মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আশানুরূপ ফল করতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুখবর

এসএসসি-এইচএসসির খাতা পুনঃনিরীক্ষণে বড় পরিবর্তন আনার কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, এখন থেকে শুধু নম্বর গণনা নয়, শিক্ষার্থীরা উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নেরও সুযোগ পাবেন। অর্থাৎ, কোনো উত্তরের যথাযথ নম্বর দেওয়া হয়েছে কি না, তাও পুনরায় যাচাই করা হবে।

সোমবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী।

পরীক্ষায় ভালো করার প্রস্তুতি থাকলেও অনেক সময় শিক্ষার্থীরা আশানুরূপ ফল করতে পারে না উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বোর্ডের ১৯৯৮ সালের আইন অনুযায়ী খাতা পরিদর্শনের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। বর্তমানে আমরা এটি পরিবর্তন করেছি। যেসব শিক্ষার্থী পুনঃপরীক্ষণের জন্য আবেদন করবেন, তাদের খাতা সম্পূর্ণভাবে পুনঃপরীক্ষা করা হবে। কোথাও কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে, সেগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘অনেক সময় খাতা মূল্যায়নে ভুল হয়ে যায়। আমাদের বোর্ডের ১৯৮৮ সালের আইন অনুযায়ী খাতা পরিদর্শন বা পুনঃপরীক্ষণের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। বর্তমানে আমরা ১৯৮৮ সালের পাবলিক পরীক্ষা অ্যাক্ট সংশোধন করেছি।’

শিক্ষামন্ত্রী জানান, যেসব শিক্ষার্থী উত্তরপত্র পুনঃপরীক্ষণের জন্য আবেদন করবেন, তাদের পুরো খাতা পুনরায় পরীক্ষা করা হবে। মূল্যায়নে কোথাও কোনো ভুলত্রুটি পাওয়া গেলে তা সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুনঃনিরীক্ষণের সময় খাতা আবার মূল্যায়ন করা হবে কি না; এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এক্স্যাক্টলি। আবার রিভিউ করা হবে একটি কমিটির সামনে।’

তিনি বলেন, কোনো শিক্ষকের মূল্যায়নে ভুল হয়ে থাকলে কিংবা কোনো উত্তরের জন্য শিক্ষার্থী যে নম্বর পাওয়ার যোগ্য, তা দেওয়া না হলে বিষয়টি রিভিউ কমিটি যাচাই করবে। কমিটির সামনে উত্তরপত্র পুনরায় পরীক্ষা করা হবে এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে তাঁর প্রাপ্য নম্বর দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানু এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, আগামী ১১ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করা যাবে।

আবেদন করতে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে হবে এবং ড্রপডাউন মেনু থেকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড নির্বাচন করতে হবে। এরপর মোবাইল নম্বর দিয়ে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ হলে ওই নম্বরে এসএমএস পাঠানো হবে।

পরবর্তী ধাপে শিক্ষার্থীর বিষয়ভিত্তিক ফলাফল দেখা যাবে। এক বা একাধিক বিষয়ের ফল পুনঃনিরীক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয় নির্বাচন করে ‘ফি প্রদান করুন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে।

প্রতিটি পত্রের জন্য ১৫০ টাকা হারে ফি দিতে হবে। দ্বিপত্রবিশিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে উভয় পত্রের জন্য আবেদন করতে হবে। বিকাশ, নগদ ও সোনালী সেবার মাধ্যমে ফি পরিশোধ করা যাবে। ফি পরিশোধের পর আবেদন পোর্টালে ফিরে ‘জমা দিন’ বাটনে ক্লিক করে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।

একবার আবেদন জমা দেওয়ার পর আরও কোনো বিষয় যুক্ত করতে চাইলে একই প্রক্রিয়ায় তা করা যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে নতুন করে মোবাইল নম্বর দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। ফি পরিশোধের আগে আবেদন পরিবর্তন বা পরিমার্জনের প্রয়োজন হলে ‘মুছে ফেলুন’ বাটনে ক্লিক করে নির্বাচিত বিষয় প্রত্যাহার করে নতুন বিষয় নির্বাচন করা যাবে

তবে একবার ফি জমা দেওয়ার পর আবেদন করা বিষয়গুলো আর বাতিল করা যাবে না। কোনো অবস্থাতেই জমা দেওয়া ফি ফেরত দেওয়া হবে না। এ ছাড়া ম্যানুয়ালি কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আশানুরূপ ফল করতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুখবর

