বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় তার বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
সূত্র জানায়, মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের একটি বাসা থেকে দ্বীপকে হেফাজতে নেওয়া হয়। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা।
এর আগে দ্বী জানিয়েছিলেন, ২৭ অক্টোবর রাতে তাহসিফের মোটরসাইকেলে সমস্যা দেখা দিলে তারা প্রথমে একটি ওয়ার্কশপে যান। পরে একসঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে আলাদা হয়ে যান তারা।
দ্বীপের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত ৯টার দিকে তারা উত্তরার একটি রেস্তোরাঁয় গিয়ে খাবার খান। এরপর রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে উত্তরার হাউস বিল্ডিং এলাকায় পৌঁছান। সেখানে দ্বীপ নিজের বাসার উদ্দেশ্যে ডান দিকে চলে যান। আর তাহসিফ অন্য একটি কাজের কথা বলে বাম দিকে চলে যান। তাহসিফের মরদেহের ময়নাতদন্তের সময়ও দ্বীপ মর্গে উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, ২৭ অক্টোবর তাহসিফ উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরে নিজের বাসা থেকে তার জুনিয়র বন্ধু দ্বীপের ডাকে নিচে নামেন। পরে সিসিটিভি ফুটেজে তাদের দুজনকে একসঙ্গে মোটরসাইকেলে চলে যেতে দেখা যায়।
ওই দিন রাত ১টা ৩৫ মিনিটে তাহসিফ তার মাকে ‘আম্মু, আমি আসছি’ লিখে একটি বার্তা পাঠান। এরপর থেকে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।
পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেলে উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিখোঁজ হওয়ার রাতে তাহসিফের সঙ্গে সর্বশেষ দেখা হওয়া ব্যক্তি দ্বীপ। তার দেওয়া তথ্য যাচাই এবং মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনের অংশ হিসেবে পিবিআই তাকে হেফাজতে নিয়েছে বলে জানা গেছে।
তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিমের দাবি, এটি কোনো সাধারণ মৃত্যু বা আত্মহত্যার ঘটনা নয়; বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের সময় হেলিকপ্টারে ওঠার ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গে তাহসিফের সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জোর আলোচনা রয়েছে।

ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 






















