রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মন্দিরে যাওয়ার পথে ট্রাকের চাপায় নিহত ১২

ভারতের মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে শীতলা মাতা মন্দিরের কাছে তীর্থযাত্রীদের ওপর ট্রাক উঠে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২৭ জন। এনডিটিভি লিখেছে, শনিবার গভীর রাতে এ দুর্ঘটনার পর আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। ধানবোঝাই ট্রাকটি পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে মন্দিরের বাইরের দেয়াল ও ফটকে ধাক্কা দেয়। গোয়ালিয়রের জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপার ধর্মবীর সিং জানান, রাত দেড়টার দিকে ছিনোরের দিক থেকে আসা ট্রাকটি ভারী যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকা একটি খাড়া ঢালু রাস্তায় নিয়ন্ত্রণ হারায়।

পুলিশ সুপার বলেন, “এটি একটি মর্মান্তিক ঘটনা, বিপুলসংখ্যক তীর্থযাত্রী শীতলা মাতা মন্দিরে যাচ্ছিলেন। ছিনোরের দিক থেকে আসা সড়কটিতে একটি খাড়া ঢাল রয়েছে, যেখানে ভারী যান চলাচল নিষিদ্ধ। রাত দেড়টার দিকে ধানবোঝাই একটি ট্রাককে সেখানে থামানো হয়েছিল। “সেটি পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিচে নেমে আসে এবং মন্দিরের বাইরের দেয়াল ও ফটকে ধাক্কা দেয়। সড়কে থাকা ভক্তরা ট্রাকটির নিচে চাপা পড়েন, যার ফলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।” ধর্মবীর সিং জানান, দুর্ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনরত দুই পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসা চলছে। পুলিশ সুপারের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর ৩৯ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ১২ জন মারা গেছেন। পাঁচ থেকে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বাকিরা সামান্য আহত হয়েছেন। গোয়ালিয়রের জেলা প্রশাসক রুচিকা চৌহান জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই অ্যাম্বুলেন্সসহ উদ্ধারকারী যানবাহন পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ২৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি। রুচিকা বলেন, “নবরাত্রির সময় ওই সড়কে একটি প্রতিবন্ধক ও পুলিশের চেকপোস্ট ছিল। তাহলে গাড়িটি কীভাবে ভেতরে ঢুকল, তা তদন্তের বিষয়।

” ট্রাকটি কীভাবে ব্যারিকেড পার হলো, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ট্রাকটির যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কি না, তা পরীক্ষা করতে আঞ্চলিক পরিবহন দপ্তরের (আরটিও) একটি দল পাঠানো হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক। দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার বিষয়ে তিনি বলেন, চিকিৎসকরা তাদের সিটি স্ক্যান ও এক্সরে করছেন। ঘটনাস্থলে থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “এ ঘটনা রাত ১টার দিকে ঘটেছে। আমি কয়েকজনকে ঘটনাস্থলেই মারা যেতে দেখেছি। ট্রাকটিতে অতিরিক্ত মালবোঝাই ছিল। “সেটি হঠাৎ এসে কয়েকটি দোকান ও মানুষের ওপর উঠে যায়। আমার ভাইও আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাস্থলে এখনো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বিরাজ করছে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

মন্দিরে যাওয়ার পথে ট্রাকের চাপায় নিহত ১২

প্রকাশিত সময় : ০১:২২:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে শীতলা মাতা মন্দিরের কাছে তীর্থযাত্রীদের ওপর ট্রাক উঠে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২৭ জন। এনডিটিভি লিখেছে, শনিবার গভীর রাতে এ দুর্ঘটনার পর আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। ধানবোঝাই ট্রাকটি পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে মন্দিরের বাইরের দেয়াল ও ফটকে ধাক্কা দেয়। গোয়ালিয়রের জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপার ধর্মবীর সিং জানান, রাত দেড়টার দিকে ছিনোরের দিক থেকে আসা ট্রাকটি ভারী যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকা একটি খাড়া ঢালু রাস্তায় নিয়ন্ত্রণ হারায়।

পুলিশ সুপার বলেন, “এটি একটি মর্মান্তিক ঘটনা, বিপুলসংখ্যক তীর্থযাত্রী শীতলা মাতা মন্দিরে যাচ্ছিলেন। ছিনোরের দিক থেকে আসা সড়কটিতে একটি খাড়া ঢাল রয়েছে, যেখানে ভারী যান চলাচল নিষিদ্ধ। রাত দেড়টার দিকে ধানবোঝাই একটি ট্রাককে সেখানে থামানো হয়েছিল। “সেটি পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিচে নেমে আসে এবং মন্দিরের বাইরের দেয়াল ও ফটকে ধাক্কা দেয়। সড়কে থাকা ভক্তরা ট্রাকটির নিচে চাপা পড়েন, যার ফলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।” ধর্মবীর সিং জানান, দুর্ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনরত দুই পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসা চলছে। পুলিশ সুপারের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর ৩৯ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ১২ জন মারা গেছেন। পাঁচ থেকে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বাকিরা সামান্য আহত হয়েছেন। গোয়ালিয়রের জেলা প্রশাসক রুচিকা চৌহান জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই অ্যাম্বুলেন্সসহ উদ্ধারকারী যানবাহন পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ২৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি। রুচিকা বলেন, “নবরাত্রির সময় ওই সড়কে একটি প্রতিবন্ধক ও পুলিশের চেকপোস্ট ছিল। তাহলে গাড়িটি কীভাবে ভেতরে ঢুকল, তা তদন্তের বিষয়।

” ট্রাকটি কীভাবে ব্যারিকেড পার হলো, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ট্রাকটির যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কি না, তা পরীক্ষা করতে আঞ্চলিক পরিবহন দপ্তরের (আরটিও) একটি দল পাঠানো হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক। দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার বিষয়ে তিনি বলেন, চিকিৎসকরা তাদের সিটি স্ক্যান ও এক্সরে করছেন। ঘটনাস্থলে থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “এ ঘটনা রাত ১টার দিকে ঘটেছে। আমি কয়েকজনকে ঘটনাস্থলেই মারা যেতে দেখেছি। ট্রাকটিতে অতিরিক্ত মালবোঝাই ছিল। “সেটি হঠাৎ এসে কয়েকটি দোকান ও মানুষের ওপর উঠে যায়। আমার ভাইও আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাস্থলে এখনো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বিরাজ করছে।”