শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হামলার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা

ইরানের সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

শনিবার (২৭ জুন) রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত এক বার্তায় আইআরজিসি জানায়, মার্কিন আগ্রাসনের জবাব হিসেবে এ হামলা চালানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে হামলা অব্যাহত থাকলে তাদের প্রতিক্রিয়া আরো ব্যাপক হবে।

হরমুজ প্রণালির কাছে একটি বাণিজ্যিক কার্গো জাহাজে হামলার দাবি করে ইরানের সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার চালানো এ হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং উপকূলীয় রাডার স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয় বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

সেন্টকমের দাবি, বাণিজ্যিক নৌযানের ওপর ইরানের হামলা যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন। হামলার ভিডিওও প্রকাশ করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে জানান, এই অভিযান পূর্ণমাত্রার সামরিক সংঘাতে ফিরে যাওয়ার ইঙ্গিত নয়।

অন্যদিকে, আইআরজিসি দাবি করেছে, মার্কিন হামলার জবাবে তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন মার্কিন সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছে।

গত সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, “সহিংসতার জবাব সহিংসতায়ই দেওয়া হবে।”

তিনি জানান, সমঝোতা বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলে ইরান আলোচনার পথ বেছে নিতে পারত।

এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ এভার লাভলিতে ড্রোন হামলাকে ১৭ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ‘বোকামিপূর্ণ লঙ্ঘন’ বলে আখ্যা দেন। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি দাবি করেন, ইরান চারটি আত্মঘাতী ড্রোন দিয়ে হামলা চালায়, যার একটি জাহাজে আঘাত হানে। বাকি তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়। হামলায় জাহাজটির কিছু ক্ষতি হলেও সেটি যাত্রা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়।

যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, অজ্ঞাত একটি বস্তুর আঘাতে জাহাজটির ডান পাশের অংশ এবং ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা পরিবেশগত ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে। ওই সমঝোতার মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু এবং হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরুদ্ধারের কথা বলা হয়েছিল। তবে প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে ফি আদায়সহ কয়েকটি বিষয় নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

হামলার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা

প্রকাশিত সময় : ১২:০৯:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

ইরানের সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

শনিবার (২৭ জুন) রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত এক বার্তায় আইআরজিসি জানায়, মার্কিন আগ্রাসনের জবাব হিসেবে এ হামলা চালানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে হামলা অব্যাহত থাকলে তাদের প্রতিক্রিয়া আরো ব্যাপক হবে।

হরমুজ প্রণালির কাছে একটি বাণিজ্যিক কার্গো জাহাজে হামলার দাবি করে ইরানের সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার চালানো এ হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং উপকূলীয় রাডার স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয় বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

সেন্টকমের দাবি, বাণিজ্যিক নৌযানের ওপর ইরানের হামলা যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন। হামলার ভিডিওও প্রকাশ করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে জানান, এই অভিযান পূর্ণমাত্রার সামরিক সংঘাতে ফিরে যাওয়ার ইঙ্গিত নয়।

অন্যদিকে, আইআরজিসি দাবি করেছে, মার্কিন হামলার জবাবে তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন মার্কিন সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছে।

গত সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, “সহিংসতার জবাব সহিংসতায়ই দেওয়া হবে।”

তিনি জানান, সমঝোতা বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলে ইরান আলোচনার পথ বেছে নিতে পারত।

এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ এভার লাভলিতে ড্রোন হামলাকে ১৭ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ‘বোকামিপূর্ণ লঙ্ঘন’ বলে আখ্যা দেন। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি দাবি করেন, ইরান চারটি আত্মঘাতী ড্রোন দিয়ে হামলা চালায়, যার একটি জাহাজে আঘাত হানে। বাকি তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়। হামলায় জাহাজটির কিছু ক্ষতি হলেও সেটি যাত্রা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়।

যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, অজ্ঞাত একটি বস্তুর আঘাতে জাহাজটির ডান পাশের অংশ এবং ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা পরিবেশগত ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে। ওই সমঝোতার মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু এবং হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরুদ্ধারের কথা বলা হয়েছিল। তবে প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে ফি আদায়সহ কয়েকটি বিষয় নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।