বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আবু হুনাইদা ওয়াইল ইবনে হুজর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সালামাহ ইবনে ইয়াজিদ আল জুফি একবার মহানবী (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ, যদি আমাদের ওপর এমন কোনো শাসক বা বাদশাহ নিযুক্ত হয়, যারা শুধু নিজেদের হক আদায় করতে চায়, কিন্তু আমাদের হক আদায় করে না। সেই পরিস্থিতিতে আপনি আমাদের কী করতে বলবেন? এ কথা শুনে মহানবী (সা.) তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন।
লোকটি পুনরায় জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, তোমরা তাদের কথা শুনবে এবং তাদের আনুগত্য করবে। কারণ তাদের দায়িত্ব তাদের ওপর আবশ্যক করে দেওয়া হয়েছে। আর তোমাদের দায়িত্ব তোমাদের ওপর আবশ্যক করে দেওয়া হয়েছে। (সহিহ মুসলিম, ৪৭৮২)
শিক্ষা ও বিধান
১. বৈধ বিষয়ে শাসকের আনুগত্য করা জরুরি।
শাসক যদি ব্যক্তিগতভাবে জুলুমও করে, তবুও আল্লাহর অবাধ্যতা নয়—এমন বিষয়ে তার আনুগত্য করতে হবে।
২. নিজ নিজ দায়িত্ব পালনই মূল বিষয়। শাসকের ওপর আবশ্যক হলো জনগণের হক যথাযথভাবে আদায় করা, আর জনগণের ওপর আবশ্যক হলো বৈধ আনুগত্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা।
৩. অন্যায়ের কারণে বিদ্রোহ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা সমর্থিত নয়।
কারণ তা সমাজে আরো বড় ফিতনা, রক্তপাত ও অস্থিরতার কারণ হতে পারে।
৪. অন্যের অন্যায় আমার অন্যায়ের বৈধতা দেয় না। শাসক তার দায়িত্বে ব্যর্থ হলে সে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করবে; কিন্তু জনগণও নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে।
৫. ধৈর্য ধারণের শিক্ষা। জুলুমের পরিস্থিতিতেও ধৈর্য, দোয়া এবং শরিয়তসম্মত উপায়ে সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিবাদের মাধ্যমে সংশোধনের চেষ্টা করা একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
৬. কিয়ামতের দিন প্রত্যেককেই নিজ নিজ আমলের হিসাব দিতে হবে। তাই অন্যের অবিচারকে অজুহাত বানিয়ে নিজের দায়িত্ব অবহেলা করা যাবে না।
৭. শাসকের জন্যও সতর্কবার্তা হলো, জনগণের হক যথাযথভাবে আদায় না করলে সে আল্লাহর কাছে কঠিন জবাবদিহির সম্মুখীন হবে।
সারকথা, এই হাদিসের অর্থ এই নয় যে, শাসকের সব অন্যায়কে সমর্থন করতে হবে। বরং ইসলামে সৎ উপদেশ (নসিহত), ন্যায়ের আদেশ, অন্যায় থেকে নিষেধ এবং বৈধ উপায়ে সংশোধনের চেষ্টা করার নির্দেশ রয়েছে। তবে যদি শাসক আল্লাহর অবাধ্যতার আদেশ দেন, তাহলে সেই ক্ষেত্রে তার আনুগত্য করা বৈধ নয়।

ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 
























