রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার আমরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষক রয়েছেন ১৪ জন। অথচ চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টি থেকে অংশ নেওয়া ১৩ জন পরীক্ষার্থীর একজনও পাস করতে পারেনি। ফলে বিদ্যালয়টির পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে।
সোমবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর মোহনপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের এমন ফলাফল নিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। তাদের অভিযোগ, ১৪ জন শিক্ষক থাকার পরও ১৩ জন পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল করার বিষয়টি শুধু শিক্ষার্থীদের দুর্বল ফলাফল দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষকদের উপস্থিতি, শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হতো কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনজুর রহমান মঞ্জু নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না। পাশাপাশি কয়েকজন শিক্ষকও নিয়মিত ক্লাস নিতে আগ্রহী নন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মনজুর রহমান মঞ্জু বলেন, বিদ্যালয়ের ফলাফল অত্যন্ত হতাশাজনক। আমি সব শিক্ষককে নিয়ে জরুরি সভা করব। বিদ্যালয়ের ফলাফল এত খারাপ হলো কেন, তা আমি বুঝতে পারছি না।’
মোহনপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম মাহমুদুল হাসান বলেন, বিদ্যালয়ের শূন্য পাসের ফলাফলের পর এর এমপিও বাতিলের জন্য সুপারিশ করা হবে।
এদিকে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিমা বিনতে আখতার জানিয়েছেন, ফলাফল নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে প্রধান শিক্ষককে তলব করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী কেন ফেল করেছে, তা তদন্ত করে দেখা হবে। পাঠদানে অবহেলা বা দায়িত্বে কোনো ধরনের গাফিলতি পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
চলতি বছর মোহনপুর উপজেলায় এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ২ হাজার ৪২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে মোহনপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৮টি প্রতিষ্ঠানের ৪০৪ জন, মোহনপুর সরকারি বালিলা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৯টি প্রতিষ্ঠানের ৩৬৭ জন এবং কেশরহাট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১৩টি প্রতিষ্ঠানের ৫১৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দেয়।
এ ছাড়া কেশরহাট টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ৩২৭ জন এবং সংকোয়া-বকশাইল কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ১৮টি প্রতিষ্ঠানের ৪২৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়।
একটি বিদ্যালয় থেকে অংশ নেওয়া ১৩ জন পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল করার ঘটনায় এখন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান, শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা, বিদ্যালয় পরিচালনা এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসের তদারকি ব্যবস্থা নিয়ে তদন্তের দাবি জোরালো হয়েছে।

ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 


















