বিশ্বকাপের দুই সেমিফাইনালেই মুখোমুখি হচ্ছে ফুটবল বিশ্বের শক্তিশালী দলগুলো। তবে টিকিটের দামে দেখা গেছে বড় পার্থক্য। আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ম্যাচের টিকিটের দাম ফ্রান্স ও স্পেনের সেমিফাইনালের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
বর্তমান বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা ফ্রান্স মঙ্গলবার ডালাসে তৃতীয় স্থানে থাকা স্পেনের মুখোমুখি হবে। ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেন দীর্ঘ সময় বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকলেও এপ্রিলে তাদের ছাড়িয়ে যায় ২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স।
সোমবার দুপুর পর্যন্ত ফ্রান্স-স্পেন সেমিফাইনালের একটি টিকিটের গড় মূল্য ছিল ১ হাজার ৩২৫ মার্কিন ডলার। গত তিন দিনে এটির দাম প্রায় ২৬ শতাংশ কমেছে।
অন্যদিকে, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা বুধবার আটলান্টায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল খেলবে। বিশ্বকাপজুড়ে আর্জেন্টিনার ম্যাচ ঘিরে দর্শকদের ব্যাপক আগ্রহের কারণে এই ম্যাচের টিকিটের দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
আটলান্টার স্থানীয় ফুটবল ক্লাবের বড় একটি আর্জেন্টাইন সমর্থকগোষ্ঠী রয়েছে। এছাড়া আর্জেন্টিনার সাবেক জাতীয় দলের কোচ জেরার্দো ‘তাতা’ মার্তিনোও একসময় ওই ক্লাবের প্রধান কোচ ছিলেন। এসব কারণেও ম্যাচটি ঘিরে আগ্রহ আরও বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সোমবার পর্যন্ত আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালের একটি টিকিটের গড় মূল্য ছিল ২ হাজার ৮৪১ মার্কিন ডলার, যা গত তিন দিনে প্রায় ৩৪ শতাংশ বেড়েছে। শনিবার টিকিটের দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ৯৬৬ ডলারে পৌঁছেছিল। পরে কিছুটা কমে আবার বাড়তে শুরু করে।
এই ম্যাচের টিকিটের দাম তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের তুলনাতেও অনেক বেশি। শনিবার মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের একটি টিকিটের গড় মূল্য ১ হাজার ৫৪৩ ডলার।
অন্যদিকে, রোববার নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠেয় ফাইনালের টিকিটের গড় মূল্য রয়েছে ৬ হাজার ৭৬০ ডলার। যদিও গত ৭২ ঘণ্টায় এর দাম প্রায় ৬ শতাংশ কমেছে। গত বছরের অক্টোবরে ফাইনালের একটি টিকিটের দাম সর্বোচ্চ ১৩ হাজার ৬৫০ ডলারে উঠেছিল।
ফিফার সর্বশেষ বিক্রয় তালিকায় ফাইনালের দ্বিতীয় শ্রেণির প্রায় ১ হাজার ২০০টি টিকিটের মূল্য ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৩৮০ ডলার। একসময় সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে বলে দেখানো হলেও পরে স্টেডিয়ামের ওপরের সারির পাঁচটি অংশে মোট ১ হাজার ১৭৮টি আসন বিক্রির জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
বিশ্বকাপের টিকিটের উচ্চমূল্য নিয়ে শুরু থেকেই ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। অতিরিক্ত টিকিটমূল্যের অভিযোগ এনে একটি সমর্থক সংগঠন মামলাও করেছে।
এপ্রিল মাসে পুনর্বিক্রয় বাজারে ফাইনালের চারটি টিকিটের মূল্য ২০ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল। এ নিয়ে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো রসিকতা করলেও পরে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী টিকিট বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে পুনর্বিক্রির সুযোগ থাকায় সংস্থাটি সেই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকিটের উচ্চমূল্যের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় কারণ হলো এবারের বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে ৭৮টিই যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সাংহাইভিত্তিক একটি ব্যবসায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্রীড়া অর্থনীতি বিষয়ক অধ্যাপক সাইমন চ্যাডউইকের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি পরিণত ক্রীড়াবাজার, যেখানে দর্শকেরা খেলাধুলার জন্য তুলনামূলক বেশি অর্থ ব্যয় করতে অভ্যস্ত। বিশেষ করে প্রিমিয়াম ও করপোরেট শ্রেণির টিকিটের চাহিদা সেখানে অনেক বেশি।
তার মতে, বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রে বহু বছর ধরে প্রচলিত চাহিদাভিত্তিক টিকিটমূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ব্যবহার করছে। এই ব্যবস্থায় টিকিটের মূল্য নির্দিষ্ট থাকে না; বরং চাহিদা, সরবরাহ এবং সময়ের ওপর ভিত্তি করে তা মুহূর্তে মুহূর্তে পরিবর্তিত হয়।

স্পোর্টস ডেস্ক/ ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম 























