বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এশিয়ার ‘সেরা গবেষক’ নির্বাচিত হয়েছিলেন মুশতাক

টেলিভিশন উপস্থাপক দীপ্তি চৌধুরীর সঙ্গে বিয়ের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছেন গবেষক, শিক্ষক ও লেখক ড. মুশতাক ইবনে আয়ূব। একাডেমিক সাফল্য, আন্তর্জাতিক গবেষণা, সমাজসেবা ও লেখালেখি—সব মিলিয়ে বহুমাত্রিক পরিচয়ের অধিকারী তিনি।

ছাত্রজীবন থেকেই অসাধারণ মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন ড. মুশতাক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর—উভয় পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেই তিনি দুটি স্বর্ণপদক লাভ করেন। এর মধ্যে একটি স্নাতকোত্তরে সর্বোচ্চ নম্বর অর্জনের জন্য এবং অন্যটি শিশুদের থ্যালাসেমিয়া রোগ নিয়ে গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’।

এর আগে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং নটর ডেম কলেজ থেকে পড়াশোনা করেন তিনি। উভয় পাবলিক পরীক্ষায় ৮১ শতাংশের বেশি নম্বর অর্জন করেছিলেন। অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় তিনি মাদারীপুর জেলায় প্রথম হন।

পড়াশোনা শেষ করার অল্প সময়ের মধ্যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–এ শিক্ষকতা শুরু করেন ড. মুশতাক। পরে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোলোরেক্টাল ক্যানসার বিষয়ে গবেষণা করে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি এই উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন মর্যাদাপূর্ণ কমনওয়েলথ স্কলারশিপ–এর আওতায়। তার গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন অক্সফোর্ডের খ্যাতিমান বিজ্ঞানী স্যার ওয়াল্টার বডমার।

অক্সফোর্ডে অধ্যয়নকালে তিনি অনলাইন ভোটে হার্টফোর্ড কলেজ–এর গবেষকদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়া প্রথম বাংলাদেশি। পরবর্তীতে একই কলেজে ডিনের সহকারী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

ড. মুশতাক অক্সফোর্ডে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে তিনি সংগঠনটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের মিলনমেলায় পরিণত করেন। এছাড়া ব্রিটিশ রাজপরিবারের আমন্ত্রণে ‘কুইন্স গার্ডেন পার্টি’তে অংশ নেওয়ার সুযোগও পান তিনি।

গবেষণার পরিধি আরও বিস্তৃত করতে ইতালিতে ট্রান্সলেশনাল মেডিসিন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন। পাশাপাশি ন্যাশনাল ক্যান্সার সেন্টার সিঙ্গাপুর থেকে ক্যানসার জেনেটিক সার্ভিস বিষয়ে ফেলোশিপ সম্পন্ন করেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তার সাফল্য প্রশংসিত হয়েছে। কমনওয়েলথ স্কলারশিপ কমিশন আয়োজিত অ্যালামনাই ইউকে অ্যাওয়ার্ডের বৈশ্বিক বিভাগে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা গবেষক নির্বাচিত হন তিনি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক Howard Brain Sciences Foundation–এর নির্বাচিত ফেলোও তিনি। গবেষণায় মৌলিক অবদানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে দুটি পেটেন্ট লাভ করেছেন।

দেশের তরুণ বায়োটেকনোলজিস্টদের একত্রিত করতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন Young Biotechnologist of Bangladesh (YOUNG BB)। বর্তমানে সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ক্যানসার সচেতনতা ও রোগীদের সহায়তার লক্ষ্যে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন Cancer Care and Research Trust (CCRT)। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্যানসার প্রতিরোধ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসা সহায়তা নিয়ে কাজ করছেন তিনি।

গবেষণা ও সমাজসেবার পাশাপাশি গণমাধ্যমেও সক্রিয় ড. মুশতাক। ২০২১ সাল থেকে Channel 24–এর স্বাস্থ্যবিষয়ক অনুষ্ঠান ‘সুরক্ষায় প্রতিদিন’ উপস্থাপনা করছেন। এ পর্যন্ত অনুষ্ঠানটির ৬০০–এর বেশি পর্ব সঞ্চালনা করেছেন তিনি।

লেখক হিসেবেও রয়েছে তার স্বতন্ত্র পরিচিতি। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি বিষয়ে তার বেশ কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জিন প্রকৌশল ও মানব ক্লোনিং, জিন প্রকৌশল ও জিএম শস্য, জিন মন ভালোবাসা, ক্লোনিং কেলেঙ্কারি ও আপনার কথা এবং স্বপ্ন ও স্মৃতির অক্সফোর্ড। পাশাপাশি তার একটি কাব্যগ্রন্থও প্রকাশিত হয়েছে।

দীপ্তি চৌধুরীর সঙ্গে বিয়ের খবরের পর ড. মুশতাক ইবনে আয়ূবের এই বহুমাত্রিক সাফল্য ও কর্মজীবন নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

