রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তাদের পূজার স্মৃতি

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। আর এই উৎসব ঘিরে চলে নানা আয়োজন। অন্যদের মতো দেশের তারকা শিল্পীরাও মেতে উঠেছেন এই উৎসবে, যার প্রমাণ মেলে তাদের সামাজিক মাধ্যমগুলোতে। আনন্দের নানা মুহূর্ত তারা শেয়ার করছেন ভক্ত-শুভাকাক্সক্ষীদের সঙ্গে। আবার অনেকেই দুর্গোৎসবে আবেগে হারিয়ে গেছেন ফেলে আসা মধুর স্মৃতিতে। লিখেছেন ফয়সাল আহমেদ

বিদ্যা সিনহা মিম

ফেলা আসা দিন আর ফেলে আসা সময়, মধুর হয়। তাই যে সময়কে হারিয়ে ফেলেছি, সেটি আর আসে না। এখনও চোখে ভাসে নতুন সাজ-পোশাকে পরিবারের মানুষগুলোকে নিয়ে এক মণ্ডপ থেকে আরেক মণ্ডপে ঘুরে বেড়ানো। দেবী দুর্গার কাছে সবার মঙ্গল আর সুন্দর আগামীর প্রত্যাশা প্রার্থনা। ইচ্ছামতো সুস্বাদু সব খাবার খাওয়া। বন্ধু, প্রিজনদের সঙ্গে নাচ, গান আনন্দে মেতে ওঠা- এ সবই একসময় ছিল পূজার ধারাবাহিক রুটিন। শৈশব, কৈশোর হারিয়ে আজ তা কেবলই স্মৃতি। যদিও এখনও পূজার প্রতিটি দিন নতুন সব সাজ-পোশাকে বের হই, তবু হারিয়ে যাওয়া সময়ের আনন্দটাকে ফিরে পাওয়া হয়ে ওঠে না। তবু ষষ্ঠী থেকে দশমী- প্রতিটি দিনেই অতীতে ছোঁয়া পাওয়া যাবে, এমন একচিলতে আনন্দ খুঁজে নেওয়ার।

অপু বিশ্বাস

ঢাকাই সিনেমার নায়িকা অপু বিশ্বাস সবাইকে শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানিয়ে উৎসবের এই ক’দিন সব দুশ্চিন্তা ঝেড়ে ফেলে মন খুলে আনন্দ করার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে পূজার আনন্দ-উদযাপনের ধরন কিছুটা বদলেছে, কিন্তু নিঃশেষ হয়নি। এখন দুর্গাপূজায় ষষ্ঠী থেকে দশমীর দিনগুলোয় বগুড়ার দিনগুলোর কথা মনে পড়ে। কী যে এক উচ্ছ্বাস, উল্লাসের ছিল সেই দিনগুলো- তা বলে শেষ করা যাবে না। অনেকে জানেন, বগুড়ায় আমার বেড়ে ওঠা। সেখানে ছোটবেলার শারদীয় উৎসবগুলোর আনন্দ ভাগাভাগি করে নিয়েছি বাবা-মা, কাকা-কাকিসহ অন্যান্য আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে। পূজার সময় আমরা সবাই একত্র হতাম। আমাদের বাড়ি উৎসবে মুখর হয়ে উঠত। নতুন জামা পরে ভোরবেলা প্রতিমা দেখতে যাওয়া, মায়ের ভোগের খাবার, সবার সঙ্গে মিলে হইহুল্লোড়- সবকিছু মিলে রঙিন হয়ে উঠত পূজা। আর মহাষ্টমীর ভোগের থালা হাতে পাওয়া ছিল অন্যরকম উন্মাদনার। ভোগের থালার খিচুড়ি, লাবড়া আর নানা পদের ভাজা আমার কাছে ছিল অমৃত।

পূজা চেরী

বন্ধুবান্ধব ও পরিবার নিয়ে বেশ আনন্দেই কাটছে তার পূজা। কিন্তু তার মন খারাপ। তিনি বলেন, ‘পূজা এলো, অথচ মা নেই। তাকে খুব মিস করি, বিশেষ করে এই আনন্দময় মুহূর্তে বেশি মনে পড়ছে। মা থাকলে পূজায় আনন্দটা সত্যি অন্যরকম হতো।’ তিনি আরও জানান, খুলনায় তার গ্রামের বাড়ি হলেও বেড়ে উঠেছেন রাজধানীর হাজারীবাগে। ধুলোমাখা শৈশবের দিনগুলো ওই মাটিতেই কেটেছে। শারদীয় উৎসবের দিনগুলোয় নানারকম পোশাক পরে বের হতেন। উপহারও পেতেন অনেক, যা অন্যরকম এক ভালো লাগায় মনকে ভরিয়ে দিত। ছোটবেলায় ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফিরতেন তাঁতীবাজার, শাঁখারীবাজারসহ পুরান ঢাকার বিভিন্ন মন্দির ঘুরে বেড়িয়ে। আত্মীয়স্বজনরা বাসায় আসত। তাদের নিয়ে একসঙ্গে মুখরোচক খাবার খেতেন। এভাবেই মহালয়া থেকে বিসর্জনের প্রতিটি দিন কাটত আনন্দ-উল্লাসে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

