প্রকাশিত সময় :
০৫:০৯:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
১৬
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য বিশাল বাজেট নিয়ে আজ বিকেলে জাতীয় সংসদে হাজির হচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রথম এই বাজেটে সবচেয়ে বড় চমক ও সংস্কারের হাওয়া লাগছে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে, যা দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।
বাজেটের সম্ভাব্য খসড়া থেকে জানা গেছে শিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রযুক্তির ছোঁয়া এবং শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে নেওয়া একগুচ্ছ ঐতিহাসিক ও বৈপ্লবিক পরিকল্পনা।
নারী শিক্ষায় জোয়ার আনতে এবার মেয়েদের জন্য স্নাতক (অনার্স) পর্যায় পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের ঘোষণা আসতে পারে। একই সাথে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগ সরবরাহ এবং প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর মাস্টারপ্ল্যান নেওয়া হয়েছে। ধাপে ধাপে জিডিপির ৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।
স্মার্ট ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মিলবে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা। আর শিক্ষকদের ডিজিটাল কার্যক্রমে দক্ষ করতে চালু হচ্ছে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি।
শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে পড়াশোনার চাপ কমিয়ে আনন্দময় পরিবেশে শেখাতে যুক্ত হচ্ছে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা ‘আনন্দে শিখন’ ধারণা। পড়াশোনাকে কর্মমুখী করতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই ধাপে ধাপে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সাথে নৈতিকতা, নেতৃত্ব ও মানবিক মূল্যবোধের ওপর জোর দিয়ে কারিকুলামে আসছে বড় রূপান্তর।
আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের কথা মাথায় রেখে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি জাপানি, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন (চীন), আরবি, ফরাসি ও জার্মান ভাষাকে শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো— এসব ভাষা শিখে যারা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে চাইবেন, তাদের জন্য ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিশেষ ঋণ সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার।
শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সারা দেশে ধাপে ধাপে চালু হবে ‘মিড-ডে মিল’ (দুপুরের খাবার) কর্মসূচি। পাশাপাশি ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাস্থ্যকর স্যানিটেশন ও উন্নত হাইজিন ব্যবস্থা নিশ্চিতের প্রস্তাব থাকছে এই বাজেটে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রস্তাবিত উদ্যোগগুলো দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতি গঠনে দারুণ ভূমিকা রাখবে। তবে এই বিশাল পরিকল্পনা মাঠপর্যায়ে সফলভাবে বাস্তবায়ন করা এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা তৈরি করাই হবে নতুন সরকারের জন্য আসল চ্যালেঞ্জ।