বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ড. ইউনূসকে হয়রানির নিন্দা জানালেন অন্তর্বর্তী সরকারের ১২ সাবেক উপদেষ্টা

সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে অনলাইন অপপ্রচার, হয়রানি ও ব্যক্তিগত হুমকির ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের ১২ সাবেক উপদেষ্টা। তাঁরা বলেছেন, ভয়ভীতি, মিথ্যাচার ও অনলাইন হয়রানির মাধ্যমে জুলাইয়ে মানুষের প্রত্যাশিত পরিবর্তনের অঙ্গীকার নস্যাৎ করা যাবে না।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তাঁরা এ নিন্দা জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, দেশ যখন গভীর সংকটের মুখে ছিল, তখন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক লুটপাট, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পতন, দুর্নীতি, পদ্ধতিগত নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনে বিপর্যস্ত দেশ পুনর্গঠনের কঠিন দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছে। ওই সরকারের আমলে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো নিন্দনীয় চর্চার অবসান ঘটে বলেও উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।

এতে আরও বলা হয়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবাধ ও সুষ্ঠু সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে অন্তর্বর্তী সরকার। সে সময় প্রত্যাশা ছিল, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলের ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

কিন্তু কিছু রাজনৈতিক দুষ্কৃতকারী ও স্বার্থান্বেষী মহল ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর পাশাপাশি তাঁকে শারীরিকভাবে হুমকি দিচ্ছে বলে বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে কাপুরুষোচিত আখ্যা দিয়ে সাবেক উপদেষ্টারা বলেন, এসবের উদ্দেশ্য অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করা।

বিবৃতিতে তাঁরা আরও বলেন, ভয়ভীতি, মিথ্যাচার, অনলাইন হয়রানি কিংবা ব্যক্তিগত হুমকি দিয়ে জুলাইয়ে মানুষের প্রত্যাশিত পরিবর্তনের অঙ্গীকার থেকে বিচ্যুত করা যাবে না। বাংলাদেশের মানুষ ও তরুণদের বিপুল আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত সংস্কার এবং মর্যাদার ঐতিহাসিক অঙ্গীকার অপপ্রচার কিংবা ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা ও তার সমর্থকদের প্রচেষ্টায় মুছে ফেলা সম্ভব নয়।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, সাবেক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, শিক্ষাবিদ সি আর আবরার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আদিলুর রহমান খান, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. সাখাওয়াত হোসেন, নৌকমান্ডো বীর প্রতীক ফারুক ই আজম, উবিনীগের নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আখতার, সমাজবিজ্ঞানী শারমীন সোনিয়া মুরশিদ, চলচ্চিত্র পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ড. ইউনূসকে হয়রানির নিন্দা জানালেন অন্তর্বর্তী সরকারের ১২ সাবেক উপদেষ্টা

প্রকাশিত সময় : ০৮:৪৭:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে অনলাইন অপপ্রচার, হয়রানি ও ব্যক্তিগত হুমকির ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের ১২ সাবেক উপদেষ্টা। তাঁরা বলেছেন, ভয়ভীতি, মিথ্যাচার ও অনলাইন হয়রানির মাধ্যমে জুলাইয়ে মানুষের প্রত্যাশিত পরিবর্তনের অঙ্গীকার নস্যাৎ করা যাবে না।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তাঁরা এ নিন্দা জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, দেশ যখন গভীর সংকটের মুখে ছিল, তখন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক লুটপাট, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পতন, দুর্নীতি, পদ্ধতিগত নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনে বিপর্যস্ত দেশ পুনর্গঠনের কঠিন দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছে। ওই সরকারের আমলে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো নিন্দনীয় চর্চার অবসান ঘটে বলেও উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।

এতে আরও বলা হয়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবাধ ও সুষ্ঠু সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে অন্তর্বর্তী সরকার। সে সময় প্রত্যাশা ছিল, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলের ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

কিন্তু কিছু রাজনৈতিক দুষ্কৃতকারী ও স্বার্থান্বেষী মহল ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর পাশাপাশি তাঁকে শারীরিকভাবে হুমকি দিচ্ছে বলে বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে কাপুরুষোচিত আখ্যা দিয়ে সাবেক উপদেষ্টারা বলেন, এসবের উদ্দেশ্য অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করা।

বিবৃতিতে তাঁরা আরও বলেন, ভয়ভীতি, মিথ্যাচার, অনলাইন হয়রানি কিংবা ব্যক্তিগত হুমকি দিয়ে জুলাইয়ে মানুষের প্রত্যাশিত পরিবর্তনের অঙ্গীকার থেকে বিচ্যুত করা যাবে না। বাংলাদেশের মানুষ ও তরুণদের বিপুল আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত সংস্কার এবং মর্যাদার ঐতিহাসিক অঙ্গীকার অপপ্রচার কিংবা ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা ও তার সমর্থকদের প্রচেষ্টায় মুছে ফেলা সম্ভব নয়।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, সাবেক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, শিক্ষাবিদ সি আর আবরার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আদিলুর রহমান খান, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. সাখাওয়াত হোসেন, নৌকমান্ডো বীর প্রতীক ফারুক ই আজম, উবিনীগের নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আখতার, সমাজবিজ্ঞানী শারমীন সোনিয়া মুরশিদ, চলচ্চিত্র পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।