শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খোলা হয়েছে পাগলা মসজিদের দানবাক্স, মিলেছে ৪৩ বস্তা টাকা

কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদের ১৩টি লোহার দানবাক্স খোলা হয়েছে। ছয় মাস পর খোলা এসব দানবাক্স থেকে মিলেছে ৪৩ বস্তা টাকা। এখন চলছে গণনার কাজ। টাকা ছাড়াও বরাবরের মতো স্বর্ণ-রুপার অলঙ্কার এবং বিভিন্ন দেশের মুদ্রা পাওয়া গেছে এসব সিন্ধুকে।

শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৭টায় কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খানের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এসময় পুলিশ, আনসার ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর এ মসজিদের দানবাক্সে ৩ মাস ২৭ দিনে পাওয়া গিয়েছিলো ৩৫ বস্তা টাকা। দিন শেষে গণনা করে যার পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল রেকর্ড ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা। সে সময় পাওয়া গিয়েছিল বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ-রুপার অলঙ্কার ও বৈদেশিক মুদ্রা।

মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানায়, দানবাক্সে পাওয়া টাকা ৪৩টি বস্তায় ভরে নেওয়া হয়েছে মসজিদের দোতলায়। মেঝেতে ঢেলে মাদ্রাসার প্রায় ৩০০ জন ছাত্র-শিক্ষক ও রূপালী ব্যাংকের ১৩০ জন কর্মকর্তা টাকাগুলো গণনা করছেন। টাকার নিরাপত্তায় রয়েছে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি। দিনভর গণনা শেষে আজ সন্ধ্যায় টাকার পরিমাণ জানা যাবে

জনশ্রুতি রয়েছে, প্রায় আড়াইশ বছর আগে পাগলবেশী এক আধ্যাত্মিক পুরুষ খরস্রোতা নরসুন্দা নদীর মধ্যস্থলে মাদুর পেতে ভেসে এসে বর্তমান মসজিদ এলাকা জেলা শহরের হারুয়ায় থামেন। তাকে ঘিরে সেখানে অনেক ভক্তকুল সমবেত হন। তার মৃত্যুর পর সমাধির পাশে একটি মসজিদ নির্মাণ হয়। কালক্রমে এটি পরিচিতি পায় পাগলা মসজিদ নামে।

টাকা গণনার কাজে সার্বিক নিরাপত্তার ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান জানান, পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব, বিজিবি, আনসারসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবক নিরাপত্তায় রয়েছেন। টাকা গণনা শেষ হওয়া পর্যন্ত আমাদের ফোর্স সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দেবে।”

পাগলা মসজিদ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, “গত বছর ডিসেম্বরে সর্বশেষ পাগলা মসজিদের দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছিল। এবার ছয় মাস পর দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় ৪৩ বস্তা টাকা। সারাদিন গণনার পর জানা যাবে মোট কত টাকা পাওয়া গিয়েছে। আশা করা যায়, এবার টাকা পাওয়ার পরিমাণ পূর্বের রেকর্ড ছাড়াতে পারে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

খোলা হয়েছে পাগলা মসজিদের দানবাক্স, মিলেছে ৪৩ বস্তা টাকা

প্রকাশিত সময় : ১২:০৮:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদের ১৩টি লোহার দানবাক্স খোলা হয়েছে। ছয় মাস পর খোলা এসব দানবাক্স থেকে মিলেছে ৪৩ বস্তা টাকা। এখন চলছে গণনার কাজ। টাকা ছাড়াও বরাবরের মতো স্বর্ণ-রুপার অলঙ্কার এবং বিভিন্ন দেশের মুদ্রা পাওয়া গেছে এসব সিন্ধুকে।

শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৭টায় কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খানের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এসময় পুলিশ, আনসার ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর এ মসজিদের দানবাক্সে ৩ মাস ২৭ দিনে পাওয়া গিয়েছিলো ৩৫ বস্তা টাকা। দিন শেষে গণনা করে যার পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল রেকর্ড ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা। সে সময় পাওয়া গিয়েছিল বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ-রুপার অলঙ্কার ও বৈদেশিক মুদ্রা।

মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানায়, দানবাক্সে পাওয়া টাকা ৪৩টি বস্তায় ভরে নেওয়া হয়েছে মসজিদের দোতলায়। মেঝেতে ঢেলে মাদ্রাসার প্রায় ৩০০ জন ছাত্র-শিক্ষক ও রূপালী ব্যাংকের ১৩০ জন কর্মকর্তা টাকাগুলো গণনা করছেন। টাকার নিরাপত্তায় রয়েছে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি। দিনভর গণনা শেষে আজ সন্ধ্যায় টাকার পরিমাণ জানা যাবে

জনশ্রুতি রয়েছে, প্রায় আড়াইশ বছর আগে পাগলবেশী এক আধ্যাত্মিক পুরুষ খরস্রোতা নরসুন্দা নদীর মধ্যস্থলে মাদুর পেতে ভেসে এসে বর্তমান মসজিদ এলাকা জেলা শহরের হারুয়ায় থামেন। তাকে ঘিরে সেখানে অনেক ভক্তকুল সমবেত হন। তার মৃত্যুর পর সমাধির পাশে একটি মসজিদ নির্মাণ হয়। কালক্রমে এটি পরিচিতি পায় পাগলা মসজিদ নামে।

টাকা গণনার কাজে সার্বিক নিরাপত্তার ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান জানান, পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব, বিজিবি, আনসারসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবক নিরাপত্তায় রয়েছেন। টাকা গণনা শেষ হওয়া পর্যন্ত আমাদের ফোর্স সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দেবে।”

পাগলা মসজিদ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, “গত বছর ডিসেম্বরে সর্বশেষ পাগলা মসজিদের দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছিল। এবার ছয় মাস পর দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় ৪৩ বস্তা টাকা। সারাদিন গণনার পর জানা যাবে মোট কত টাকা পাওয়া গিয়েছে। আশা করা যায়, এবার টাকা পাওয়ার পরিমাণ পূর্বের রেকর্ড ছাড়াতে পারে।”