রাশিয়ার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক আসনে জয় পেতে যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনপন্থী দল ইউনাইটেড রাশিয়া। সোমবার প্রকাশিত প্রায় পূর্ণাঙ্গ সরকারি ফলাফলে দলটির বড় জয়ের চিত্র উঠে এসেছে। একই সময়ে যুদ্ধবিরোধী ইয়াবলোকো পার্টি একটি আঞ্চলিক পার্লামেন্টে সামান্য আসন পাওয়ার পথে রয়েছে।
ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর এটি ছিল প্রথম স্টেট দুমা নির্বাচন। তিন দিন ধরে চলা এই নির্বাচনকে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থনের পরীক্ষা হিসেবে তুলে ধরেছিলেন পুতিন। একই সময়ে কয়েকটি অঞ্চলে পার্লামেন্ট ও গভর্নর নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হয়। বার্তাসংস্থা রয়তার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায় ।
যদিও সমালোচকরা অভিযোগ করেছেন রাশিয়ার কঠোর নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক ব্যবস্থায় প্রকৃত বিরোধিতার সুযোগ সীমিত। ইয়াবলোকোর অনেক প্রার্থীও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাননি। ফলে নির্বাচনের ফলাফলে বড় কোনো চমক প্রত্যাশা করা হয়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পুরো প্রক্রিয়াটি তুলনামূলকভাবে নির্বিঘ্ন হয়েছে এমন বার্তা দেওয়া রুশ কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান এল্লা পামফিলোভা জানান, ৯৫ শতাংশের বেশি ভোট গণনা শেষে ইউনাইটেড রাশিয়া পেয়েছে ৫৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ ভোট। ২০২১ সালের নির্বাচনে দলটি পেয়েছিল ৪৯ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট।
ফলাফল অনুযায়ী, ৪৫০ আসনের স্টেট দুমায় ইউনাইটেড রাশিয়া প্রায় ৮০ শতাংশ বা ৩৫৫টি আসন পেতে যাচ্ছে। এর ফলে দলটি পার্লামেন্টে সাংবিধানিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখবে। এই সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে অন্য দলের সমর্থন ছাড়াই আইন পাস এবং সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে। ২০১৬ সালে পাওয়া ৩৪৩ আসনের রেকর্ডও এবার ছাড়িয়ে যাচ্ছে দলটি।
পার্লামেন্টে জায়গা পাওয়া অন্য দলগুলোর মধ্যে কমিউনিস্ট পার্টি পেয়েছে ১৩ দশমিক ৮১ শতাংশ, কট্টর জাতীয়তাবাদী এলডিপিআর ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং নিউ পিপল পার্টি ৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ ভোট। জাস্ট রাশিয়া পার্টিও ৫ শতাংশের প্রয়োজনীয় সীমা অতিক্রম করে পার্লামেন্টে প্রবেশ করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে এসব দল ইউনাইটেড রাশিয়ার সঙ্গে একই অবস্থানে ভোট দিয়েছে।
এদিকে পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র রমজান কাদিরভ চেচনিয়ার নেতা হিসেবে পঞ্চম মেয়াদে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। সরকারি ফলাফলে তিনি প্রায় ১০০ শতাংশ ভোট পেয়েছেন।
পামফিলোভা জানান, রাশিয়ার প্রায় ১১ কোটি ১০ লাখ ভোটারের মধ্যে ৫৯ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট দিয়েছেন, যা এ ধরনের নির্বাচনে রেকর্ড ভোটার উপস্থিতি। নির্বাচনের শেষ দিনে রোববার মস্কোয় ইউক্রেনের ব্যাপক ড্রোন হামলার মধ্যেও ভোটগ্রহণ অব্যাহত ছিল। নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন বিদেশে অবস্থানরত বিরোধী কর্মীরা। তবে পামফিলোভা ভোটকে ‘সুষ্ঠু’ বলে দাবি করেছেন।
জাতীয় পর্যায়ে কোনো আসন পায়নি রাশিয়ার একমাত্র নিবন্ধিত যুদ্ধবিরোধী দল ইয়াবলোকো। তবে মস্কো থেকে প্রায় ৪৮০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে নভগোরোদ অঞ্চলে প্রায় ৯৭ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দলটি ৫ শতাংশের প্রয়োজনীয় সীমা অতিক্রম করেছে বলে মনে হচ্ছে। দলটির দাবি, ওই অঞ্চলে ১২ হাজারের বেশি মানুষ তাদের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা মস্কোর বাসিন্দাদের মধ্যে কেউই বড় ধরনের বিস্ময় প্রকাশ করেননি। তবে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান, ড্রোন হামলা বন্ধ এবং জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতির উন্নতির প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন কেউ কেউ।
অন্যদিকে মস্কোর একটি অভিজাত বিপণিবিতানে কর্মরত আলেক্সান্দ্রা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েই তিনি সন্তুষ্ট এবং নির্বাচনের পর বিশেষ কোনো পরিবর্তন চান না। তার ভাষায়, ‘যেভাবে চলছে, সেভাবেই ভালো।’

রিপোর্টারের নাম 























