চলমান বিশ্বকাপের মাঝেই ফুটবল অঙ্গনে নেমে এসেছে আরেকটি শোকের ছায়া। দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবলার জেডেন অ্যাডামসের মৃত্যুর পর এবার মারা গেছেন নেদারল্যান্ডসের অভিজ্ঞ রেফারি রব ডিপেরিঙ্ক। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে নেদারল্যান্ডস ফুটবল ফেডারেশন। তবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
এক বিবৃতিতে ফেডারেশন জানায়, ‘গভীর শোক ও বিস্ময়ের সঙ্গে আমরা রব ডিপেরিঙ্কের মৃত্যুসংবাদ পেয়েছি।’
২০১১-১২ মৌসুম থেকে পেশাদার রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন ডিপেরিঙ্ক। ২০১৭ সালের শেষ দিকে নেদারল্যান্ডসের শীর্ষ লিগে প্রথম ম্যাচ পরিচালনা করেন তিনি। ক্যারিয়ারে প্রধান রেফারি হিসেবে মোট ২৮৪টি পেশাদার ম্যাচ পরিচালনা করেছেন।
মাঠের রেফারিংয়ের পাশাপাশি ভিডিও সহকারী রেফারি হিসেবেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ছিল তার উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি। ২০২৪ সালের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ, একই বছরের অলিম্পিক ফুটবল প্রতিযোগিতা এবং ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাব প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
২০২৪ সালের ইউরোপা লিগের ফাইনালে ইতালির আতালান্তা ও জার্মানির বায়ার লেভারকুসেনের ম্যাচে তিনি ভিডিও সহকারী রেফারির সহকারী ছিলেন। একই বছরের ডিসেম্বরে কাতারে অনুষ্ঠিত আন্তমহাদেশীয় কাপেও ভিডিও সহকারী রেফারির দায়িত্ব পালন করেন।
ফেডারেশন জানিয়েছে, ডিপেরিঙ্কের মৃত্যুতে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন দক্ষ রেফারিকে হারাল ফুটবল বিশ্ব। একই সঙ্গে হারালেন একজন প্রিয় সহকর্মীকেও।
বিবৃতিতে তার পরিবার, বন্ধু ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে এই কঠিন সময়ে তাদের শক্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
১৫ বছরের বেশি সময় ধরে রেফারিং করেছেন ডিপেরিঙ্ক। এর মধ্যে প্রায় ৩০০টি ম্যাচে প্রধান রেফারির দায়িত্ব পালন করেন, যার ৮৪টি ছিল নেদারল্যান্ডসের শীর্ষ লিগে।
তাকে চলমান বিশ্বকাপের রেফারিদের তালিকায় রাখার কথা ছিল। কিন্তু মে মাসে ইংল্যান্ডের ক্রিস্টাল প্যালেস ও ইতালির ফিওরেন্তিনার মধ্যকার একটি ম্যাচের পর এক কিশোরীর ওপর যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠায় বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা তাকে বিশ্বকাপের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়।
যদিও যুক্তরাজ্যের মহানগর পুলিশ পরে জানায়, অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ না পাওয়ায় মামলার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। ফলে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ গঠন না করেই তদন্ত শেষ করা হয়। তবুও বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালনের সুযোগ হারান ডিপেরিঙ্ক।
সে সময় তিনি বলেছিলেন, ‘ভিত্তিহীন অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত। শুরু থেকেই পুলিশের তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করেছি। একই সঙ্গে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা, ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং নেদারল্যান্ডস ফুটবল ফেডারেশনকে সব তথ্য দিয়েছি। ফেডারেশনের সমর্থনের জন্য আমি কৃতজ্ঞ। তবে বিশ্বকাপে আমাকে না রাখার সিদ্ধান্তে আমি স্বাভাবিকভাবেই হতাশ।’
মৃত্যুর খবরটি এসেছে একেবারেই অপ্রত্যাশিতভাবে। কারণ, এর ঠিক আগের দিনই তিনি একটি প্রীতি ম্যাচে রেফারির দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 























