শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে না

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আগামী ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপ পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও ওই দিন থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে না। সরকারি অনুমোদন ও দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। তবে ১ নভেম্বর থেকেই সেন্টমার্টিন ভ্রমণে আগ্রহীদের নিবন্ধনের জন্য বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ওয়েবসাইট চালু করা হবে।

বৃহস্পতিবার বিকালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের শহীদ এ টি এম জাফর আলম সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা শেষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর জানান, জাহাজ চলাচলের আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষ করতে ৩ থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

সম্প্রতি কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেকে টুপটুপ রিসোর্ট এবং সুগন্ধা পয়েন্টের দি সি প্রিন্সেস হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর পর্যটন ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

সভা শেষে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, পরিবেশ ও প্রতিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেন্টমার্টিন ভ্রমণে সরকারের নির্ধারিত শর্তগুলো বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা পাওয়ার ভিত্তিতে জাহাজ চলাচলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, দ্বীপ ভ্রমণে সরকারের নির্ধারিত শর্তের কোনো ব্যত্যয় যেন না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিজম বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে।

স্কোয়াবের সাধারণ সম্পাদক হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর জানান, চলতি মৌসুমে সেন্টমার্টিন রুটে চলাচলের জন্য নৌপরিবহন অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে ইতোমধ্যে তিনটি জাহাজের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আরও সাতটি জাহাজের অনুমোদন চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া জাহাজগুলো চলাচলের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

তিনি জানান, এ বছর থেকে সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার অনুমোদন পাওয়া তিনটি জাহাজ পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পেলেও আরও কিছু দাপ্তরিক প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে।

বাহাদুর বলেন, অবশিষ্ট কার্যক্রম শেষ করতে ৩ থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

সভায় কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহানের সভাপতিত্বে ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার কার্যালয়ের পুলিশ সুপার নিশাত এঞ্জেলা, ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবদূত মজুমদার, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রশাসনের প্রতিনিধি, পর্যটনসংশ্লিষ্ট সংগঠন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে না

প্রকাশিত সময় : ১১:৫৫:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আগামী ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপ পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও ওই দিন থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে না। সরকারি অনুমোদন ও দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। তবে ১ নভেম্বর থেকেই সেন্টমার্টিন ভ্রমণে আগ্রহীদের নিবন্ধনের জন্য বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ওয়েবসাইট চালু করা হবে।

বৃহস্পতিবার বিকালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের শহীদ এ টি এম জাফর আলম সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা শেষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর জানান, জাহাজ চলাচলের আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষ করতে ৩ থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

সম্প্রতি কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেকে টুপটুপ রিসোর্ট এবং সুগন্ধা পয়েন্টের দি সি প্রিন্সেস হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর পর্যটন ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

সভা শেষে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, পরিবেশ ও প্রতিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেন্টমার্টিন ভ্রমণে সরকারের নির্ধারিত শর্তগুলো বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা পাওয়ার ভিত্তিতে জাহাজ চলাচলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, দ্বীপ ভ্রমণে সরকারের নির্ধারিত শর্তের কোনো ব্যত্যয় যেন না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিজম বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে।

স্কোয়াবের সাধারণ সম্পাদক হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর জানান, চলতি মৌসুমে সেন্টমার্টিন রুটে চলাচলের জন্য নৌপরিবহন অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে ইতোমধ্যে তিনটি জাহাজের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আরও সাতটি জাহাজের অনুমোদন চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া জাহাজগুলো চলাচলের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

তিনি জানান, এ বছর থেকে সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার অনুমোদন পাওয়া তিনটি জাহাজ পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পেলেও আরও কিছু দাপ্তরিক প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে।

বাহাদুর বলেন, অবশিষ্ট কার্যক্রম শেষ করতে ৩ থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

সভায় কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহানের সভাপতিত্বে ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার কার্যালয়ের পুলিশ সুপার নিশাত এঞ্জেলা, ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবদূত মজুমদার, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রশাসনের প্রতিনিধি, পর্যটনসংশ্লিষ্ট সংগঠন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।