রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুবদল নেতার ছুরিকাঘাতে আহত শিবিরকর্মীর ৪৮ দিন পর মৃত্যু

গাইবান্ধার সাঘাটায় একটি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে যুবদল নেতার ছুরিকাঘাতে আহত শিবিরকর্মী সালাউদ্দিন (২৬) মারা গেছেন।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে ঢাকার একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান। এর আগে, ওই ঘটনায় সাইফুল্লাহ বারী নামে অপর এক শিবির নেতা মারা গেছেন।

সালাউদ্দিনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইসলামি ছাত্রশিবিরের গাইবান্ধা জেলা শাখার সাবেক সভাপতি ফেরদাউস রুম্মন।

গত ২১ জুন বিকেলে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া চৌরাস্তা মোড়ে যুবদল নেতাকর্মীদের ছুরিকাঘাতে দুই শিবির কর্মী গুরুতর আহত হন। ওইদিনই আহত সাইফুল্লাহ বারী মারা যান। তিনি বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্র শিবিরের সভাপতি ছিলেন। তার বাড়ি বোনারপাড়া পূর্ব শিমুল তাইড় গ্রামে। তিনি একই গ্রামের হবিবুর রহমানের ছেলে। শিবির কর্মী সালাউদ্দিন পশ্চিম শিমুল তাইড় গ্রামের ছামছুল হকের ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, সাঘাটা উপজেলার কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনের বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা চত্বরে স্কুলটির প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লা, সালাউদ্দিন ও সাইফুল্লাহ বারীর সঙ্গে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুলের কথা কাটাকাটি হয়। পরে স্থানীয় নেতাদের সমঝোতায় বিষয়টি মীমাংসা হয়। এরপর উপজেলা চত্বর থেকে সবাই চলে যান।

এ ঘটনার কয়েক মিনিট পর বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্র শিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী  ও শিবির কর্মী সালাউদ্দিন সাঘাটা উপজেলা সংলগ্ন বোনারপাড়া চৌমাথায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। এসময় সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুল মিয়া ও তার ছোট ভাই পলাশ, বোনারপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য রবিউল ইসলাম, যুবদল নেতা আশরাফ, যুবদল নেতা মোনারুলসহ ১০ থেকে ১২ জন ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রথমে শিবির কর্মী সালাউদ্দিনের ওপর হামলা করে। হামলাকারীরা সালাউদ্দিনকে কুপিয়ে আহত করে। তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে এলে শিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারীকে কুপিয়ে জখম করা হয়।

ঘটনার পর স্থানীয়রা আহত দুজনকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে আহত শিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারীকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন এবং গুরুতর আহত শিবির কর্মী সালাউদ্দিনকে বগুড়া জিয়াউর রহমান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ মারা ভোরে মারা যান তিনি।

ইসলামি ছাত্রশিবিরের গাইবান্ধা জেলা শাখার সাবেক সভাপতি ফেরদাউস রুম্মন বলেন, “৪৮দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে সালাউদ্দিন মারা যান। আমরা তার মৃত্যুতে গভীর শোকাহত।”

সাঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুব আলম রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “শুনেছি আজ সকালে শিবির কর্মী সালাউদ্দিন মারা গেছেন। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। সেই মামলায় প্রধান আসামি সাবেক যুবদল নেতা মুকুলসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

যুবদল নেতার ছুরিকাঘাতে আহত শিবিরকর্মীর ৪৮ দিন পর মৃত্যু

প্রকাশিত সময় : ০৬:২৪:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

গাইবান্ধার সাঘাটায় একটি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে যুবদল নেতার ছুরিকাঘাতে আহত শিবিরকর্মী সালাউদ্দিন (২৬) মারা গেছেন।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে ঢাকার একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান। এর আগে, ওই ঘটনায় সাইফুল্লাহ বারী নামে অপর এক শিবির নেতা মারা গেছেন।

সালাউদ্দিনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইসলামি ছাত্রশিবিরের গাইবান্ধা জেলা শাখার সাবেক সভাপতি ফেরদাউস রুম্মন।

গত ২১ জুন বিকেলে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া চৌরাস্তা মোড়ে যুবদল নেতাকর্মীদের ছুরিকাঘাতে দুই শিবির কর্মী গুরুতর আহত হন। ওইদিনই আহত সাইফুল্লাহ বারী মারা যান। তিনি বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্র শিবিরের সভাপতি ছিলেন। তার বাড়ি বোনারপাড়া পূর্ব শিমুল তাইড় গ্রামে। তিনি একই গ্রামের হবিবুর রহমানের ছেলে। শিবির কর্মী সালাউদ্দিন পশ্চিম শিমুল তাইড় গ্রামের ছামছুল হকের ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, সাঘাটা উপজেলার কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনের বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা চত্বরে স্কুলটির প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লা, সালাউদ্দিন ও সাইফুল্লাহ বারীর সঙ্গে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুলের কথা কাটাকাটি হয়। পরে স্থানীয় নেতাদের সমঝোতায় বিষয়টি মীমাংসা হয়। এরপর উপজেলা চত্বর থেকে সবাই চলে যান।

এ ঘটনার কয়েক মিনিট পর বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্র শিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী  ও শিবির কর্মী সালাউদ্দিন সাঘাটা উপজেলা সংলগ্ন বোনারপাড়া চৌমাথায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। এসময় সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুল মিয়া ও তার ছোট ভাই পলাশ, বোনারপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য রবিউল ইসলাম, যুবদল নেতা আশরাফ, যুবদল নেতা মোনারুলসহ ১০ থেকে ১২ জন ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রথমে শিবির কর্মী সালাউদ্দিনের ওপর হামলা করে। হামলাকারীরা সালাউদ্দিনকে কুপিয়ে আহত করে। তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে এলে শিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারীকে কুপিয়ে জখম করা হয়।

ঘটনার পর স্থানীয়রা আহত দুজনকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে আহত শিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারীকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন এবং গুরুতর আহত শিবির কর্মী সালাউদ্দিনকে বগুড়া জিয়াউর রহমান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ মারা ভোরে মারা যান তিনি।

ইসলামি ছাত্রশিবিরের গাইবান্ধা জেলা শাখার সাবেক সভাপতি ফেরদাউস রুম্মন বলেন, “৪৮দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে সালাউদ্দিন মারা যান। আমরা তার মৃত্যুতে গভীর শোকাহত।”

সাঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুব আলম রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “শুনেছি আজ সকালে শিবির কর্মী সালাউদ্দিন মারা গেছেন। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। সেই মামলায় প্রধান আসামি সাবেক যুবদল নেতা মুকুলসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”