এশিয়ার ‘সেরা গবেষক’ নির্বাচিত হয়েছিলেন মুশতাক

প্রকাশিত সময় : ০৯:৩৬:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
টেলিভিশন উপস্থাপক দীপ্তি চৌধুরীর সঙ্গে বিয়ের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছেন গবেষক, শিক্ষক ও লেখক ড. মুশতাক ইবনে আয়ূব। একাডেমিক সাফল্য, আন্তর্জাতিক গবেষণা, সমাজসেবা ও লেখালেখি—সব মিলিয়ে বহুমাত্রিক পরিচয়ের অধিকারী তিনি।

ছাত্রজীবন থেকেই অসাধারণ মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন ড. মুশতাক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর—উভয় পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেই তিনি দুটি স্বর্ণপদক লাভ করেন। এর মধ্যে একটি স্নাতকোত্তরে সর্বোচ্চ নম্বর অর্জনের জন্য এবং অন্যটি শিশুদের থ্যালাসেমিয়া রোগ নিয়ে গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’।

এর আগে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং নটর ডেম কলেজ থেকে পড়াশোনা করেন তিনি। উভয় পাবলিক পরীক্ষায় ৮১ শতাংশের বেশি নম্বর অর্জন করেছিলেন। অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় তিনি মাদারীপুর জেলায় প্রথম হন।

পড়াশোনা শেষ করার অল্প সময়ের মধ্যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–এ শিক্ষকতা শুরু করেন ড. মুশতাক। পরে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোলোরেক্টাল ক্যানসার বিষয়ে গবেষণা করে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি এই উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন মর্যাদাপূর্ণ কমনওয়েলথ স্কলারশিপ–এর আওতায়। তার গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন অক্সফোর্ডের খ্যাতিমান বিজ্ঞানী স্যার ওয়াল্টার বডমার।

অক্সফোর্ডে অধ্যয়নকালে তিনি অনলাইন ভোটে হার্টফোর্ড কলেজ–এর গবেষকদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়া প্রথম বাংলাদেশি। পরবর্তীতে একই কলেজে ডিনের সহকারী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

ড. মুশতাক অক্সফোর্ডে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে তিনি সংগঠনটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের মিলনমেলায় পরিণত করেন। এছাড়া ব্রিটিশ রাজপরিবারের আমন্ত্রণে ‘কুইন্স গার্ডেন পার্টি’তে অংশ নেওয়ার সুযোগও পান তিনি।

গবেষণার পরিধি আরও বিস্তৃত করতে ইতালিতে ট্রান্সলেশনাল মেডিসিন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন। পাশাপাশি ন্যাশনাল ক্যান্সার সেন্টার সিঙ্গাপুর থেকে ক্যানসার জেনেটিক সার্ভিস বিষয়ে ফেলোশিপ সম্পন্ন করেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তার সাফল্য প্রশংসিত হয়েছে। কমনওয়েলথ স্কলারশিপ কমিশন আয়োজিত অ্যালামনাই ইউকে অ্যাওয়ার্ডের বৈশ্বিক বিভাগে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা গবেষক নির্বাচিত হন তিনি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক Howard Brain Sciences Foundation–এর নির্বাচিত ফেলোও তিনি। গবেষণায় মৌলিক অবদানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে দুটি পেটেন্ট লাভ করেছেন।

দেশের তরুণ বায়োটেকনোলজিস্টদের একত্রিত করতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন Young Biotechnologist of Bangladesh (YOUNG BB)। বর্তমানে সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ক্যানসার সচেতনতা ও রোগীদের সহায়তার লক্ষ্যে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন Cancer Care and Research Trust (CCRT)। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্যানসার প্রতিরোধ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসা সহায়তা নিয়ে কাজ করছেন তিনি।

গবেষণা ও সমাজসেবার পাশাপাশি গণমাধ্যমেও সক্রিয় ড. মুশতাক। ২০২১ সাল থেকে Channel 24–এর স্বাস্থ্যবিষয়ক অনুষ্ঠান ‘সুরক্ষায় প্রতিদিন’ উপস্থাপনা করছেন। এ পর্যন্ত অনুষ্ঠানটির ৬০০–এর বেশি পর্ব সঞ্চালনা করেছেন তিনি।

লেখক হিসেবেও রয়েছে তার স্বতন্ত্র পরিচিতি। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি বিষয়ে তার বেশ কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জিন প্রকৌশল ও মানব ক্লোনিং, জিন প্রকৌশল ও জিএম শস্য, জিন মন ভালোবাসা, ক্লোনিং কেলেঙ্কারি ও আপনার কথা এবং স্বপ্ন ও স্মৃতির অক্সফোর্ড। পাশাপাশি তার একটি কাব্যগ্রন্থও প্রকাশিত হয়েছে।

দীপ্তি চৌধুরীর সঙ্গে বিয়ের খবরের পর ড. মুশতাক ইবনে আয়ূবের এই বহুমাত্রিক সাফল্য ও কর্মজীবন নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে।