সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্রেপ্তার এড়াতে প্রতিদিন ঠিকানা বদল, শ্রদ্ধাকে নিয়ে বিপাকে পুলিশ

ক্যাফে মালিক শিবা শর্মার মৃত্যুর ঘটনায় আট দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের মডেল ও সমাজমাধ্যমের পরিচিত মুখ শ্রদ্ধা দুবেকে। তাঁকে ধরতে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। এরই মধ্যে শ্রদ্ধা ও তাঁর বোন রশ্মি নেপালে পালিয়ে গেছেন বলে সন্দেহ জোরালো হয়েছে। নেপাল সীমান্তে সিসিটিভি ফুটেজেও তাঁদের দেখা গেছে বলে দাবি তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের।

তদন্তকারীদের ধারণা, গ্রেপ্তার এড়াতে শ্রদ্ধা ও তাঁর বোন রশ্মি নিয়মিত অবস্থান পরিবর্তন করছেন। তাঁদের মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছানোর আগেই তাঁরা অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। এতে তাঁদের গ্রেপ্তার করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, শ্রদ্ধাদের অবস্থান শনাক্ত করতে ভারতের তিনটি ও নেপালের একটি মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে। সীমান্ত এলাকার কেউ এবং মোবাইল পরিষেবা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁদের সহযোগিতা করছেন কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

দুই দিন আগে শ্রদ্ধাদের দুটি ছবি প্রকাশ্যে আসে। ছবিগুলো নেপালের বলে দাবি করা হয়। এর আগে নেপাল সীমান্তবর্তী ভারতের উত্তরপ্রদেশের বহরাইচ জেলার রূপাইডিহি এলাকার কাছে শ্রদ্ধাদের ব্যবহৃত গাড়ির সন্ধান পাওয়া যায়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীদের সন্দেহ, তাঁরা নেপালে আশ্রয় নিয়েছেন।

পরে নেপাল সীমান্তের একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে শ্রদ্ধা, তাঁর বোন রশ্মি এবং গাড়িচালক আদিলকে একটি টোটোতে দেখা গেছে বলে জানা যায়। এরপর থেকে নেপালে তাঁদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে লখনউ পুলিশ। এ কাজে নেপাল পুলিশের সহযোগিতাও নেওয়া হচ্ছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে আট দিন পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শিবার পরিবার। তাঁদের প্রশ্ন, এত দিনেও কেন শ্রদ্ধা ও তাঁর সহযোগীদের আইনের আওতায় আনা যাচ্ছে না।

গত ৯ অক্টোবর শ্রদ্ধা যে আবাসনে থাকতেন, সেখানকার চারতলা থেকে পড়ে শিবা শর্মার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। তবে শিবার মায়ের দাবি, এটি দুর্ঘটনা নয়, বরং তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় শ্রদ্ধা, তাঁর বোন রশ্মি এবং গাড়িচালক আদিলের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ তুলেছে পরিবার। ঘটনার পর থেকেই এই তিনজন পলাতক রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফল এখনো জানা যায়নি।

সূত্র: আনন্দবাজার

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

স্থানীয় নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরাও অংশ নিতে পারবে: আইনমন্ত্রী

গ্রেপ্তার এড়াতে প্রতিদিন ঠিকানা বদল, শ্রদ্ধাকে নিয়ে বিপাকে পুলিশ

প্রকাশিত সময় : ১২:৫১:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

ক্যাফে মালিক শিবা শর্মার মৃত্যুর ঘটনায় আট দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের মডেল ও সমাজমাধ্যমের পরিচিত মুখ শ্রদ্ধা দুবেকে। তাঁকে ধরতে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। এরই মধ্যে শ্রদ্ধা ও তাঁর বোন রশ্মি নেপালে পালিয়ে গেছেন বলে সন্দেহ জোরালো হয়েছে। নেপাল সীমান্তে সিসিটিভি ফুটেজেও তাঁদের দেখা গেছে বলে দাবি তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের।

তদন্তকারীদের ধারণা, গ্রেপ্তার এড়াতে শ্রদ্ধা ও তাঁর বোন রশ্মি নিয়মিত অবস্থান পরিবর্তন করছেন। তাঁদের মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছানোর আগেই তাঁরা অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। এতে তাঁদের গ্রেপ্তার করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, শ্রদ্ধাদের অবস্থান শনাক্ত করতে ভারতের তিনটি ও নেপালের একটি মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে। সীমান্ত এলাকার কেউ এবং মোবাইল পরিষেবা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁদের সহযোগিতা করছেন কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

দুই দিন আগে শ্রদ্ধাদের দুটি ছবি প্রকাশ্যে আসে। ছবিগুলো নেপালের বলে দাবি করা হয়। এর আগে নেপাল সীমান্তবর্তী ভারতের উত্তরপ্রদেশের বহরাইচ জেলার রূপাইডিহি এলাকার কাছে শ্রদ্ধাদের ব্যবহৃত গাড়ির সন্ধান পাওয়া যায়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীদের সন্দেহ, তাঁরা নেপালে আশ্রয় নিয়েছেন।

পরে নেপাল সীমান্তের একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে শ্রদ্ধা, তাঁর বোন রশ্মি এবং গাড়িচালক আদিলকে একটি টোটোতে দেখা গেছে বলে জানা যায়। এরপর থেকে নেপালে তাঁদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে লখনউ পুলিশ। এ কাজে নেপাল পুলিশের সহযোগিতাও নেওয়া হচ্ছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে আট দিন পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শিবার পরিবার। তাঁদের প্রশ্ন, এত দিনেও কেন শ্রদ্ধা ও তাঁর সহযোগীদের আইনের আওতায় আনা যাচ্ছে না।

গত ৯ অক্টোবর শ্রদ্ধা যে আবাসনে থাকতেন, সেখানকার চারতলা থেকে পড়ে শিবা শর্মার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। তবে শিবার মায়ের দাবি, এটি দুর্ঘটনা নয়, বরং তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় শ্রদ্ধা, তাঁর বোন রশ্মি এবং গাড়িচালক আদিলের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ তুলেছে পরিবার। ঘটনার পর থেকেই এই তিনজন পলাতক রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফল এখনো জানা যায়নি।

সূত্র: আনন্দবাজার