এ মাসের মধ্যে হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের মুখোশ উন্মোচন করা হবে বলে জানিয়েছেন নৌ-পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার এম সাখাওয়াত হোসেন।
আততায়ীর গুলিতে নিহত ওসমান হাদির স্মরণে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার লঞ্চঘাটের নামকরণ অনুষ্ঠানে এ কথা জানান তিনি। নামফলক উন্মোচনের মাধ্যমে এই নামকরণের উদ্বোধন করেন এম সাখাওয়াত হোসেন।
নৌ-পরিবহন উপদেষ্টা বলেন, ‘শহিদ ওসমান হাদির স্মরণে তার নিজ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এই লঞ্চঘাটের নামকরণ করা হয়েছে। ওসমান হাদি ছিলেন একজন বিপ্লবী- আর বিপ্লবীদের কখনো মৃত্যু হয় না।’আমাদের সময়
তিনি আরও বলেন, ‘হাদির হত্যাকারীরা বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছে। তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। একই সঙ্গে এ মাসের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের মুখোশ উন্মোচন করা হবে বলেও জানান তিনি। সরকার এ বিষয়ে খুব সিরিয়াস। প্বার্সবর্তী দেশে যারা পালিয়ে গেছে তাদের গ্রেপ্তারের প্রচেষ্টা চলছে।’
অনুষ্ঠানে ওসমান হাদির বোন মাসুমা আক্তার বলেন, ‘ওসমান হাদি ইনসাফ কায়েম করতে জীবন দিয়েছেন। তাকে আপনাদের বাঁচিয়ে রাখতে হলে, তার আদর্শ বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরা চাই ওসমান হাদি বেঁচে থাকুক সবার মাঝে। কোনো প্রাপ্তি নয়, ইনসাফ চাই। ভাই হত্যার বিচার চাই। সরকার যদি ভাই হত্যার বিচার করতে না পারে তবে তারা চলে যাক। তাদের থাকার কোনো অধিকার নেই। ওসমান হাদির মাথায় গুলির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব শেষ করে দিয়েছে, হুমকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ওসমান বেঁচে থাকলে দেশে চাঁদাবাজি হতো না। ওসমান দেশের নয় বিশ্বের মজলুমদের ওসমান হয়েছে। মধ্যবর্তী সরকার তাকে অনেক প্রলোভন দেখিয়েছে। তিনি ইনসাফের দেশ কায়েম করতে চেয়েছিলো। ভারতের আগ্রাসনবিরোধী কথা বলেছে। ভারত,আওয়ামী লীগ, বাম সংগঠনসহ দেশিয় বহু রাজনৈতিক এজেন্ট ওসমান হত্যা করতে কাজ করছে। এই মধ্যবর্তী সরকার আজকে বিপ্লবী সরকার হওয়ার কথা ছিল। কেন তারা হাসিনার দোসর চুপ্পুর হাতে শপথ পড়েছে? আওয়ামী দোসররা এখনও সর্বত্র বিরাজ করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ওসমানের নামই জানে না! তিনি যদি বয়সের ভারে তার নাম না জানে, তবে তিনি কিভাবে এমপি নির্বাচন করবে? তবে তাকে বাদ দেওয়া উচিত।’
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনন উদ্দিন, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, শহিদ ওসমান হাদির বোন মাসুমা আক্তার, ভগ্নিপতি আমির হোসেনসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এ সময় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। তারা দ্রুত হাদির হত্যাকারীদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের দাবি জানান। পাশাপাশি এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে যারা মাস্টারমাইন্ড হিসেবে জড়িত, তাদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান স্থানীয়রা।
শহিদ ওসমান হাদির নামে লঞ্চঘাটের নামকরণকে এলাকাবাসী শ্রদ্ধা ও সম্মানের প্রতীক হিসেবে দেখছেন।

ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 
























