মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করার ঘোষণা’

বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহসিন রশীদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ইউনূসের কর্মকাণ্ড কেবল সংবিধান লঙ্ঘনেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা রাষ্ট্রদ্রোহের পর্যায়ে পড়ে। বর্তমান সরকার এ বিষয়ে পদক্ষেপ না নিলে তিনি নিজেই আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সিনিয়র সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না–র ইউটিউব চ্যানেল ‘মানচিত্র’-এ অংশ নিয়ে মোহসিন রশীদ এসব কথা বলেন

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পদ শূন্য হওয়ার পর রাষ্ট্রপতিই একমাত্র সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি ছিলেন। সেই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে যথাযথ যোগাযোগ না রাখা, নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাকে অবহিত না করা এবং সাংবিধানিক শিষ্টাচার উপেক্ষা করা গুরুতর লঙ্ঘন। তার ভাষায়, “এটি শুধু সংবিধান লঙ্ঘন নয়, ইটস ট্রিজন।”

মোহসিন রশীদ অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রপতিকে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে দেওয়া হয়নি। তাকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে মানসিক চাপে রাখা হয়েছে এবং রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো নথিতে সই করানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। রাষ্ট্রপতি সহযোগিতা না করলে রাষ্ট্রে অচলাবস্থা সৃষ্টি হতে পারত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রতীক—তাকে যথাযথ সম্মান না দেখানো রাষ্ট্রের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার শামিল বলেও উল্লেখ করেন।

তিনি আরও দাবি করেন, একজন সাবেক উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতিকে ‘চোর’ আখ্যা দিয়েছিলেন—যার হাতে শপথ নেওয়া হয়েছে তাকেই চোর বলা হয়েছে। প্রেস উইং অপসারণ, বঙ্গভবন ঘেরাও এবং রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের চেষ্টাকে তিনি রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচারবিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেন। এসব ঘটনার সঙ্গে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সম্পৃক্ততা বা নীরব সমর্থন ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি বা কমিশন গঠনের দাবি জানান তিনি।

ইউনূসের নেতৃত্বাধীন উপদেষ্টা পরিষদের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধেও তদন্তের আহ্বান জানান মোহসিন রশীদ। তিনি বলেন, রাষ্ট্র কোনো খেলার বিষয় নয়; রাষ্ট্রের ক্ষতি হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।

সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ চ্যালেঞ্জ করার প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি আদালতে গিয়েছেন এবং রায়ের সার্টিফায়েড কপির জন্য আবেদন করেছেন। রায় হাতে পেলে তিনি রিভিউ করবেন বলেও জানান। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো অবৈধ বা অসাংবিধানিক অন্তর্বর্তীকালীন সরকার না আসে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সরকার যদি কোনো তদন্ত কমিটি গঠন না করে, তবে তিনি নিজেই নোটিশ দিয়ে মামলার উদ্যোগ নেবেন এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে পক্ষভুক্ত করবেন বলেও ঘোষণা দেন মোহসিন রশীদ।বিডি২৪লাইভ ডট কম’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

‘ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করার ঘোষণা’

প্রকাশিত সময় : ১১:২৮:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহসিন রশীদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ইউনূসের কর্মকাণ্ড কেবল সংবিধান লঙ্ঘনেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা রাষ্ট্রদ্রোহের পর্যায়ে পড়ে। বর্তমান সরকার এ বিষয়ে পদক্ষেপ না নিলে তিনি নিজেই আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সিনিয়র সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না–র ইউটিউব চ্যানেল ‘মানচিত্র’-এ অংশ নিয়ে মোহসিন রশীদ এসব কথা বলেন

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পদ শূন্য হওয়ার পর রাষ্ট্রপতিই একমাত্র সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি ছিলেন। সেই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে যথাযথ যোগাযোগ না রাখা, নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাকে অবহিত না করা এবং সাংবিধানিক শিষ্টাচার উপেক্ষা করা গুরুতর লঙ্ঘন। তার ভাষায়, “এটি শুধু সংবিধান লঙ্ঘন নয়, ইটস ট্রিজন।”

মোহসিন রশীদ অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রপতিকে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে দেওয়া হয়নি। তাকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে মানসিক চাপে রাখা হয়েছে এবং রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো নথিতে সই করানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। রাষ্ট্রপতি সহযোগিতা না করলে রাষ্ট্রে অচলাবস্থা সৃষ্টি হতে পারত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রতীক—তাকে যথাযথ সম্মান না দেখানো রাষ্ট্রের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার শামিল বলেও উল্লেখ করেন।

তিনি আরও দাবি করেন, একজন সাবেক উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতিকে ‘চোর’ আখ্যা দিয়েছিলেন—যার হাতে শপথ নেওয়া হয়েছে তাকেই চোর বলা হয়েছে। প্রেস উইং অপসারণ, বঙ্গভবন ঘেরাও এবং রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের চেষ্টাকে তিনি রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচারবিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেন। এসব ঘটনার সঙ্গে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সম্পৃক্ততা বা নীরব সমর্থন ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি বা কমিশন গঠনের দাবি জানান তিনি।

ইউনূসের নেতৃত্বাধীন উপদেষ্টা পরিষদের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধেও তদন্তের আহ্বান জানান মোহসিন রশীদ। তিনি বলেন, রাষ্ট্র কোনো খেলার বিষয় নয়; রাষ্ট্রের ক্ষতি হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।

সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ চ্যালেঞ্জ করার প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি আদালতে গিয়েছেন এবং রায়ের সার্টিফায়েড কপির জন্য আবেদন করেছেন। রায় হাতে পেলে তিনি রিভিউ করবেন বলেও জানান। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো অবৈধ বা অসাংবিধানিক অন্তর্বর্তীকালীন সরকার না আসে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সরকার যদি কোনো তদন্ত কমিটি গঠন না করে, তবে তিনি নিজেই নোটিশ দিয়ে মামলার উদ্যোগ নেবেন এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে পক্ষভুক্ত করবেন বলেও ঘোষণা দেন মোহসিন রশীদ।বিডি২৪লাইভ ডট কম’