শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় দারুণ অগ্রগতি: পাকিস্তান

প্রায় তিন মাসের যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে চলমান আলোচনায় ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মাঝে প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনকারী দেশ পাকিস্তান। শনিবার পাকিস্তানের একাধিক সূত্র এই দাবি করেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম।

শনিবার ইরানের শীর্ষ পরমাণু আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসীম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকের পর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তেহরান এখন একটি সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করার ওপর জোর দিচ্ছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান ত্যাগের আগে জেনারেল অসীম মুনির ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী বলেছে, গত ২৪ ঘণ্টার আলোচনায় একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে আশাব্যাঞ্জক অগ্রগতি হয়েছে।

এদিকে, বর্তমানে ভারত সফরে থাকা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরান ইস্যুতে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে এবং আগামী দিনগুলোতে এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কিছু ঘোষণা দিতে পারে।

নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রুবিও বলেন, ‌‌‘‘আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে। আমি যখন আপনাদের সঙ্গে কথা বলছি তখনও কিছু কাজ চলছে। আজ পরে, আগামীকাল কিংবা আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আমাদের হয়তো এই বিষয়ে কিছু বলার সুযোগ আসতে পারে।’’

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, চলতি সপ্তাহে দুই পক্ষের মধ্যকার বিরোধগুলো কমে আসার একটি প্রবণতা দেখা গেছে। তবে এখনও এমন কিছু বিষয় রয়েছে; যা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা করা প্রয়োজন। আগামী তিন বা চার দিনের মধ্যে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তা দেখার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।

সপ্তাহব্যাপী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বর্তমানে থমথমে যুদ্ধবিরতি চললেও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বেশিরভাগ জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দূরত্ব কমিয়ে আনাই পাকিস্তানের এই মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার মূল লক্ষ্য।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আলোচনা ইরানের প্রস্তাবিত একটি ১৪ দফার খসড়া দলিলকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে; যেটিকে তেহরান আলোচনার মূল কাঠামো হিসেবে বিবেচনা করছে। এছাড়া মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে বিভিন্ন বার্তাও আদান-প্রদান করা হচ্ছে।

মুখপাত্র বাঘাই বলেছেন, ইরানের নৌ-যোগাযোগের ওপর মার্কিন অবরোধের বিষয়টি তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তবে তেহরানের প্রধান অগ্রাধিকার—যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কোনও হামলার হুমকি স্থায়ীভাবে বন্ধ এবং লেবাননে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটানো। ইরানের মিত্র হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা দক্ষিণ লেবাননে প্রবেশ করা ইসরায়েলি সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে।

অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবির পুনরাবৃত্তি করে বলেছেন, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। হরমুজ প্রণালি কোনও ধরনের শুল্ক বা টোল ছাড়াই সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখতে হবে। এবং ইরানকে তাদের উৎপাদিত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে হবে।

ইরানের শীর্ষ আলোচক গালিবাফ বলেছেন, ইরান যুদ্ধক্ষেত্র এবং কূটনীতি—উভয় মাধ্যমেই তার বৈধ অধিকার রক্ষা করবে। যাদের বিন্দুমাত্র সততা নেই এমন একটি পক্ষের (যুক্তরাষ্ট্র) ওপর ইরান ভরসা করতে পারে না। তেহরান এর আগেও একাধিকবার ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ করেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

অনিশ্চয়তার মুখে সালমান খানের ‘মাতৃভূমি’!

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় দারুণ অগ্রগতি: পাকিস্তান

প্রকাশিত সময় : ১০:৫৫:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
প্রায় তিন মাসের যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে চলমান আলোচনায় ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মাঝে প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনকারী দেশ পাকিস্তান। শনিবার পাকিস্তানের একাধিক সূত্র এই দাবি করেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম।

শনিবার ইরানের শীর্ষ পরমাণু আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসীম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকের পর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তেহরান এখন একটি সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করার ওপর জোর দিচ্ছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান ত্যাগের আগে জেনারেল অসীম মুনির ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী বলেছে, গত ২৪ ঘণ্টার আলোচনায় একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে আশাব্যাঞ্জক অগ্রগতি হয়েছে।

এদিকে, বর্তমানে ভারত সফরে থাকা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরান ইস্যুতে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে এবং আগামী দিনগুলোতে এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কিছু ঘোষণা দিতে পারে।

নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রুবিও বলেন, ‌‌‘‘আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে। আমি যখন আপনাদের সঙ্গে কথা বলছি তখনও কিছু কাজ চলছে। আজ পরে, আগামীকাল কিংবা আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আমাদের হয়তো এই বিষয়ে কিছু বলার সুযোগ আসতে পারে।’’

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, চলতি সপ্তাহে দুই পক্ষের মধ্যকার বিরোধগুলো কমে আসার একটি প্রবণতা দেখা গেছে। তবে এখনও এমন কিছু বিষয় রয়েছে; যা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা করা প্রয়োজন। আগামী তিন বা চার দিনের মধ্যে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তা দেখার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।

সপ্তাহব্যাপী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বর্তমানে থমথমে যুদ্ধবিরতি চললেও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বেশিরভাগ জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দূরত্ব কমিয়ে আনাই পাকিস্তানের এই মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার মূল লক্ষ্য।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আলোচনা ইরানের প্রস্তাবিত একটি ১৪ দফার খসড়া দলিলকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে; যেটিকে তেহরান আলোচনার মূল কাঠামো হিসেবে বিবেচনা করছে। এছাড়া মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে বিভিন্ন বার্তাও আদান-প্রদান করা হচ্ছে।

মুখপাত্র বাঘাই বলেছেন, ইরানের নৌ-যোগাযোগের ওপর মার্কিন অবরোধের বিষয়টি তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তবে তেহরানের প্রধান অগ্রাধিকার—যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কোনও হামলার হুমকি স্থায়ীভাবে বন্ধ এবং লেবাননে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটানো। ইরানের মিত্র হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা দক্ষিণ লেবাননে প্রবেশ করা ইসরায়েলি সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে।

অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবির পুনরাবৃত্তি করে বলেছেন, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। হরমুজ প্রণালি কোনও ধরনের শুল্ক বা টোল ছাড়াই সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখতে হবে। এবং ইরানকে তাদের উৎপাদিত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে হবে।

ইরানের শীর্ষ আলোচক গালিবাফ বলেছেন, ইরান যুদ্ধক্ষেত্র এবং কূটনীতি—উভয় মাধ্যমেই তার বৈধ অধিকার রক্ষা করবে। যাদের বিন্দুমাত্র সততা নেই এমন একটি পক্ষের (যুক্তরাষ্ট্র) ওপর ইরান ভরসা করতে পারে না। তেহরান এর আগেও একাধিকবার ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ করেছে।