বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অবমুক্ত তহবিল দিয়ে মার্কিন কৃষিপণ্য কেনার দাবি নাকচ করলেন ইরানের স্পিকার

অবমুক্ত করা ইরানি সম্পদ ব্যবহার করে মার্কিন কৃষিপণ্য কেনা হবে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও দেশটির আলোচক দলের প্রধান মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র মিথ্যা দাবি করছে যে, আমাদের অবমুক্ত সম্পদ তাদের কৃষিপণ্য কেনার জন্য ব্যবহার করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “তোমরা যে বীজ বপন করেছ, আমরা এখন শুধু তারই ফসল কাটছি—দশকের পর দশক ধরে জমে থাকা অবিশ্বাসের ফসল। এটি স্বাভাবিক, প্রচুর এবং সম্পূর্ণ নিজেদের উৎপাদিত।”

গালিবাফ ওয়াশিংটনের বাণিজ্য ও রাজনৈতিক অবস্থানেরও সমালোচনা করেন। তাঁর ভাষায়, “যুক্তরাষ্ট্র শুধু জিএমও সয়াবিন, ভঙ্গ প্রতিশ্রুতি এবং ফাঁকা কথাবার্তাই রপ্তানি করে।”

এর আগে বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তেহরানের জন্য প্রাথমিক আর্থিক সহায়তার অংশ হিসেবে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের মার্কিন পণ্য সরবরাহ করা হবে।

ট্রাম্প বলেন, ইরানকে সরাসরি কোনো নগদ অর্থ দেওয়া হবে না। বরং নিয়ন্ত্রিত ইরানি তহবিল ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকদের কাছ থেকে ভুট্টা, গমসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য কেনা হবে।

তিনি বলেন, “ইরানে খাদ্যের তীব্র প্রয়োজন রয়েছে এবং আমরা তাদের জন্য একচেটিয়াভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকেই খাদ্যপণ্য ক্রয় করব।”

একই দিনে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সিএনবিসিকে জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান চুক্তির আওতায় উপসাগরীয় অঞ্চলে জব্দ থাকা ইরানি তহবিল অবমুক্ত করার প্রক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্র তদারকি করবে।

বেসেন্ট বলেন, “ইরান যে অর্থ পাবে, তা প্রথমেই ইরানের জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করা হবে। এটি ইরানের নিজস্ব জব্দকৃত তহবিল।”

তিনি জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে কাতারে থাকা তহবিল ছাড় করা হতে পারে এবং অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের কর্মকর্তারা দোহায় অবস্থান করবেন।

বেসেন্টের মতে, এই অর্থের “বড় একটি অংশ” মার্কিন খাদ্যপণ্য ও ওষুধ কেনার কাজে ব্যয় হবে। তাঁর ভাষায়, ট্রেজারি বিভাগের তত্ত্বাবধানে এই অর্থ কার্যত আবারও মার্কিন পণ্য কেনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেই ফিরে আসবে।

সম্প্রতি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা বাস্তবায়ন নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই এসব মন্তব্য এসেছে। চুক্তিটিতে নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ এবং ইরানের জব্দকৃত সম্পদ অবমুক্ত করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া এই সমঝোতা গত ১৮ জুন কার্যকর হয়। চুক্তিতে ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সূত্র: প্রেস টিভি

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

জলঢাকায় প্রশাসনের উদ্যোগে সাইবার নিরাপত্তা ও অপপ্রচার বিরোধী সভা অনুষ্ঠিত

অবমুক্ত তহবিল দিয়ে মার্কিন কৃষিপণ্য কেনার দাবি নাকচ করলেন ইরানের স্পিকার

প্রকাশিত সময় : ১০:১৮:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
অবমুক্ত করা ইরানি সম্পদ ব্যবহার করে মার্কিন কৃষিপণ্য কেনা হবে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও দেশটির আলোচক দলের প্রধান মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র মিথ্যা দাবি করছে যে, আমাদের অবমুক্ত সম্পদ তাদের কৃষিপণ্য কেনার জন্য ব্যবহার করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “তোমরা যে বীজ বপন করেছ, আমরা এখন শুধু তারই ফসল কাটছি—দশকের পর দশক ধরে জমে থাকা অবিশ্বাসের ফসল। এটি স্বাভাবিক, প্রচুর এবং সম্পূর্ণ নিজেদের উৎপাদিত।”

গালিবাফ ওয়াশিংটনের বাণিজ্য ও রাজনৈতিক অবস্থানেরও সমালোচনা করেন। তাঁর ভাষায়, “যুক্তরাষ্ট্র শুধু জিএমও সয়াবিন, ভঙ্গ প্রতিশ্রুতি এবং ফাঁকা কথাবার্তাই রপ্তানি করে।”

এর আগে বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তেহরানের জন্য প্রাথমিক আর্থিক সহায়তার অংশ হিসেবে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের মার্কিন পণ্য সরবরাহ করা হবে।

ট্রাম্প বলেন, ইরানকে সরাসরি কোনো নগদ অর্থ দেওয়া হবে না। বরং নিয়ন্ত্রিত ইরানি তহবিল ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকদের কাছ থেকে ভুট্টা, গমসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য কেনা হবে।

তিনি বলেন, “ইরানে খাদ্যের তীব্র প্রয়োজন রয়েছে এবং আমরা তাদের জন্য একচেটিয়াভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকেই খাদ্যপণ্য ক্রয় করব।”

একই দিনে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সিএনবিসিকে জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান চুক্তির আওতায় উপসাগরীয় অঞ্চলে জব্দ থাকা ইরানি তহবিল অবমুক্ত করার প্রক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্র তদারকি করবে।

বেসেন্ট বলেন, “ইরান যে অর্থ পাবে, তা প্রথমেই ইরানের জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করা হবে। এটি ইরানের নিজস্ব জব্দকৃত তহবিল।”

তিনি জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে কাতারে থাকা তহবিল ছাড় করা হতে পারে এবং অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের কর্মকর্তারা দোহায় অবস্থান করবেন।

বেসেন্টের মতে, এই অর্থের “বড় একটি অংশ” মার্কিন খাদ্যপণ্য ও ওষুধ কেনার কাজে ব্যয় হবে। তাঁর ভাষায়, ট্রেজারি বিভাগের তত্ত্বাবধানে এই অর্থ কার্যত আবারও মার্কিন পণ্য কেনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেই ফিরে আসবে।

সম্প্রতি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা বাস্তবায়ন নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই এসব মন্তব্য এসেছে। চুক্তিটিতে নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ এবং ইরানের জব্দকৃত সম্পদ অবমুক্ত করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া এই সমঝোতা গত ১৮ জুন কার্যকর হয়। চুক্তিতে ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সূত্র: প্রেস টিভি