তাদের পূজার স্মৃতি

প্রকাশিত সময় : ০১:৫৮:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। আর এই উৎসব ঘিরে চলে নানা আয়োজন। অন্যদের মতো দেশের তারকা শিল্পীরাও মেতে উঠেছেন এই উৎসবে, যার প্রমাণ মেলে তাদের সামাজিক মাধ্যমগুলোতে। আনন্দের নানা মুহূর্ত তারা শেয়ার করছেন ভক্ত-শুভাকাক্সক্ষীদের সঙ্গে। আবার অনেকেই দুর্গোৎসবে আবেগে হারিয়ে গেছেন ফেলে আসা মধুর স্মৃতিতে। লিখেছেন ফয়সাল আহমেদ

বিদ্যা সিনহা মিম

ফেলা আসা দিন আর ফেলে আসা সময়, মধুর হয়। তাই যে সময়কে হারিয়ে ফেলেছি, সেটি আর আসে না। এখনও চোখে ভাসে নতুন সাজ-পোশাকে পরিবারের মানুষগুলোকে নিয়ে এক মণ্ডপ থেকে আরেক মণ্ডপে ঘুরে বেড়ানো। দেবী দুর্গার কাছে সবার মঙ্গল আর সুন্দর আগামীর প্রত্যাশা প্রার্থনা। ইচ্ছামতো সুস্বাদু সব খাবার খাওয়া। বন্ধু, প্রিজনদের সঙ্গে নাচ, গান আনন্দে মেতে ওঠা- এ সবই একসময় ছিল পূজার ধারাবাহিক রুটিন। শৈশব, কৈশোর হারিয়ে আজ তা কেবলই স্মৃতি। যদিও এখনও পূজার প্রতিটি দিন নতুন সব সাজ-পোশাকে বের হই, তবু হারিয়ে যাওয়া সময়ের আনন্দটাকে ফিরে পাওয়া হয়ে ওঠে না। তবু ষষ্ঠী থেকে দশমী- প্রতিটি দিনেই অতীতে ছোঁয়া পাওয়া যাবে, এমন একচিলতে আনন্দ খুঁজে নেওয়ার।

অপু বিশ্বাস

ঢাকাই সিনেমার নায়িকা অপু বিশ্বাস সবাইকে শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানিয়ে উৎসবের এই ক’দিন সব দুশ্চিন্তা ঝেড়ে ফেলে মন খুলে আনন্দ করার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে পূজার আনন্দ-উদযাপনের ধরন কিছুটা বদলেছে, কিন্তু নিঃশেষ হয়নি। এখন দুর্গাপূজায় ষষ্ঠী থেকে দশমীর দিনগুলোয় বগুড়ার দিনগুলোর কথা মনে পড়ে। কী যে এক উচ্ছ্বাস, উল্লাসের ছিল সেই দিনগুলো- তা বলে শেষ করা যাবে না। অনেকে জানেন, বগুড়ায় আমার বেড়ে ওঠা। সেখানে ছোটবেলার শারদীয় উৎসবগুলোর আনন্দ ভাগাভাগি করে নিয়েছি বাবা-মা, কাকা-কাকিসহ অন্যান্য আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে। পূজার সময় আমরা সবাই একত্র হতাম। আমাদের বাড়ি উৎসবে মুখর হয়ে উঠত। নতুন জামা পরে ভোরবেলা প্রতিমা দেখতে যাওয়া, মায়ের ভোগের খাবার, সবার সঙ্গে মিলে হইহুল্লোড়- সবকিছু মিলে রঙিন হয়ে উঠত পূজা। আর মহাষ্টমীর ভোগের থালা হাতে পাওয়া ছিল অন্যরকম উন্মাদনার। ভোগের থালার খিচুড়ি, লাবড়া আর নানা পদের ভাজা আমার কাছে ছিল অমৃত।

পূজা চেরী

বন্ধুবান্ধব ও পরিবার নিয়ে বেশ আনন্দেই কাটছে তার পূজা। কিন্তু তার মন খারাপ। তিনি বলেন, ‘পূজা এলো, অথচ মা নেই। তাকে খুব মিস করি, বিশেষ করে এই আনন্দময় মুহূর্তে বেশি মনে পড়ছে। মা থাকলে পূজায় আনন্দটা সত্যি অন্যরকম হতো।’ তিনি আরও জানান, খুলনায় তার গ্রামের বাড়ি হলেও বেড়ে উঠেছেন রাজধানীর হাজারীবাগে। ধুলোমাখা শৈশবের দিনগুলো ওই মাটিতেই কেটেছে। শারদীয় উৎসবের দিনগুলোয় নানারকম পোশাক পরে বের হতেন। উপহারও পেতেন অনেক, যা অন্যরকম এক ভালো লাগায় মনকে ভরিয়ে দিত। ছোটবেলায় ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফিরতেন তাঁতীবাজার, শাঁখারীবাজারসহ পুরান ঢাকার বিভিন্ন মন্দির ঘুরে বেড়িয়ে। আত্মীয়স্বজনরা বাসায় আসত। তাদের নিয়ে একসঙ্গে মুখরোচক খাবার খেতেন। এভাবেই মহালয়া থেকে বিসর্জনের প্রতিটি দিন কাটত আনন্দ-উল্লাসে।