও নাট্যকর্মী সামিনা লুৎফা লেখেন, ‘অবিশ্বাস্য! সেদিনও কথা হলো। সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’

নাট্যকর্মী নাদিরা আনজুম মিমি লেখেন, ‘মিমো, এইভাবে চলে গেলি কেন আপু! সব কিছুর একটা সমাধান থাকে… বিশ্বাস হচ্ছে না, একদমই বিশ্বাস হচ্ছে না।’

জানা গেছে, মৃত্যুর আগে একটি চিরকুট রেখে গিয়েছিলেন মিমো। সেখানে তার এক শিক্ষক ও এক সহপাঠীর নাম উল্লেখ ছিল।

এদিকে মিমোর বাবা আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়।