ফ্রান্সজুড়ে তীব্র হয়ে উঠেছে বিক্ষোভ। স্কুলের জরাজীর্ণ ভবন, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষক সংকট এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে দেশটির বিভিন্ন শহরে রাস্তায় নেমেছেন শিক্ষার্থী, শ্রমিক ইউনিয়নের কর্মী ও বিভিন্ন অধিকারকর্মী। বিক্ষোভ দমনে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করেছে। দেশজুড়ে চলমান এসব বিক্ষোভের মধ্যে ১৬০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। রাজধানী প্যারিসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পাশাপাশি লিয়ঁ শহরেও অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার ফ্রান্সজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভের আশঙ্কার মধ্যে রাজধানী প্যারিসের প্লাস দে লা রিপাবলিক এলাকায় জড়ো হন হাজার হাজার শিক্ষার্থী, শ্রমিক ইউনিয়নের কর্মী ও বিভিন্ন আন্দোলনকারী সংগঠনের সদস্য। সেখান থেকে শুরু হওয়া মিছিলে অংশ নেন কয়েক হাজার মানুষ। রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ। একই সময়ে দেশের অন্যান্য শহরেও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়।
বিক্ষোভকারীদের একাংশের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের সময় বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে। প্যারিসের রিপাবলিক চত্বর থেকে বুলেভার্ড ধরে এগিয়ে যাওয়া বিক্ষোভকারীদের পিছু হটাতে কয়েকশ তরুণের ওপর জলকামান প্রয়োগ করা হয়। দেশের বিভিন্ন শহরেও পুলিশ কাদানে গ্যাস ছুড়েছে।
বিক্ষোভ দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভের মধ্যে নিজেদের কর্মকর্তাদের পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে প্যারিস পুলিশ প্রিফেকচার। এই সংস্থাটি প্যারিস পুলিশ বাহিনী, জরুরি সেবাসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক বিভাগের তদারক করে। বিক্ষোভকারীদের একাংশকে ‘শত্রুভাবাপন্ন’ আখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছে সংস্থাটি।
ফ্রান্সের সরকার শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে। একটি শহরতলির উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষকদের ধর্মঘটের প্রতি সংহতি জানিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলন পরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দুরবস্থা ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিরুদ্ধে বৃহত্তর প্রতিবাদে রূপ নেয়। ধীরে ধীরে তা জাতীয় সংকটে পরিণত হয় এবং আন্তর্জাতিক মনোযোগ কাড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এ পরিস্থিতির প্রতি মনোযোগ দিয়েছেন।
আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রধান অভিযোগ, অনেক বিদ্যালয়ের ভবন জরাজীর্ণ এবং শ্রেণিকক্ষগুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ধারণক্ষমতার তুলনায় বেশি। পাশাপাশি রয়েছে শিক্ষক সংকট। এসব সমস্যার সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মানুষের ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম 























