বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরাইলের দখলদারিত্বের মতোই জাতিসংঘের মানবিক বয়ান ফিলিস্তিনিদের ঝুঁকিতে ফেলছে

গাজায় ইসরাইলের চলমান সামরিক অভিযান ও ভূখণ্ড সম্প্রসারণের বিষয়ে জাতিসংঘের ভাষ্য ফিলিস্তিনিদের বাস্তব পরিস্থিতিকে পুরোপুরি তুলে ধরতে ব্যর্থ হচ্ছে বলে তুলে ধরেছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক রুমানা ওয়াদি। সম্প্রতি মিডল ইস্ট মনিটরে প্রকাশিত তার এক বিশ্লেষণে বলা হয়, দখলদার ইসরাইলের ঔপনিবেশিক সম্প্রসারণকে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত না করে কেবল মানবিক সংকটের দৃষ্টিকোণ থেকে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করায় মূল সমস্যাটি আড়াল থেকে যাচ্ছে।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গাজায় ইসরাইলের ঘোষিত ‘ইয়েলো লাইন’ ও ‘অরেঞ্জ লাইন’ এলাকার বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খুব কমই আলোচনা হয়েছে। অথচ চলমান যুদ্ধ ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের প্রেক্ষাপটে এসব এলাকার সামরিক নিয়ন্ত্রণ ও দখলদারিত্ব আরও বেশি গুরুত্ব পাওয়ার কথা ছিল। বিশ্লেষকের মতে, গাজায় ইসরাইলের বর্তমান অবস্থান পশ্চিম তীরের মতোই দীর্ঘমেয়াদি দখল নীতির অংশ।

সম্প্রতি প্রকাশিত জাতিসংঘের একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলের চলমান সম্প্রসারণের কারণে গাজায় বেসামরিক মানুষের জন্য নিরাপদ এলাকা ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।

তবে বিশ্লেষকের দাবি, এই বক্তব্য পুরো বাস্তবতা তুলে ধরে না। তার মতে, গাজায় চলমান পরিস্থিতি শুধু সাম্প্রতিক যুদ্ধের ফল নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে চলা বাস্তুচ্যুতি ও ভূখণ্ড দখলের ধারাবাহিকতার অংশ।

বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, জাতিসংঘের অধিকাংশ প্রতিবেদনে ইসরাইলের কর্মকাণ্ডকে পৃথক পৃথক ঘটনার মতো উপস্থাপন করা হয়। এতে মানবিক সংকট, ত্রাণ কার্যক্রমে বাধা বা জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির বিষয়গুলো তুলে ধরা হলেও এসব ঘটনার পেছনের রাজনৈতিক ও ঔপনিবেশিক প্রেক্ষাপট স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় না।

নির্বাচন ট্র্যাকিং পরিষেবা

লেখকের মতে, আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘনের কথা বারবার উল্লেখ করা হলেও ইসরাইলের ঔপনিবেশিক নীতিকে মূল কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয় না। ফলে মানবিক সংকটের বিষয়টি গুরুত্ব পেলেও ফিলিস্তিনিদের রাজনৈতিক অধিকার ও দখলদারিত্বের প্রশ্ন আড়ালেই থেকে যায়।

বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, এই ধরনের বর্ণনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইলের নীতিকে পর্যাপ্ত জবাবদিহির আওতায় আনতে ব্যর্থ হচ্ছে। এর ফলে ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগকে কেবল মানবিক সংকট হিসেবে দেখা হচ্ছে, অথচ এর রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট যথাযথভাবে আলোচিত হচ্ছে না।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

ইসরাইলের দখলদারিত্বের মতোই জাতিসংঘের মানবিক বয়ান ফিলিস্তিনিদের ঝুঁকিতে ফেলছে

প্রকাশিত সময় : ০৮:২১:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

গাজায় ইসরাইলের চলমান সামরিক অভিযান ও ভূখণ্ড সম্প্রসারণের বিষয়ে জাতিসংঘের ভাষ্য ফিলিস্তিনিদের বাস্তব পরিস্থিতিকে পুরোপুরি তুলে ধরতে ব্যর্থ হচ্ছে বলে তুলে ধরেছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক রুমানা ওয়াদি। সম্প্রতি মিডল ইস্ট মনিটরে প্রকাশিত তার এক বিশ্লেষণে বলা হয়, দখলদার ইসরাইলের ঔপনিবেশিক সম্প্রসারণকে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত না করে কেবল মানবিক সংকটের দৃষ্টিকোণ থেকে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করায় মূল সমস্যাটি আড়াল থেকে যাচ্ছে।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গাজায় ইসরাইলের ঘোষিত ‘ইয়েলো লাইন’ ও ‘অরেঞ্জ লাইন’ এলাকার বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খুব কমই আলোচনা হয়েছে। অথচ চলমান যুদ্ধ ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের প্রেক্ষাপটে এসব এলাকার সামরিক নিয়ন্ত্রণ ও দখলদারিত্ব আরও বেশি গুরুত্ব পাওয়ার কথা ছিল। বিশ্লেষকের মতে, গাজায় ইসরাইলের বর্তমান অবস্থান পশ্চিম তীরের মতোই দীর্ঘমেয়াদি দখল নীতির অংশ।

সম্প্রতি প্রকাশিত জাতিসংঘের একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলের চলমান সম্প্রসারণের কারণে গাজায় বেসামরিক মানুষের জন্য নিরাপদ এলাকা ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।

তবে বিশ্লেষকের দাবি, এই বক্তব্য পুরো বাস্তবতা তুলে ধরে না। তার মতে, গাজায় চলমান পরিস্থিতি শুধু সাম্প্রতিক যুদ্ধের ফল নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে চলা বাস্তুচ্যুতি ও ভূখণ্ড দখলের ধারাবাহিকতার অংশ।

বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, জাতিসংঘের অধিকাংশ প্রতিবেদনে ইসরাইলের কর্মকাণ্ডকে পৃথক পৃথক ঘটনার মতো উপস্থাপন করা হয়। এতে মানবিক সংকট, ত্রাণ কার্যক্রমে বাধা বা জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির বিষয়গুলো তুলে ধরা হলেও এসব ঘটনার পেছনের রাজনৈতিক ও ঔপনিবেশিক প্রেক্ষাপট স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় না।

নির্বাচন ট্র্যাকিং পরিষেবা

লেখকের মতে, আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘনের কথা বারবার উল্লেখ করা হলেও ইসরাইলের ঔপনিবেশিক নীতিকে মূল কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয় না। ফলে মানবিক সংকটের বিষয়টি গুরুত্ব পেলেও ফিলিস্তিনিদের রাজনৈতিক অধিকার ও দখলদারিত্বের প্রশ্ন আড়ালেই থেকে যায়।

বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, এই ধরনের বর্ণনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইলের নীতিকে পর্যাপ্ত জবাবদিহির আওতায় আনতে ব্যর্থ হচ্ছে। এর ফলে ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগকে কেবল মানবিক সংকট হিসেবে দেখা হচ্ছে, অথচ এর রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট যথাযথভাবে আলোচিত হচ্ছে না।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর