বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এইচএসসি পরীক্ষা দিতে পারেননি ১০ শিক্ষার্থী, নেপথ্যে কী

বগুড়ার মহাস্থান মাহী সাওয়ার ডিগ্রি কলেজের ১০ এইচএসসি পরীক্ষার্থী কলেজের এক কম্পিউটার অপারেটরের প্রতারণায় পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। অপারেটরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি টাকা দাবি করেছিলেন ওই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে। এ কারণে তারা প্রবেশপত্র ও নিবন্ধন কার্ড পায়নি, পরীক্ষায়ও অংশ নিতে পারেনি।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা কলেজের সামনে অবস্থান নিয়ে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান।

সরেজমিনে কলেজে গিয়ে দেখা যায়, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সম্রাট হোসেন ও মো. হাসর ওরফে বাধনসহ কয়েকজন অভিভাবকের সঙ্গে কলেজের সামনে অবস্থান করছেন। অন্যান্য শিক্ষার্থীর সঙ্গে এবার তাদেরও এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও প্রবেশপত্র না পাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রায় দুই মাস আগে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে ফরম পূরণের আশ্বাস দেন কলেজের খণ্ডকালীন কম্পিউটার অপারেটর সাব্বির হোসেন শাওন। মানবিক বিভাগের ১০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে তিনি চার হাজার থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা করে নেন। তবে পুরো বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষকে না জানাতে শিক্ষার্থীদের বারবার সতর্ক করেছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।

ভুক্তভোগীরা জানান, গত ২৪ জুন অন্য শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র ও নিবন্ধন কার্ড বিতরণ করা হলেও তাদের জানানো হয়, বিলম্বে ফরম পূরণ করায় কাগজপত্র পরে দেওয়া হবে। বুধবার পর্যন্ত অপেক্ষা করেও তারা কোনো প্রবেশপত্র পাননি। এরপর থেকেই অভিযুক্ত কর্মচারীর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে এবং তিনি কলেজেও আসছেন না।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা বলেন, একজন কর্মচারীর প্রতারণার কারণে তাদের এক বছরের শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বুধবার প্রবেশপত্র না পেয়ে তারা প্রথমবারের মতো কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কাছে বিষয়টি জানান।

শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এস এম তাজুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীরা যে কোনো কর্মচারীর হাতে টাকা দিয়েছেন, সে বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ আগে অবগত ছিল না। বুধবার বিষয়টি জানার পর তদন্ত শুরু করা হয়েছে। কলেজের সব ধরনের আর্থিক লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে হয় এবং কোনো কর্মচারীর ব্যক্তিগতভাবে টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বছর মহাস্থান মাহী সওয়ার ডিগ্রি কলেজ থেকে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা—এই তিন বিভাগ মিলিয়ে প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

আনুশকার রেকর্ড ভাঙলেন সামান্থা

এইচএসসি পরীক্ষা দিতে পারেননি ১০ শিক্ষার্থী, নেপথ্যে কী

প্রকাশিত সময় : ০৬:০৭:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
বগুড়ার মহাস্থান মাহী সাওয়ার ডিগ্রি কলেজের ১০ এইচএসসি পরীক্ষার্থী কলেজের এক কম্পিউটার অপারেটরের প্রতারণায় পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। অপারেটরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি টাকা দাবি করেছিলেন ওই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে। এ কারণে তারা প্রবেশপত্র ও নিবন্ধন কার্ড পায়নি, পরীক্ষায়ও অংশ নিতে পারেনি।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা কলেজের সামনে অবস্থান নিয়ে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান।

সরেজমিনে কলেজে গিয়ে দেখা যায়, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সম্রাট হোসেন ও মো. হাসর ওরফে বাধনসহ কয়েকজন অভিভাবকের সঙ্গে কলেজের সামনে অবস্থান করছেন। অন্যান্য শিক্ষার্থীর সঙ্গে এবার তাদেরও এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও প্রবেশপত্র না পাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রায় দুই মাস আগে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে ফরম পূরণের আশ্বাস দেন কলেজের খণ্ডকালীন কম্পিউটার অপারেটর সাব্বির হোসেন শাওন। মানবিক বিভাগের ১০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে তিনি চার হাজার থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা করে নেন। তবে পুরো বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষকে না জানাতে শিক্ষার্থীদের বারবার সতর্ক করেছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।

ভুক্তভোগীরা জানান, গত ২৪ জুন অন্য শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র ও নিবন্ধন কার্ড বিতরণ করা হলেও তাদের জানানো হয়, বিলম্বে ফরম পূরণ করায় কাগজপত্র পরে দেওয়া হবে। বুধবার পর্যন্ত অপেক্ষা করেও তারা কোনো প্রবেশপত্র পাননি। এরপর থেকেই অভিযুক্ত কর্মচারীর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে এবং তিনি কলেজেও আসছেন না।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা বলেন, একজন কর্মচারীর প্রতারণার কারণে তাদের এক বছরের শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বুধবার প্রবেশপত্র না পেয়ে তারা প্রথমবারের মতো কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কাছে বিষয়টি জানান।

শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এস এম তাজুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীরা যে কোনো কর্মচারীর হাতে টাকা দিয়েছেন, সে বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ আগে অবগত ছিল না। বুধবার বিষয়টি জানার পর তদন্ত শুরু করা হয়েছে। কলেজের সব ধরনের আর্থিক লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে হয় এবং কোনো কর্মচারীর ব্যক্তিগতভাবে টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বছর মহাস্থান মাহী সওয়ার ডিগ্রি কলেজ থেকে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা—এই তিন বিভাগ মিলিয়ে প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।