রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১ম গোল্ডেন বুট, ২য় বিশ্বকাপ, ৩য় গোল্ডেন বল- মেসির সামনে ৯ম ব্যালন ডি’অরের হাতছানি

কল্পনার সীমানা ছাড়িয়ে, স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়ে আর রেকর্ডের পর রেকর্ড ভেঙে চলেছেন লিওনেল মেসি। চল্লিশের দুয়ারে পৌঁছেও সবুজ গালিচায় তার দাপট যেন এতটুকুও কমেনি। বরং প্রতিটি ম্যাচেই নতুন করে মুগ্ধ করছেন ফুটবল বিশ্বকে। তাই প্রশ্ন উঠতেই পারে, এবার সামনে কী? আর কোন রেকর্ডের দিকে হাত বাড়াচ্ছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা?

আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির মাঠে নামা মানেই যেন নতুন কোনো ইতিহাসের জন্ম। নতুন মাইলফলক স্পর্শ করা যেন তার কাছে এখন নিত্যদিনের ঘটনা। তবে এবার বিশ্বকাপের ফাইনাল তার সামনে এনে দিয়েছে আরও বড় এক সুযোগ। এমন একটি কীর্তি গড়ার, যা শুধু তার রেকর্ডের খাতাকেই সমৃদ্ধ করবে না, বরং ফুটবল ইতিহাসে তার অমরত্বের স্বীকৃতিকে আরও বিস্তৃত ও অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেবে।

নিজের প্রথম গোল্ডেন বুট জয়ের থেকে মেসি এক পা দূর। অপেক্ষায় তৃতীয় গোল্ডেন বল জেতার। দুইটি মিলে গেলে তার হাতে উঠে যেতে পারে দ্বিতীয় বিশ্বকাপের শিরোপা। সব মিলে গেলে তার নবম ও সর্বোচ্চ ব্যালন ডি’ আর ঠেকাবে কে? আজকের একটি রাত ইতিহাস গড়ার রাত।

৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্টে লিওনেল মেসি গোল্ডেন বুট লড়াইয়ে গতকাল পর্যন্তও এগিয়ে ছিলেন। গতকাল রাতে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপ্পে জোড়া গোল করে মেসিকে ছাড়িয়ে গেছেন। তার গোল এখন ১০টি, অ্যাসিস্ট ৪টি। মেসি ফাইনালে ২ গোল করলে এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে নিজের প্রথম গোল্ডেন বুট জিতবেন। স্পেনের জাল ছিড়ে মেসি গোল করতে পারলে শুধু নিজের অর্জনই না, আর্জেন্টিনাকে শিরোপার পথে এগিয়ে নেবেন নিশ্চিতভাবে। ছয়টি বিশ্বকাপ খেললেও কখনো গোল্ডেন বুট না জেতা মেসির শোকেস নিশ্চিতভাবেই এই পুরস্কারের অপেক্ষায়।

এর আগে মেসি গোল্ডেন বল জিতেছেন দুইবার। অর্থ্যাৎ টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন দুইবার। ২০১৪ এবং ২০২২ সালে। ২০১৪ সালে ফাইনালে উঠেও শিরোপা জিততে পারেননি মেসি। ২০২২ সালে দলকে শিরোপা জিতিয়েছিলেন। এবারও মেসি যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন গোল্ডেন বল তার হাতে উঠা সময়ের ব্যাপার মাত্র। বিশ্বকাপের ইতিহাসে কখনো কোনো খেলোয়াড় তিনবার এই ট্রফি জেতেনেনি। মেসি স্রেফ ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায়।

২০২২ সালে কাতারের লুসাইলে মেসির চিরকালীন আক্ষেপ দূর হয় বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে। চার বছর পর মেসি ঠিক একই রোমাঞ্চের অপেক্ষায়। একই অর্জনের দ্বারপ্রান্তে। টানা দুই বিশ্বকাপ জিততে পারলে মেসির সাফল্যের মুকুটে যে পালক যুক্ত হবে তা নিশ্চিতভাবেই, সর্বকালের সেরা ফুটবলারের যে বিতর্ক তা ইতি টেনে দিতে পারবে। মেসিকে সর্বকালের সেরা বলতে আর দ্বিধা থাকবে না।

ফুটবলের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ পুরস্কার ব্যালন ডি’অর। যেকোনো ফুটবলারের জন্য এই পুরস্কার আরাধ্য। এলএমটেন এই পুরস্কার জিতেছেন ৮টি। নবম ব্যালন ডি’ অর জেতার দৌড়ে মেসিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে এগিয়ে। ২০২৬ ব্যালন ডি’অর দেওয়া হবে গত বছরের আগস্ট থেকে এই বছরের আগস্ট পর্যন্ত পারফরম্যান্স বিবেচনা করে। মানে বিশ্বকাপ পারফরম্যান্সের বড় প্রভাব থাকবে। মেসি ইন্টার মায়ামির হয়েও দারুণ ছন্দে আছেন মেসি। আর আর্জেন্টিনার জার্সিতে জাদুকরী ফর্মে। জাতীয় দল ও ক্লাবের হয়ে ব্যালন ডি’অরের এই সময়পঞ্জিতে এখন পর্যন্ত গোল করেছেন ৪৫টি। অর্থাৎ মেসির খুব ভালো রকম সুযোগই আছে ক্যারিয়ারে নবম ব্যালন ডি’অর জয়ের।

স্পেনের বিপক্ষে মেসির আজকের রাতটা ঐশ্বর্যময়। ফুটবল মাঠে তার আরেকটি ভালো দিন তাকে আরও অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

১ম গোল্ডেন বুট, ২য় বিশ্বকাপ, ৩য় গোল্ডেন বল- মেসির সামনে ৯ম ব্যালন ডি’অরের হাতছানি

প্রকাশিত সময় : ১০:৪৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

কল্পনার সীমানা ছাড়িয়ে, স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়ে আর রেকর্ডের পর রেকর্ড ভেঙে চলেছেন লিওনেল মেসি। চল্লিশের দুয়ারে পৌঁছেও সবুজ গালিচায় তার দাপট যেন এতটুকুও কমেনি। বরং প্রতিটি ম্যাচেই নতুন করে মুগ্ধ করছেন ফুটবল বিশ্বকে। তাই প্রশ্ন উঠতেই পারে, এবার সামনে কী? আর কোন রেকর্ডের দিকে হাত বাড়াচ্ছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা?

আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির মাঠে নামা মানেই যেন নতুন কোনো ইতিহাসের জন্ম। নতুন মাইলফলক স্পর্শ করা যেন তার কাছে এখন নিত্যদিনের ঘটনা। তবে এবার বিশ্বকাপের ফাইনাল তার সামনে এনে দিয়েছে আরও বড় এক সুযোগ। এমন একটি কীর্তি গড়ার, যা শুধু তার রেকর্ডের খাতাকেই সমৃদ্ধ করবে না, বরং ফুটবল ইতিহাসে তার অমরত্বের স্বীকৃতিকে আরও বিস্তৃত ও অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেবে।

নিজের প্রথম গোল্ডেন বুট জয়ের থেকে মেসি এক পা দূর। অপেক্ষায় তৃতীয় গোল্ডেন বল জেতার। দুইটি মিলে গেলে তার হাতে উঠে যেতে পারে দ্বিতীয় বিশ্বকাপের শিরোপা। সব মিলে গেলে তার নবম ও সর্বোচ্চ ব্যালন ডি’ আর ঠেকাবে কে? আজকের একটি রাত ইতিহাস গড়ার রাত।

৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্টে লিওনেল মেসি গোল্ডেন বুট লড়াইয়ে গতকাল পর্যন্তও এগিয়ে ছিলেন। গতকাল রাতে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপ্পে জোড়া গোল করে মেসিকে ছাড়িয়ে গেছেন। তার গোল এখন ১০টি, অ্যাসিস্ট ৪টি। মেসি ফাইনালে ২ গোল করলে এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে নিজের প্রথম গোল্ডেন বুট জিতবেন। স্পেনের জাল ছিড়ে মেসি গোল করতে পারলে শুধু নিজের অর্জনই না, আর্জেন্টিনাকে শিরোপার পথে এগিয়ে নেবেন নিশ্চিতভাবে। ছয়টি বিশ্বকাপ খেললেও কখনো গোল্ডেন বুট না জেতা মেসির শোকেস নিশ্চিতভাবেই এই পুরস্কারের অপেক্ষায়।

এর আগে মেসি গোল্ডেন বল জিতেছেন দুইবার। অর্থ্যাৎ টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন দুইবার। ২০১৪ এবং ২০২২ সালে। ২০১৪ সালে ফাইনালে উঠেও শিরোপা জিততে পারেননি মেসি। ২০২২ সালে দলকে শিরোপা জিতিয়েছিলেন। এবারও মেসি যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন গোল্ডেন বল তার হাতে উঠা সময়ের ব্যাপার মাত্র। বিশ্বকাপের ইতিহাসে কখনো কোনো খেলোয়াড় তিনবার এই ট্রফি জেতেনেনি। মেসি স্রেফ ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায়।

২০২২ সালে কাতারের লুসাইলে মেসির চিরকালীন আক্ষেপ দূর হয় বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে। চার বছর পর মেসি ঠিক একই রোমাঞ্চের অপেক্ষায়। একই অর্জনের দ্বারপ্রান্তে। টানা দুই বিশ্বকাপ জিততে পারলে মেসির সাফল্যের মুকুটে যে পালক যুক্ত হবে তা নিশ্চিতভাবেই, সর্বকালের সেরা ফুটবলারের যে বিতর্ক তা ইতি টেনে দিতে পারবে। মেসিকে সর্বকালের সেরা বলতে আর দ্বিধা থাকবে না।

ফুটবলের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ পুরস্কার ব্যালন ডি’অর। যেকোনো ফুটবলারের জন্য এই পুরস্কার আরাধ্য। এলএমটেন এই পুরস্কার জিতেছেন ৮টি। নবম ব্যালন ডি’ অর জেতার দৌড়ে মেসিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে এগিয়ে। ২০২৬ ব্যালন ডি’অর দেওয়া হবে গত বছরের আগস্ট থেকে এই বছরের আগস্ট পর্যন্ত পারফরম্যান্স বিবেচনা করে। মানে বিশ্বকাপ পারফরম্যান্সের বড় প্রভাব থাকবে। মেসি ইন্টার মায়ামির হয়েও দারুণ ছন্দে আছেন মেসি। আর আর্জেন্টিনার জার্সিতে জাদুকরী ফর্মে। জাতীয় দল ও ক্লাবের হয়ে ব্যালন ডি’অরের এই সময়পঞ্জিতে এখন পর্যন্ত গোল করেছেন ৪৫টি। অর্থাৎ মেসির খুব ভালো রকম সুযোগই আছে ক্যারিয়ারে নবম ব্যালন ডি’অর জয়ের।

স্পেনের বিপক্ষে মেসির আজকের রাতটা ঐশ্বর্যময়। ফুটবল মাঠে তার আরেকটি ভালো দিন তাকে আরও অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।