মাদক কারবারি, দুষ্কৃতকারী ও অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে খুলনা জেলা পুলিশ বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হওয়া অভিযানে বুধবার পর্যন্ত ৯৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক জানান, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে চান তিনি। অপরাধীদের উদ্দেশে তার বার্তা, মাদক ও অবৈধ অস্ত্র নিয়ে এলাকায় কোনো কাজ করা যাবে না।
তিনি বলেন, মাদক ও অবৈধ অস্ত্র পরস্পরের সঙ্গে জড়িত।মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে লাভের ভাগাভাগি ও স্বার্থের দ্বন্দ্ব থেকেই হত্যাকাণ্ডের একটি অংশ ঘটছে। একই সঙ্গে অবৈধ অস্ত্রের বিস্তারও হত্যাকাণ্ড বাড়াচ্ছে। এ কারণে বিশেষ অভিযানে মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা জেলায় চলতি বছরে ৩৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ২৫টি মামলার রহস্য উদ্ঘাটন হলেও ১০টি এখনও অনুদ্ঘাটিত। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি রূপসা উপজেলায়। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে ১২টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। সর্বশেষ দুই টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এমন বাস্তবতায় এবার ডাবল ডোজ অভিযানে নামার ঘোষণা দিয়েছে জেলা পুলিশ। রূপসা, তেরখাদা, দিঘলিয়া ও বটিয়াঘাটা এই চার থানাকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ধরে ২৪ ঘণ্টা অভিযান, চেকপোস্ট ও ব্লক রেইড চালানো হচ্ছে।
সূত্র আরো জানায়, চলতি বছরের ৩৫টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে গুলি করে টার্গেট কিলিং হয়েছে ৯টি। মাদককে কেন্দ্র করে হত্যা তিনটি, সামাজিক দ্বন্দ্ব বা মারামারিতে ১৩টি, রাজনৈতিক গ্রুপিংয়ে দুটি, অজ্ঞাত কারণে দুটি, শ্বাসরোধে দুটি নবজাতক হত্যা এবং পারিবারিক বা পরকীয়াজনিত কারণে আরও চারটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। গুলি করে হত্যার ঘটনাগুলোর পেছনেও মূলত মাদককেন্দ্রিক বিরোধ রয়েছে বলে পুলিশের বিশ্লেষণ।
রূপসাকে অপরাধের হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করার পেছনে ভৌগোলিক ও জনবসতিগত কারণও দেখছে পুলিশ। শহরের কাছাকাছি হলেও রূপসা নদী দিয়ে খুলনা শহর থেকে বিচ্ছিন্ন এ অঞ্চল। অপরাধ করে নদীপথে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ঘনবসতি, অসংখ্য সরু গলি ও শাখা-প্রশাখা সড়ক অপরাধীদের আত্মগোপন ও দ্রুত স্থান পরিবর্তনে সহায়তা করছে।
এই অবস্থাকে সামনে রেখে মঙ্গলবার রাত থেকে চার থানায় বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। নড়াইল ও যশোরসহ অন্য জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এনে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। প্রথম দিনেই প্রায় ১০০ জনকে গ্রেপ্তার এবং প্রায় ২৫০ পিস ইয়াবা ও এক কেজি গাঁজা উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে জিডি করার পরও রূপসায় এক ব্যক্তির হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এ ঘটনায় সেনসিটিভিটি যথাযথভাবে মোকাবিলা করা যায়নি। প্রাথমিক তদন্তে যাদের নাম এসেছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
শুধু পুলিশি অভিযান নয়, ভাড়াটিয়া শনাক্তকরণ ও সিসিটিভি ব্যবস্থার ঘাটতিও উঠে এসেছে সংবাদ সম্মেলনে।

ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 























