শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পারস্পরিক স্বার্থেই ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক এগিয়ে যাবে

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ককে সামনে এগিয়ে নিতে পারস্পরিক নির্ভরতা ও পারস্পরিক উপকারের বাস্তবতাই সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হয়ে থাকবে। অতীতের অভিন্ন ত্যাগ ও ভবিষ্যতের নতুন আকাক্সক্ষা দুই দেশের জনগণের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে তুলবে।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ওল্ড ইন্ডিয়া হাউসে ‘মৈত্রী দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা, সংস্কৃতিকর্মী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রণয় ভার্মা বলেন, ১৯৭১ সালে ভারতের জনগণ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামে পাশে দাঁড়িয়েছিল এবং একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ, অগ্রগামী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গঠনের পথচলায় ভারত সবসময় পাশে থাকবে। তিনি স্মরণ করেন, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে প্রথম স্বীকৃতি দেয় ভারত, যা দুই দেশের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক। ভারতের হাইকমিশনার আরও বলেন, বাংলাদেশ মুক্ত হওয়ার দশ দিন আগেই ভারতের এই স্বীকৃতি আসে, যা ইতিহাসে এক অবিচ্ছেদ্য মুহূর্ত হয়ে আছে। এই দিনটি দুই দেশের গভীর সহমর্মিতা, বিশ্বাস এবং মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দিন। এটি একই সঙ্গে দুই জাতির দীর্ঘকালীন সম্পর্কের ভিত্তিকে দৃঢ়ভাবে স্মরণ করিয়ে দেয়।

প্রণয় ভার্মা বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বর্তমান সম্পর্ক বহুমাত্রিক এবং একে অপরের উন্নয়নকে পরিপূরক করে। দুই দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ আকাক্সক্ষা নতুন সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করছে। সীমান্ত পেরিয়ে তা বিদ্যুৎ, জ্বালানি, বাণিজ্য ও পরিবহনে দুই দেশের মানুষের কল্যাণ ও যৌথ সমৃদ্ধি নিশ্চিত করবে। আজ আমাদের সমাজ ও অর্থনীতি এতটাই ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত যে, আমরা পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। কেউ একা এগোতে পারি না। তিনি আরও বলেন, ভূগোলের নৈকট্যকে নতুন সম্ভাবনায় রূপ দিতে ভারত কাজ করছে এবং বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদি, স্থিতিশীল, ইতিবাচক ও সমতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাভিত্তিক রাখতে চায়।

অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেয় বাংলাদেশের শিল্পীরা। নাট্য, নৃত্য এবং বিখ্যাত ব্যান্ড শিরোনামহীনের সংগীত পরিবেশনায় দুই দেশের সাংস্কৃতিক বন্ধনের গভীরতা ফুটে ওঠে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

বন্যায় খামার তলিয়ে ভেসে গেল ৯০০ সাপ, আতঙ্কে লোকালয়

পারস্পরিক স্বার্থেই ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক এগিয়ে যাবে

প্রকাশিত সময় : ১১:২৭:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ককে সামনে এগিয়ে নিতে পারস্পরিক নির্ভরতা ও পারস্পরিক উপকারের বাস্তবতাই সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হয়ে থাকবে। অতীতের অভিন্ন ত্যাগ ও ভবিষ্যতের নতুন আকাক্সক্ষা দুই দেশের জনগণের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে তুলবে।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ওল্ড ইন্ডিয়া হাউসে ‘মৈত্রী দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা, সংস্কৃতিকর্মী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রণয় ভার্মা বলেন, ১৯৭১ সালে ভারতের জনগণ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামে পাশে দাঁড়িয়েছিল এবং একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ, অগ্রগামী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গঠনের পথচলায় ভারত সবসময় পাশে থাকবে। তিনি স্মরণ করেন, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে প্রথম স্বীকৃতি দেয় ভারত, যা দুই দেশের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক। ভারতের হাইকমিশনার আরও বলেন, বাংলাদেশ মুক্ত হওয়ার দশ দিন আগেই ভারতের এই স্বীকৃতি আসে, যা ইতিহাসে এক অবিচ্ছেদ্য মুহূর্ত হয়ে আছে। এই দিনটি দুই দেশের গভীর সহমর্মিতা, বিশ্বাস এবং মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দিন। এটি একই সঙ্গে দুই জাতির দীর্ঘকালীন সম্পর্কের ভিত্তিকে দৃঢ়ভাবে স্মরণ করিয়ে দেয়।

প্রণয় ভার্মা বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বর্তমান সম্পর্ক বহুমাত্রিক এবং একে অপরের উন্নয়নকে পরিপূরক করে। দুই দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ আকাক্সক্ষা নতুন সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করছে। সীমান্ত পেরিয়ে তা বিদ্যুৎ, জ্বালানি, বাণিজ্য ও পরিবহনে দুই দেশের মানুষের কল্যাণ ও যৌথ সমৃদ্ধি নিশ্চিত করবে। আজ আমাদের সমাজ ও অর্থনীতি এতটাই ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত যে, আমরা পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। কেউ একা এগোতে পারি না। তিনি আরও বলেন, ভূগোলের নৈকট্যকে নতুন সম্ভাবনায় রূপ দিতে ভারত কাজ করছে এবং বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদি, স্থিতিশীল, ইতিবাচক ও সমতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাভিত্তিক রাখতে চায়।

অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেয় বাংলাদেশের শিল্পীরা। নাট্য, নৃত্য এবং বিখ্যাত ব্যান্ড শিরোনামহীনের সংগীত পরিবেশনায় দুই দেশের সাংস্কৃতিক বন্ধনের গভীরতা ফুটে ওঠে।