প্রকাশিত সময় :
১০:১৮:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
২০
মধ্যপ্রাচ্যের সম্প্রতিক যুদ্ধে সৌদি আরব ও কুয়েতে গোপনে ইরাকে ইরান-সমর্থিত আধাসামরিক গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। বুধবার (১৪ মে) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর ভূখণ্ডে হামলার জবাবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সুরক্ষার প্রতি আস্থা কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই হামলাগুলো ছিল স্বাধীন প্রতিক্রিয়া।
যুক্তরাষ্ট্রের বড় সামরিক ঘাঁটি থাকা সৌদি আরব ও কুয়েত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল অভিযানের জবাবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়। তবে ওই দেশগুলোর লক্ষ্য করে ছোড়া শত শত ড্রোনের উৎস ছিল ইরাক, যার মধ্যে দক্ষিণ ইরাকে সক্রিয় তেহরান-ঘনিষ্ঠ আধাসামরিক গোষ্ঠী খাতাইব হিজবুল্লাহও ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
রয়টার্স জানায়, এপ্রিলের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির আগে সৌদি যুদ্ধবিমান ইরাকে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এছাড়া ইরাকি সূত্রের দাবি, কুয়েতি ভূখণ্ড থেকেও অন্তত দুইবার কাতাইব হিজবুল্লাহর অবস্থানে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মার্চে সৌদি আরব ও কুয়েত বাগদাদকে সতর্ক করেছিল যেন তারা ইরানপন্থী মিলিশিয়াদের হামলা নিয়ন্ত্রণ করে। ইরাকি বাহিনী কয়েকটি সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করেছে এবং বসরার পশ্চিমে সৌদি জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে স্থাপন করা একটি রকেট লঞ্চার জব্দ করেছে বলে জানা যায়।
যুদ্ধ চলাকালে সীমান্তপারের হামলার ঘটনায় কুয়েত তিনবার ইরাকের প্রতিনিধিকে তলব করে, আর সৌদি আরব গত মাসে ইরাকের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে।
তবে কোনো দেশই ইরাকি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি বা মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি।
এর আগে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব ইরানের ভেতরেও গোপন হামলা চালিয়েছিল। সূত্রগুলো একে তাদের অবকাঠামোর ওপর হামলার “প্রতিশোধমূলক জবাব” হিসেবে বর্ণনা করেছিল। তবে রিয়াদ কিংবা তেহরান কেউই এসব অভিযানের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি।
বুধবার ফিনানসিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান কাতারের রাস লাফান স্থাপনায় হামলা চালানোর পর কাতারও পাল্টা হামলার কথা বিবেচনা করেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক পথ বেছে নেয়।
দশকের পর দশক ধরে গাল্ফ কোওপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি)-ভুক্ত দেশগুলো—বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও ওমান—যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের সুযোগ দিয়েছে এবং নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিনিময়ে বিপুল পরিমাণ মার্কিন অস্ত্র কিনেছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, নিজেদের উদ্যোগে পাল্টা জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের বাড়তি আগ্রহ দেখাচ্ছে যে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ক্রমবর্ধমান অসন্তুষ্ট। কারণ যুক্তরাষ্ট্র পরামর্শ ছাড়াই সংঘাত শুরু করেছে, দীর্ঘমেয়াদি কৌশল দেয়নি এবং দেশগুলোকে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার মুখে ফেলে রেখেছে।
আবুধাবির জায়েদ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক খালেদ আলমেজাইনি সম্প্রতি দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, “সবচেয়ে মৌলিক প্রশ্ন হলো পরামর্শ ও সমন্বয়। যুক্তরাষ্ট্র যদি এই অঞ্চলে সামরিকভাবে জড়িত হয়, তাহলে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো কি সত্যিই সেই ধরনের অংশীদারিত্ব ও নিরাপত্তা সহায়তা পাচ্ছে, যা তারা প্রয়োজন মনে করে?”