বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি সরকারের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি সরকারের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) এর সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে এ অবস্থান ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি তার সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।”

প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, “তার সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। তিনি নিয়মিত পত্রিকা পড়েন এবং টেলিভিশন দেখেন। গণমাধ্যমে দেশের যে চিত্র উঠে আসে, সে বিষয়ে তিনি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।”

অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী ধৈর্য সহকারে নোয়াব সদস্যদের বক্তব্য শোনেন। নির্দিষ্ট সময় পরপর নোয়াব সদস্যদের সঙ্গে এ ধরনের মতবিনিময়ের আয়োজন করা হবে বলেও জানান।

আতিকুর রহমান রুমন জানান, বৈঠকের শুরুতে নোয়াবের সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বক্তব্য রাখেন। তিনি সংবাদপত্র শিল্পের বিদ্যমান সমস্যা তুলে ধরে সেগুলোর সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন।

নোয়াব সদস্যরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। তারা ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের সময় সংবাদপত্রকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন। বর্তমানে এটি রুগ্ন শিল্পে পরিণত হয়েছে বলেও মন্তব্য করে নোয়াব।

বিগত সরকারগুলোর আমলের বিপুল সরকারি বিজ্ঞাপন বিল বকেয়া রয়েছে উল্লেখ করে এ বিষয়ে নোয়াব নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন বলেও জানান আতিকুর রহমান রুমন।

পাশাপাশি সরকারের সঙ্গে সংবাদপত্র মালিকদের নিয়মিত বৈঠকের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিন মাস পরপর এই ধরনের বৈঠক হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী।

অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহার এবং গ্রেফতারকৃত সাংবাদিকদের জামিনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ বিষয়ে তার সহযোগিতা চান নোয়াব সদস্যরা।

দুপুর ২টা ২০ মিনিটে বৈঠকটি শুরু হয়ে শেষ হয় বিকেল সাড়ে ৩টায়। প্রধানমন্ত্রী নোয়াব সদস্যদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। পরে তাদের সঙ্গে গ্রুপ ছবি তোলেন তিনি। বিএনপি সরকার গঠনের পর নোয়াবের সঙ্গে এটি প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।

বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন নোয়াবের সহ-সভাপতি এএসএম শহীদুল্লাহ খান, কোষাধ্যক্ষ আলতামাশ কবির, সদস্য এ কে আজাদ, দৈনিক প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, ইনকিলাব সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দীন, বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, করতোয়া সম্পাদক মোজাম্মেল হক, পূর্বকোণ সম্পাদক ডা. রমীজউদ্দিন চৌধুরী এবং ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস প্রকাশক নাসিম মনজুর।

বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন। খবর বাসসের।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

২৪ ঘণ্টায় হামে মৃত্যু ৩, আক্রান্ত ১১৫৯

সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি সরকারের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত সময় : ০৯:৪৩:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি সরকারের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) এর সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে এ অবস্থান ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি তার সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।”

প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, “তার সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। তিনি নিয়মিত পত্রিকা পড়েন এবং টেলিভিশন দেখেন। গণমাধ্যমে দেশের যে চিত্র উঠে আসে, সে বিষয়ে তিনি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।”

অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী ধৈর্য সহকারে নোয়াব সদস্যদের বক্তব্য শোনেন। নির্দিষ্ট সময় পরপর নোয়াব সদস্যদের সঙ্গে এ ধরনের মতবিনিময়ের আয়োজন করা হবে বলেও জানান।

আতিকুর রহমান রুমন জানান, বৈঠকের শুরুতে নোয়াবের সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বক্তব্য রাখেন। তিনি সংবাদপত্র শিল্পের বিদ্যমান সমস্যা তুলে ধরে সেগুলোর সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন।

নোয়াব সদস্যরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। তারা ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের সময় সংবাদপত্রকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন। বর্তমানে এটি রুগ্ন শিল্পে পরিণত হয়েছে বলেও মন্তব্য করে নোয়াব।

বিগত সরকারগুলোর আমলের বিপুল সরকারি বিজ্ঞাপন বিল বকেয়া রয়েছে উল্লেখ করে এ বিষয়ে নোয়াব নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন বলেও জানান আতিকুর রহমান রুমন।

পাশাপাশি সরকারের সঙ্গে সংবাদপত্র মালিকদের নিয়মিত বৈঠকের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিন মাস পরপর এই ধরনের বৈঠক হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী।

অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহার এবং গ্রেফতারকৃত সাংবাদিকদের জামিনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ বিষয়ে তার সহযোগিতা চান নোয়াব সদস্যরা।

দুপুর ২টা ২০ মিনিটে বৈঠকটি শুরু হয়ে শেষ হয় বিকেল সাড়ে ৩টায়। প্রধানমন্ত্রী নোয়াব সদস্যদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। পরে তাদের সঙ্গে গ্রুপ ছবি তোলেন তিনি। বিএনপি সরকার গঠনের পর নোয়াবের সঙ্গে এটি প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।

বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন নোয়াবের সহ-সভাপতি এএসএম শহীদুল্লাহ খান, কোষাধ্যক্ষ আলতামাশ কবির, সদস্য এ কে আজাদ, দৈনিক প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, ইনকিলাব সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দীন, বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, করতোয়া সম্পাদক মোজাম্মেল হক, পূর্বকোণ সম্পাদক ডা. রমীজউদ্দিন চৌধুরী এবং ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস প্রকাশক নাসিম মনজুর।

বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন। খবর বাসসের।