প্রকাশিত সময় : ০৪:৩১:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
এসএসসি-এইচএসসির খাতা পুনঃনিরীক্ষণে বড় পরিবর্তন আনার কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, এখন থেকে শুধু নম্বর গণনা নয়, শিক্ষার্থীরা উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নেরও সুযোগ পাবেন। অর্থাৎ, কোনো উত্তরের যথাযথ নম্বর দেওয়া হয়েছে কি না, তাও পুনরায় যাচাই করা হবে।

সোমবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী।

পরীক্ষায় ভালো করার প্রস্তুতি থাকলেও অনেক সময় শিক্ষার্থীরা আশানুরূপ ফল করতে পারে না উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বোর্ডের ১৯৯৮ সালের আইন অনুযায়ী খাতা পরিদর্শনের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। বর্তমানে আমরা এটি পরিবর্তন করেছি। যেসব শিক্ষার্থী পুনঃপরীক্ষণের জন্য আবেদন করবেন, তাদের খাতা সম্পূর্ণভাবে পুনঃপরীক্ষা করা হবে। কোথাও কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে, সেগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘অনেক সময় খাতা মূল্যায়নে ভুল হয়ে যায়। আমাদের বোর্ডের ১৯৮৮ সালের আইন অনুযায়ী খাতা পরিদর্শন বা পুনঃপরীক্ষণের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। বর্তমানে আমরা ১৯৮৮ সালের পাবলিক পরীক্ষা অ্যাক্ট সংশোধন করেছি।’

শিক্ষামন্ত্রী জানান, যেসব শিক্ষার্থী উত্তরপত্র পুনঃপরীক্ষণের জন্য আবেদন করবেন, তাদের পুরো খাতা পুনরায় পরীক্ষা করা হবে। মূল্যায়নে কোথাও কোনো ভুলত্রুটি পাওয়া গেলে তা সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুনঃনিরীক্ষণের সময় খাতা আবার মূল্যায়ন করা হবে কি না; এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এক্স্যাক্টলি। আবার রিভিউ করা হবে একটি কমিটির সামনে।’

তিনি বলেন, কোনো শিক্ষকের মূল্যায়নে ভুল হয়ে থাকলে কিংবা কোনো উত্তরের জন্য শিক্ষার্থী যে নম্বর পাওয়ার যোগ্য, তা দেওয়া না হলে বিষয়টি রিভিউ কমিটি যাচাই করবে। কমিটির সামনে উত্তরপত্র পুনরায় পরীক্ষা করা হবে এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে তাঁর প্রাপ্য নম্বর দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানু এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, আগামী ১১ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করা যাবে।

আবেদন করতে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে হবে এবং ড্রপডাউন মেনু থেকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড নির্বাচন করতে হবে। এরপর মোবাইল নম্বর দিয়ে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ হলে ওই নম্বরে এসএমএস পাঠানো হবে।

পরবর্তী ধাপে শিক্ষার্থীর বিষয়ভিত্তিক ফলাফল দেখা যাবে। এক বা একাধিক বিষয়ের ফল পুনঃনিরীক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয় নির্বাচন করে ‘ফি প্রদান করুন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে।

প্রতিটি পত্রের জন্য ১৫০ টাকা হারে ফি দিতে হবে। দ্বিপত্রবিশিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে উভয় পত্রের জন্য আবেদন করতে হবে। বিকাশ, নগদ ও সোনালী সেবার মাধ্যমে ফি পরিশোধ করা যাবে। ফি পরিশোধের পর আবেদন পোর্টালে ফিরে ‘জমা দিন’ বাটনে ক্লিক করে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।

একবার আবেদন জমা দেওয়ার পর আরও কোনো বিষয় যুক্ত করতে চাইলে একই প্রক্রিয়ায় তা করা যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে নতুন করে মোবাইল নম্বর দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। ফি পরিশোধের আগে আবেদন পরিবর্তন বা পরিমার্জনের প্রয়োজন হলে ‘মুছে ফেলুন’ বাটনে ক্লিক করে নির্বাচিত বিষয় প্রত্যাহার করে নতুন বিষয় নির্বাচন করা যাবে

তবে একবার ফি জমা দেওয়ার পর আবেদন করা বিষয়গুলো আর বাতিল করা যাবে না। কোনো অবস্থাতেই জমা দেওয়া ফি ফেরত দেওয়া হবে না। এ ছাড়া ম্যানুয়ালি কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।